সারাদেশ
মোট সংবাদ: 97 টি
১০ মার্চ উদ্বোধন হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত দুস্থদের সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মানবিক ও যুগান্তকারী কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সরকারি ভাতার সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সহায়তা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা দূর করা।প্রথম ধাপের রূপরেখা ও পাইলট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে মাত্র দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালানোর কথা থাকলেও পরিধি বাড়িয়ে এখন দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, খুলনার খালিশপুর।এছাড়া পাংশা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন করে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করেছে।যেভাবে হবে উপকারভোগী নির্বাচন জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্যের পাশাপাশি সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলোকে মূলত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে:হতদরিদ্রদরিদ্রমধ্যবিত্তউচ্চবিত্তনারীর ক্ষমতায়ন ও আধুনিক লেনদেন এই প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নীতিমালা অনুযায়ী নারীদের ‘পরিবারপ্রধান’ হিসেবে কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ডধারী নারী আলাদা ভাতা না পেলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নির্ধারিত সরকারি সকল সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমেই ভোগ করতে পারবেন। অনুদানের অর্থ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে যাবে।আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় কমিটিগুলোকে উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এক বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইমাম নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্ব: মসজিদে তালা, বাইরে নামাজ আদায়
ইমাম নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্ব: মসজিদে তালা, বাইরে নামাজ আদায়নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬সিরাজগঞ্জে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনায় মুসল্লিদের বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পেচিবাড়ি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।তালাবদ্ধ মসজিদ, বাইরে নামাজপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরি শেষে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের বাইরেই নামাজ আদায় করেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজের ব্যবস্থা করে দেয়।দ্বন্দ্বের সূত্রপাতস্থানীয়দের অভিযোগ, ইমাম নিয়োগ ও নামাজ পরিচালনা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গ্রামের একাংশ ইমাম আব্দুল হাইয়ের কেরাত নিয়ে আপত্তি তুলে তাকে পরিবর্তনের দাবি জানায়। প্রস্তাব ছিল—তিনি ওয়াক্তের নামাজ পড়াবেন, আর তারাবির নামাজ অন্য ইমাম পড়াবেন।বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নতুন ইমাম নিয়ে মসজিদে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।তালা দেওয়ার অভিযোগস্থানীয় বিএনপি-সমর্থিত ব্যক্তিদের দাবি, শনিবার রাতে নতুন ইমাম দিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ানো হয়। রোববার সকালে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মসজিদে তালা দেখতে পান তারা। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষই তালা দিয়েছে।অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমামকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এ অভিযোগ ঠিক নয়। কে তালা দিয়েছে তা তিনি জানেন না।স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়াস্থানীয় জামায়াত নেতা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত গ্রামের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।পুলিশের বক্তব্যসদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুর রহমান জানান, মুসল্লিরা তালাবদ্ধ মসজিদের বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কে তালা দিয়েছে তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। পরে সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রমজানের তোহফা বিতরণ করল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ
রমজানের তোহফা বিতরণ করল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখা ও বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মাঝে রমজানের তোহফা বিতরণ করা হয়েছে।কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র প্রতিনিধিদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, রমজানের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা রমজান মাসে আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবসেবায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
পিরোজপুরে হামলা: ৫ বিএনপি নেতাকর্মী আহত
পিরোজপুরে হামলা: ৫ বিএনপি নেতাকর্মী আহতনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের বাজার এলাকার পঞ্চায়েত বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার।আহতদের পরিচয়আহতরা হলেন:নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫) — বিএনপি নেতা ও পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতিজাহিদ হোসেন (৩৮) — ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিনাহিদ হোসেন (১৮) — স্থানীয় বাসিন্দানাছির উদ্দীন ফকির (৫০)নাইম হোসেন (২৮)কীভাবে হামলার ঘটনাস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার এলাকায় হঠাৎ চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে গিয়ে পাঁচজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের মধ্যে দুজন অচেতন ছিলেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।আহতদের প্রথমে ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।হামলার অভিযোগআহত জাহিদ হোসেন ও নাসির ফকির অভিযোগ করেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকু, তার ছেলে রায়হান এবং যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮–১০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।তাদের দাবি, “আমাদের অপরাধ আমরা বিএনপি করি। পূর্বের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”অভিযুক্তের বক্তব্যঅভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই আহত হয়েছেন এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।পুলিশের বক্তব্যওসি শামীম হাওলাদার জানান, আহতরা বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইফতারে কোন মসজিদে বিরিয়ানি মিলবে জানাবে অ্যাপ
ইফতারে কোন মসজিদে বিরিয়ানি মিলবে জানাবে অ্যাপআজকের পয়গাম ডেস্কপ্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬রমজান মাস এলেই ইফতারের সময় মসজিদে বিতরণ করা বিরিয়ানি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও মজার পোস্ট। এই জনপ্রিয়তাকে ভিন্ন মাত্রা দিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন অভিনব একটি অ্যাপ, যা জানাবে কোথায় ইফতারে বিরিয়ানি দেওয়া হচ্ছে।‘বিরিয়ানি দিবে’ নামে ওয়েবসাইট ও অ্যাপটি তৈরি করেছেন আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স। তিনি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা লাইভ লোকেশন যুক্ত করতে পারেন। ফলে কেউ যদি কোনো মসজিদে ইফতারে বিরিয়ানি বিতরণের তথ্য যোগ করেন, অন্য ব্যবহারকারীরা সহজেই তা দেখে সেখানে যেতে পারবেন। এতে ইফতারে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।উদ্ভাবক জুবায়ের জানান, এটি মূলত একটি মজার প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যে কেউ ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে লোকেশন যোগ বা দেখে বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ নিতে পারবেন।অভিনব এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীলতার উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় ২ জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
বগুড়ার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় ২ জামায়াত নেতা গ্রেপ্তারনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় থানা পুলিশের অভিযানে জামায়াতে ইসলামির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পৌর জামায়াতে ইসলামির বাইতুলমাল সম্পাদক এটিএম মুজাহিদ এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামির যুব বিভাগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশন গ্রামে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ঘটনার পর আহত মাসুদ রানা মজিদ বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় ৩৫ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এটিএম মুজাহিদ ও রাকিবুল ইসলামকে আসামি করা হয়।নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, মামলার পর থেকে পুলিশ তাদের খুঁজছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে।
ঝালকাঠির নলছিটিতে ইয়াবাসহ সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
ঝালকাঠির নলছিটিতে ইয়াবাসহ সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ইয়াবাসহ নাসরুল হাওলাদার (২৮) নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া মাদরাসার সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার নাসরুল হাওলাদার নলছিটি জেড এ ভুট্টো ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং পূর্ব কামদেবপুর এলাকার বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুজন খান জানান, নাসরুল পূর্বে কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন। বর্তমানে ছাত্রদলের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে।এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
চরমোনাইতে ১৫ দিনব্যাপী তালীম-তারবিয়াত চলছে, আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত মারকায
চরমোনাইতে ১৫ দিনব্যাপী তালীম-তারবিয়াত চলছে, আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত মারকাযচরমোনাই, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের চরমোনাই মারকাযে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী তালীম ও তারবিয়াত কর্মসূচি। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ ধারাবাহিক আয়োজন সিয়াম সাধনার সময়কে আরও অর্থবহ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশে প্রতিদিন নিয়মিত বয়ান, তালীম ও তারবিয়াতের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মুমিন জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা অন্বেষণ করছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা লাভ করছেন।অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের তালীম-তারবিয়াতে ভিন্নমাত্রার জৌলুশ, শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা তাদের হৃদয়ে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি সৃষ্টি করছে।ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আশা প্রকাশ করেছেন, আধ্যাত্মিকতার এ মারকাযের খিদমত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অব্যাহত থাকবে এবং মানবকল্যাণে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
বরিশালে নামাজে ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্র নিহত
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার চরবিশোর গ্রামে নামাজে ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রকে লাথি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না।নিহত ১৩ বছর বয়সী আরিফ রাঢ়ী হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের চরবিশোর গ্রামের আনিছ রাঢ়ীর ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোশারফ বয়াতি (২৬) একই গ্রামের শাহজালাল বয়াতির ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এশার নামাজের আগে আরিফ অভিযুক্ত মোশারফের ঘরে গিয়ে তাকে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। সে সময় মোশারফ খাটে শুয়ে ছিল। উঠতে অস্বীকৃতি জানালে আরিফ তাকে চড় দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশারফ আরিফের বুকের ওপর লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।পরে মরদেহ বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্বজনরা খালের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। স্থানীয়রা সন্দেহভাজন মোশারফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের মাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্লাস্টিকের ডিম বিক্রির অভিযোগে বিক্রেতা আটক, ডিম নষ্ট
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় প্লাস্টিকের ডিম বিক্রির অভিযোগে এক বিক্রেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় তার কাছে থাকা কিছু ডিম ভেঙে ফেলা হয় এবং বাকিগুলো নদীতে ফেলে নষ্ট করা হয়। ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনাবাড়ীর আমবাগ রোডের এমএম গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ডিম বিক্রি করছিলেন। সম্প্রতি কয়েকজন ক্রেতার সন্দেহ হয়, তার বিক্রি করা ডিমগুলো স্বাভাবিক নয়। ডিমের গঠন ও ভেতরের উপাদান অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে, তার কাছে থাকা ডিমগুলো ভাঙা হয়। এরপর সেগুলো প্লাস্টিকজাতীয় বা কৃত্রিম উপাদানে তৈরি বলে অভিযোগ ওঠে।উত্তেজিত জনতা পরে আমবাগ ব্রিজের ওপর ডিমগুলো নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
জামায়াত সমর্থন না করায় সাতক্ষীরায় দুই গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগ
খুলনার সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় জামায়াতকে সমর্থন না করার অভিযোগ তুলে দুই গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, তাদের বাবা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থক হওয়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী জোসনা খাতুন (২৫) ও সুলতানা আক্তার (২০) পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গাইনবাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে। জোসনার শ্বশুরবাড়ি চণ্ডীপুর গ্রামে এবং সুলতানার শ্বশুরবাড়ি পাতাখালী গ্রামে।জোসনা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামী এনামুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনের আগে বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে তাকে মারধর করা হয় এবং বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে তাকে তালাক দিয়ে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়।ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, মেয়েকে আনতে গেলে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাও হুমকি দেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ বিষয়টিকে পারিবারিক বিরোধ বলে দাবি করেছে।অন্যদিকে সুলতানা আক্তার অভিযোগ করেন, বাবার বাড়িতে গেলে বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন—এই সন্দেহে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে এবং বাবার বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দেয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দুই পরিবারের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
রমাদানকে ঘিরে সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
পবিত্র মাহে রমাদানকে সামনে রেখে সমাজের নৈতিক পরিবেশ ও মানুষের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাওলানা ইউনুস আহমাদ। তিনি বলেন, ইবাদতের এই পবিত্র মাসে আমাদের আমল কেমন হবে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।তিনি জানান, সম্প্রতি অসহ্য কোমরের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে সেখানে রোগীদের অপেক্ষারত অবস্থায় নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথোপকথনের এক পর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন বিভিন্ন সমস্যার জন্য এক নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ধারাকে দায়ী করে মন্তব্য করেন।ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে ফার্মেসিতে গেলেও একই ধরনের আলোচনা ও পরনিন্দার প্রবণতা লক্ষ্য করেন তিনি। পরে রুপাতলী কাঁচাবাজারে গিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখেন—লেবু হালি ১০০ টাকা, কলা হালি ৬০ টাকা, শসা কেজি ১০০ টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। সেখানেও একইভাবে দোষারোপ ও আলোচনা চলতে দেখা যায়।আসর নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে গেলে নামাজের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চস্বরে আলোচনা ও গীবতচর্চার পরিবেশ লক্ষ্য করেন। নামাজ শেষে চায়ের দোকানেও একই ধরনের আলোচনা চলতে দেখেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, পবিত্র মাহে রমাদানের পবিত্রতা রক্ষা, গীবত ও অনর্থক বিতর্ক থেকে বিরত থাকা এবং ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এখন সময়ের দাবি।তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন সবাই রমাদানের মর্যাদা রক্ষা করে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতে পারে।
পাবনায় ২ গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে স্পটে ১ জন নিহত
পাবনায় তুমুল সংঘর্ষে নিহত ১পাবনা প্রতিনিধি | প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল গফুর (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গফুর ওই গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার নিহতের ছেলে আলমের সঙ্গে একই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিনের (৪৫) টাকা লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। আলমের অভিযোগ, পূর্বে নেওয়া টাকা পরিশোধ না করেই পুনরায় টাকা দাবি করায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়েন উদ্দিন লোকজন নিয়ে আলমের বাড়িতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে আব্দুল গফুর, মানিক হোসেন (৪৩), ময়েন উদ্দিন, ময়ূরী খাতুন (৩৪)সহ কয়েকজন আহত হন।আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল গফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মানিক হোসেনকে পাবনা সদর হাসপাতাল এ স্থানান্তর করা হয়েছে।ঘটনার পর পুলিশ ময়েন উদ্দিন, তার স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৪), মানিক হোসেন ও সজিব হোসেন (২৫)-কে আটক করেছে।নিহতের ছেলে আলম অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং মারধরের ঘটনাতেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, রাস্তার পাশে মিলল লাশ
বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, রাস্তার পাশে মিলল লাশবরিশাল, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে স্থানীয় বৌসেরহাট বাজারের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানায়, তারাবির নামাজ চলাকালে দেলোয়ার হোসেন সাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাদামতলা এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তার মরদেহ রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে রাখা হয়।খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর বিমানবন্দর থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।রাজনৈতিক ও জমি বিরোধের অভিযোগস্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও তার ভাই কবির চৌধুরীর বিরোধ ছিল। জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা জানান, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।পুলিশের বক্তব্যবিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঘটনার পর র্যাব, সিআইডি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ
ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগআজকের পয়গাম। প্রকাশ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ পরশুরাম উপজেলা-এ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।ভুক্তভোগী রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী নূর মোহাম্মদ সুমন নিষেধ অমান্য করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে তালাক দেন।ঘটনাটি চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামে ঘটে। রুনা আক্তারের দাবি, ভোটের আগের রাতে স্বামী তাকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বলেন এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি রাজষপুর আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দমতো ভোট দেন।তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর স্বামী তাকে মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে আদালতের মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেশীদের জানানো হয়।তবে নূর মোহাম্মদ সুমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে তালাক দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী ভোটার নন—তাই ভোট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তালাক সংক্রান্ত একটি এফিডেভিট ১৫ ফেব্রুয়ারি নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রমজান উপলক্ষে টিসিবির বিশেষ বিক্রি কার্যক্রম শুরু
রমজান উপলক্ষে টিসিবির বিশেষ বিক্রি কার্যক্রম শুরুরমজান মাসকে সামনে রেখে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বিশেষ ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে ১২ মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।এই উদ্যোগের আওতায় স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রায় ৭৫ লাখ সুবিধাভোগীর পাশাপাশি প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ট্রাক সেল থেকে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। তবে কার্ডধারীদের তুলনায় ট্রাক থেকে কেনা প্রতি প্যাকেজে নিম্নআয়ের ক্রেতাদের ৬০ টাকা বেশি দিতে হবে। ট্রাক সেলের কার্যক্রমটিসিবির তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন প্রায় ৪৫০টি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জন করে পণ্য কিনতে পারবেন।ট্রাক সেলের মূল্য তালিকাভোজ্যতেল: ১১৫ টাকা প্রতি লিটারমসুর ডাল: ৭০ টাকা প্রতি কেজিচিনি: ৮০ টাকা প্রতি কেজি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য২ লিটার সয়াবিন তেল: ২০০ টাকাট্রাক সেলে একই তেল: ২৩০ টাকাডাল ও চিনিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেশিমোট সুবিধাভোগী২০ দিনের এই কার্যক্রমে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ পণ্য কিনতে পারবেন।দুই দামের বিষয়ে সমালোচনাঅর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, একই শ্রেণির মানুষের জন্য দুই ধরনের মূল্য নির্ধারণ বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর মতে, সরকার যে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে কর্মসূচি চালু করেছে, একাধিক মূল্য নির্ধারণ করলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাক সেলের বাড়তি মূল্যের কারণে ২০ দিনে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।বাজার পরিস্থিতিনির্বাচনের পর রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজার ধীরে ধীরে সরগরম হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মতে, পণ্যমূল্য তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।তথ্য হালনাগাদ চলমানসারা বছর ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণের লক্ষ্যে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।
হরিণাফুলিয়ার প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার নান্নান মল্লিক ইন্তেকাল
হরিণাফুলিয়ার প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার নান্নান মল্লিক ইন্তেকালস্টাফ রিপোর্টার | আজকের পয়গামপ্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬গভীর শোকের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, হরিণাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক ও সুপরিচিত আলেম মাস্টার নান্নান মল্লিক সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।তিনি হযরত পীর সাহেব হরিণাফুলিয়ার অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্নেহময় তত্ত্বাবধানে হাজারো মুফতি, মুহাদ্দিস ও মাওলানা শিক্ষা গ্রহণ করে দ্বীনি খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছেন।মরহুমের জানাজার নামাজ আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাদ জোহর হরিণাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।এলাকাবাসী, ছাত্র-শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক জামায়াত নেতা
প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক জামায়াত নেতাযশোর প্রতিনিধি | আজকের পয়গাম১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪:২৫ মিনিটযশোরের শার্শা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে মধ্যরাতে আপত্তিকর অবস্থায় এক জামায়াত নেতাকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগআঁচড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সাব্বির হোসেন। তিনি বাগআঁচড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাব্বির হোসেন জামায়াত সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীনের ছেলে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই সময় সাব্বির হোসেন এক প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে কক্ষে ঢুকে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে এসে সাব্বির হোসেন ও ওই নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাউকে আটক না করে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন ও ওই নারীকে ছেড়ে দেয়। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।তবে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন দাবি করেছেন, তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন।এ বিষয়ে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী বলেন, “সাব্বির হোসেন জামায়াতের সক্রিয় নেতা নন, তিনি একজন কর্মী মাত্র। নির্বাচনের সময় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সাব্বির হোসেনকে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।