ইসলাম ও জীবন
মোট সংবাদ: 20 টি
৩ হাজার হাদিস মুখস্থ শুনিয়ে আলোচনায় ছারছীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইমরান ফারুক
৩ হাজার হাদিস মুখস্থ শুনিয়ে আলোচনায় ছারছীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইমরান ফারুকআজকের পয়গাম ডেস্ক: বরিশালবরিশালের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছারছীনা দ্বীনিয়া মাদ্রাসা-র ছাত্র মুহাম্মদ ইমরান ফারুক একসঙ্গে তিন হাজার হাদিস মুখস্থ শুনিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই অসাধারণ কৃতিত্ব ইতোমধ্যে সহপাঠী, শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।জানা গেছে, ইমরান ফারুক বর্তমানে মাদ্রাসাটির ইফতা বিভাগে অধ্যয়নরত। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অধ্যবসায় এবং গভীর মনোযোগের ফল হিসেবে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। সম্প্রতি আয়োজিত এক বিশেষ আসরে তিনি ধারাবাহিকভাবে তিন হাজার হাদিস মুখস্থ শুনিয়ে উপস্থিত আলেম-উলামাদের বিস্মিত করেন।মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, হাদিস শাস্ত্রে এমন দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘ সাধনার বিষয়। বিশেষ করে এত বিপুল সংখ্যক হাদিস নির্ভুলভাবে মুখস্থ রাখা একজন শিক্ষার্থীর অসাধারণ মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচায়ক।শিক্ষকরা জানান, ইমরান ফারুক শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র হিসেবে পরিচিত। তার এই অর্জন ভবিষ্যতে তাকে একজন দক্ষ মুহাদ্দিস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।এদিকে সহপাঠীরাও তার এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাকে অনুসরণ করে হাদিস শিক্ষায় আরও মনোযোগী হওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। ধর্মীয় মহলের মতে, ইমরান ফারুকের এই কৃতিত্ব দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার মান ও সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
শরিয়াহ বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ ও পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে: গভর্নর
শরিয়াহ বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ ও পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে: গভর্নরআজকের পয়গাম ডেস্ক:ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শরিয়াহ বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নবগঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং আলেম-উলামা, দাঈ ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।গভর্নর বলেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার অন্যতম কারণ ছিল যথাযথ তদারকির অভাব। ইসলামী ব্যাংকিং মূলত পণ্যভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। এ কারণে বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চভাবে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও আস্থাশীল করতে সুদমুক্ত ব্যবস্থা, ধোঁকামুক্ত লেনদেন এবং লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। তারা শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, শরিয়াহ সেক্রেটারিয়েট ও শরিয়াহ অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।বক্তারা বড় বিনিয়োগ অনুমোদনে শরিয়াহ বোর্ডের মতামত বাধ্যতামূলক করা, স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং তদারকির জন্য পৃথক উচ্চপর্যায়ের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন। এছাড়া শরিয়াহ সুপারভাইজারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বহিঃস্থ শরিয়াহ নিরীক্ষা চালু, কমপ্লায়েন্স রেটিং প্রবর্তন এবং পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।সভায় বক্তারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিচালনা পর্ষদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম শরিয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গবেষণা, কমপ্লায়েন্স ও অডিট বিভাগ শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতী শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্ উপস্থিত ছিলেন।
রমজানের কাজা রোজার বিধিবিধান
রমজানের কাজা রোজার বিধিবিধাননিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬মহিমান্বিত রমজান মাস শেষ হয়েছে। এ মাসে রোজা রাখা ছিল মুসলমানদের ওপর ফরজ ইবাদত। তবে নানা কারণে অনেকের রোজা ছুটে যায়—কখনো অলসতা বা গাফিলতির কারণে, আবার কখনো শরিয়তসম্মত ওজরে। ইসলামী শরিয়তে এ ধরনের ছুটে যাওয়া রোজা পূরণের জন্য রয়েছে কাজা রোজার বিধান।কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, অসুস্থতা বা সফরের কারণে কেউ রোজা রাখতে না পারলে পরে তা পূরণ করে নিতে হবে। তাই ছুটে যাওয়া রোজা পরবর্তীতে কাজা করে আদায় করলেই দায়িত্ব পালন হয়ে যায়।জেনে-বুঝে রমজানের রোজা না রাখা গুরুতর গুনাহ। তবে গ্রহণযোগ্য ওজর থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাজা আদায় করলেই হবে, কাফফারা দিতে হবে না। কাজা রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখা বাধ্যতামূলক নয়—সুবিধামতো সময়ে রাখা যায়।তবে কেউ রোজা শুরু করার পর শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ভেঙে ফেললে কাজার পাশাপাশি কাফফারাও দিতে হবে। কাফফারা হিসেবে টানা দুই মাস রোজা রাখা বা তা সম্ভব না হলে ৬০ জন অসহায় মানুষকে খাওয়াতে হবে।একাধিক রোজা ভেঙে ফেললেও একটি কাফফারাই যথেষ্ট। তবে যতগুলো রোজা নষ্ট হয়েছে, সেগুলোর কাজা আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর রোজা ফরজ নয়, তাই তাদের রোজা ভেঙে গেলে কোনো কাজা বা কাফফারা নেই। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ রোজার নিয়ত না করলে তওবা করে পরে কাজা আদায় করতে হবে।কাজা রোজা থাকা অবস্থায় শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা জায়েজ হলেও আগে ফরজ কাজা আদায় করা উত্তম। একইসঙ্গে কাজা ও নফল রোজার নিয়ত একসঙ্গে করা যাবে না।কাজা রোজার নিয়ত সুবহে সাদেকের আগে করতে হয়। বছরে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজের ১০ থেকে ১৩ তারিখ—এই পাঁচ দিন ছাড়া যেকোনো দিন কাজা রোজা রাখা যায়।বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাজা রোজা দ্রুত আদায় করে নেওয়াই উত্তম। কারণ মানুষের জীবন অনিশ্চিত—তাই ফরজ দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করাই মুমিনের কর্তব্য।নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬মহিমান্বিত রমজান মাস শেষ হয়েছে। এ মাসে রোজা রাখা ছিল মুসলমানদের ওপর ফরজ ইবাদত। তবে নানা কারণে অনেকের রোজা ছুটে যায়—কখনো অলসতা বা গাফিলতির কারণে, আবার কখনো শরিয়তসম্মত ওজরে। ইসলামী শরিয়তে এ ধরনের ছুটে যাওয়া রোজা পূরণের জন্য রয়েছে কাজা রোজার বিধান।কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, অসুস্থতা বা সফরের কারণে কেউ রোজা রাখতে না পারলে পরে তা পূরণ করে নিতে হবে। তাই ছুটে যাওয়া রোজা পরবর্তীতে কাজা করে আদায় করলেই দায়িত্ব পালন হয়ে যায়।জেনে-বুঝে রমজানের রোজা না রাখা গুরুতর গুনাহ। তবে গ্রহণযোগ্য ওজর থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাজা আদায় করলেই হবে, কাফফারা দিতে হবে না। কাজা রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখা বাধ্যতামূলক নয়—সুবিধামতো সময়ে রাখা যায়।তবে কেউ রোজা শুরু করার পর শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ভেঙে ফেললে কাজার পাশাপাশি কাফফারাও দিতে হবে। কাফফারা হিসেবে টানা দুই মাস রোজা রাখা বা তা সম্ভব না হলে ৬০ জন অসহায় মানুষকে খাওয়াতে হবে।একাধিক রোজা ভেঙে ফেললেও একটি কাফফারাই যথেষ্ট। তবে যতগুলো রোজা নষ্ট হয়েছে, সেগুলোর কাজা আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর রোজা ফরজ নয়, তাই তাদের রোজা ভেঙে গেলে কোনো কাজা বা কাফফারা নেই। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ রোজার নিয়ত না করলে তওবা করে পরে কাজা আদায় করতে হবে।কাজা রোজা থাকা অবস্থায় শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা জায়েজ হলেও আগে ফরজ কাজা আদায় করা উত্তম। একইসঙ্গে কাজা ও নফল রোজার নিয়ত একসঙ্গে করা যাবে না।কাজা রোজার নিয়ত সুবহে সাদেকের আগে করতে হয়। বছরে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজের ১০ থেকে ১৩ তারিখ—এই পাঁচ দিন ছাড়া যেকোনো দিন কাজা রোজা রাখা যায়।বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাজা রোজা দ্রুত আদায় করে নেওয়াই উত্তম। কারণ মানুষের জীবন অনিশ্চিত—তাই ফরজ দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করাই মুমিনের কর্তব্য।
চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে ২৫ নং ওয়ার্ড ছাত্র কাফেলা, তিন দিনের আধ্যাত্মিক সমাবেশ
চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে ২৫ নং ওয়ার্ড ছাত্র কাফেলা, তিন দিনের আধ্যাত্মিক সমাবেশনিজস্ব প্রতিবেদক:ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫ নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও একটি স্বতন্ত্র ছাত্র কাফেলা চরমোনাই মাহফিলে অংশগ্রহণ করবে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শুধুমাত্র ছাত্রদের নিয়ে গঠিত এই কাফেলাটি একটি আলাদা, সুন্দর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে থাকে।কাফেলার বিশেষত্ব হলো—এতে শুধুমাত্র ছাত্ররাই অংশগ্রহণ করে। ফলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। কাফেলায় ছাত্রদের জন্য উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি একসঙ্গে থাকা, খাওয়া, ঘুমানো ও ঘোরাফেরার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।আয়োজকদের মতে, এই কাফেলাটি শুধু একটি যাত্রা নয়; বরং এটি তিন দিনের একটি স্মরণীয় সমাবেশে পরিণত হয়, যেখানে পিকনিকমুখর আনন্দের পাশাপাশি থাকে আধ্যাত্মিক আবহ।আগামী ১, ২ ও ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই কাফেলায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।যোগাযোগ: ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মাদ সাব্বির হাওলাদার (মোবাইল: ০১৭৩৫-৩৫৫৪৪৪)।
বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম গণজমায়েত: চরমোনাই মাহফিল ১, ২ ও ৩ এপ্রিল
বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম গণজমায়েত: চরমোনাই মাহফিল ১, ২ ও ৩ এপ্রিলনিজস্ব প্রতিবেদক, আজকের পয়গামবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম গণজমায়েত হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল আগামী ১, ২ ও ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী এ মাহফিলে দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসলামী শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জীবন গঠনের আহ্বান নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এবারের মাহফিল। বিভিন্ন আলেম-ওলামা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।মাহফিলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিশাল মাঠ প্রস্তুত, যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিদের আগমন সহজ করতে নৌপথ ও সড়কপথে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।আয়োজকরা সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিকে সময়মতো উপস্থিত হয়ে মাহফিলের আধ্যাত্মিক পরিবেশে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বরিশাল হরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু ২৮ মার্চ থেকে
বরিশাল হরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু ২৮ মার্চ থেকেনিজস্ব প্রতিবেদক, আজকের পয়গাম:বরিশালের হরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ২০২৬–২০২৭ শিক্ষা বর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২৮ মার্চ (শনিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। উর্দুখানা থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত সকল জামাতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।মাদ্রাসার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কিতাব বিভাগ (উর্দুখানা থেকে দাওরায়ে হাদিস), মাদানী নেসাব, হিফজ বিভাগ, নাজেরা বিভাগ এবং আবাসিক নূরানী বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।ভর্তি সংক্রান্ত নির্ধারিত ফি হিসেবে ভর্তি ফি ১২০০ টাকা, ফরম ফি ১০০ টাকা এবং কল্যাণ তহবিল ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ১৩১০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ভর্তিকালে কিতাব বিভাগের জন্য মোট ১৭১০ টাকা এবং মাদানী নেসাব, হিফজ, নাজেরা ও নূরানী বিভাগের জন্য ২০১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।মাসিক চার্জ কিতাব বিভাগে ৪০০ টাকা এবং অন্যান্য বিভাগে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সকল বিভাগের জন্য প্রথম মাসে এককালীন খোরাকি ২০০০ টাকা দিতে হবে। সে অনুযায়ী প্রথম মাসে কিতাব বিভাগের মোট খরচ ৩৭১০ টাকা এবং অন্যান্য বিভাগের জন্য ৪০১০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।পরবর্তী মাসে নতুন শিক্ষার্থীদের খোরাকি ১৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দাওরায়ে হাদিস বিভাগ সম্পূর্ণ ফ্রি (খোরাকি সহ)। জালালাইন ও মিশকাত বিভাগে প্রথম মাস ২০০০ টাকা পরিশোধের পর পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ফ্রি। এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রমাণপত্র সাপেক্ষে সম্পূর্ণ ফ্রি সুবিধা রয়েছে। এছাড়া মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।ভর্তি কার্যক্রমে বিশেষ অফার হিসেবে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করালে ভর্তি ফি ফ্রি এবং ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করালে পুরো বছরের বেতন ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছে, সামান্য খরচে মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ গ্রহণে দ্রুত সন্তানদের ভর্তি করানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।যোগাযোগ: মুফতি ছাইদ আহমদ, সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিবমোবাইল: ০১৭১১-৩৫৬২৯৭, ০১৯১৬-১৯৫৯৯০ই-মেইল: horinafuliamadrasa@gmail.comঠিকানা: ২৬ নং ওয়ার্ড, বিসিসি, বরিশাল সদর, বরিশাল।
রমজানের পরিপূর্ণতার সোপান: শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত, গুরুত্ব ও বিধান
রমজানের পরিপূর্ণতার সোপান: শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত, গুরুত্ব ও বিধানআজকের পয়গাম ডেস্করমজান মাস মুসলিম জীবনের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। তবে একজন মুমিনের জীবন কেবল একটি মাসে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো বছরজুড়ে ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই প্রকৃত সাফল্য। এই ধারাবাহিকতা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন— “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছরই রোজা রাখল।” (সহিহ মুসলিম)এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এক বছরের নফল সিয়ামের সমপরিমাণ সাওয়াব দান করেন।ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ। সেই হিসেবে রমজানের ৩০ রোজার সাওয়াব ৩০০ দিনের সমান এবং শাওয়ালের ৬ রোজার সাওয়াব ৬০ দিনের সমান। এভাবে মোট ৩৬০ দিন পূর্ণ বছরের সাওয়াব অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।শাওয়ালের ছয় রোজার মাধ্যমে রমজানের ঘাটতি পূরণ হয়, ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং বান্দা আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হয়। পাশাপাশি রোজা মানুষের আত্মসংযম বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে।ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শাওয়ালের ছয় রোজা গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। এটি পালন করলে বড় সাওয়াব পাওয়া যায়, তবে না রাখলে গুনাহ নেই। ঈদুল ফিতরের পরদিন অর্থাৎ ২ শাওয়াল থেকে এই রোজা রাখা যায়। একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়; চাইলে ধারাবাহিকভাবে বা আলাদা আলাদা দিনেও রাখা যাবে।যাদের রমজানের কাজা রোজা বাকি আছে, তাদের জন্য আগে কাজা আদায় করা উত্তম। এরপর শাওয়ালের রোজা রাখা ভালো। তবে আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। নিয়ত অন্তরে করলেই যথেষ্ট, মুখে বলা জরুরি নয়। কাজা ও শাওয়ালের রোজা একসাথে রাখার বিষয়েও মতভেদ থাকায় আলাদা আলাদা রাখা অধিক সতর্কতার।আলেমরা বলেন, শাওয়ালের রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়া উচিত। ইবাদতে আন্তরিকতা বজায় রাখা, রিয়াকারি থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রধান লক্ষ্য করা জরুরি।শাওয়ালের ছয় রোজা হলো রমজানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে বাস্তব জীবনে ধরে রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি একদিকে আমলের ঘাটতি পূরণ করে, অন্যদিকে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।সংকলনমুফতি ছাইদ আহমদসিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিবজামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, হরিনাফুলিয়া, বরিশাল
সিয়ামের সমাপ্তি, ঐক্যের উল্লাস: ঈদুল ফিতরের প্রকৃত দর্শন ও তাৎপর্য
সিয়ামের সমাপ্তি, ঐক্যের উল্লাস: ঈদুল ফিতরের প্রকৃত দর্শন ও তাৎপর্যআজকের পয়গাম ডেস্করমজানের এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর জীবনে আসে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তির মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইসলামে এই উৎসব কেবল আনন্দ-উল্লাসের উপলক্ষ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মানবিক মূল্যবোধের বাস্তব প্রয়োগের এক অনন্য প্রতিফলন।ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল ফিতর কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে উদযাপিত নয়; বরং এটি এক মাসের ইবাদতের সফল সমাপ্তি এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ পুরস্কারের দিন।ঈদের মূল দর্শনঈদুল ফিতরের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বহুমাত্রিক। এর মধ্যে অন্যতম হলো—আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশআত্মসংযম ও তাকওয়ার চর্চার সাফল্য উদযাপনধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাসাদাকাতুল ফিতরের মাধ্যমে দরিদ্রদের মুখে হাসি ফোটানোঈদের নামাজে ধনী-গরিব সবাই একসাথে কাতারে দাঁড়ানো ইসলামের সাম্য ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।ভোগবাদী সংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিবিশ্বের অনেক উৎসব যেখানে ভোগ-বিলাস ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, সেখানে ইসলামের ঈদ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে আনন্দ শালীন, নিয়ন্ত্রিত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইসলামী উৎসবে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করার শিক্ষা দেওয়া হয়, যা সামাজিক ন্যায় ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঈদে করণীয় আমলঈদের দিনকে অর্থবহ করতে ইসলাম কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নির্ধারণ করেছে—সাদাকাতুল ফিতর আদায়গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও উত্তম পোশাক পরিধানঈদগাহে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়খুতবা শ্রবণপরস্পরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়সুন্নত অনুযায়ী ভিন্ন পথে যাতায়াতবর্জনীয় বিষয়ঈদের পবিত্রতা বজায় রাখতে কিছু বিষয় পরিহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন—অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাঅপচয় ও আতশবাজিবিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণইবাদত থেকে বিমুখতাসমসাময়িক প্রেক্ষাপটবিশ্বায়নের প্রভাবে ঈদের প্রকৃত চেতনা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় নতুন প্রজন্মের কাছে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবার-সমাজে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।উপসংহারঈদুল ফিতর কেবল আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার এক পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা। এর প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই ঈদের সার্থকতা অর্জিত হবে।সংকলনে:মুফতি ছাইদ আহমদসিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিবজামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, হরিনাফুলিয়া, বরিশাল ।
ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের নিয়ম ও নিয়ত
ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের নিয়ম ও নিয়তআজকের পয়গাম প্রতিবেদক:পবিত্র রমজান মাস শেষে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই দিনে সকালবেলায় জামাতের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের নামাজের নিয়ত ও নিয়ম সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।ঈদের নামাজের নিয়ত বাংলায়আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সাথে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।প্রথম রাকাতের নিয়মঈদের নামাজের প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তিন তাকবির রয়েছে।প্রথম তাকবির: হাত বেঁধে সানা পড়তে হবেদ্বিতীয় তাকবির: হাত ছেড়ে দিতে হবেতৃতীয় তাকবির: হাত ছেড়ে দিতে হবেচতুর্থ তাকবির: হাত বেঁধে নিতে হবে এবং এরপর ইমাম কিরাত পড়বেনদ্বিতীয় রাকাতের নিয়মরুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির।প্রথম তাকবির: হাত ছেড়ে দিতে হবেদ্বিতীয় তাকবির: হাত ছেড়ে দিতে হবেতৃতীয় তাকবির: হাত ছেড়ে দিতে হবেচতুর্থ তাকবির: আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতে হবেগুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাঈদের নামাজ সাধারণত খোলা মাঠ বা ঈদগাহে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। নামাজ শেষে খুতবা শোনা সুন্নত। মুসল্লিদের সময়মতো উপস্থিত হয়ে কাতারবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই নির্দেশনা ঈদের নামাজ আদায়ে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ঈদের রাত ও দিনের ফজিলত: ইবাদত, কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের অনন্য বার্তা
ঈদের রাত ও দিনের ফজিলত: ইবাদত, কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের অনন্য বার্তা স্টাফ রিপোর্টার, আজকের পয়গামরমজান মাসের এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা, কিয়াম, তিলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির পর শাওয়ালের চাঁদ উদয়ের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মাঝে বয়ে আসে ঈদের আনন্দ। এই আনন্দ কেবল পার্থিব নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা।ঈদুল ফিতর এমন একটি দিন, যেদিন মুমিন বান্দা তার ইবাদতের সফলতার আশায় মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়। দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি ইবাদত, কৃতজ্ঞতা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার এক গভীর বার্তা বহন করে।ঈদুল ফিতরের তাৎপর্যরমজান মাসে রোজার মাধ্যমে মুসলমানরা তাকওয়া অর্জন করে এবং আত্মসংযমের শিক্ষা লাভ করে। এই সাধনার পরিপূর্ণতাই হলো ঈদুল ফিতর।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেনযাতে তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ কর এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর যে তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দিয়েছেন এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করোসূরা আল বাকারা ১৮৫এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় ঈদের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করা।ঈদের ফজিলতহাদিসে বর্ণিত হয়েছেরোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে একটি ইফতারের সময় এবং অন্যটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়সহিহ বুখারি ও মুসলিমঈদুল ফিতর সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ যা একজন মুমিন রমজান শেষে অনুভব করে।ঈদের দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলঈদুল ফিতরের দিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল রয়েছেসদকাতুল ফিতর আদায় করা এবং নামাজের আগে তা প্রদান করাঈদের নামাজ আদায় করা এবং জামাতে অংশগ্রহণ করাগোসল করে পরিপাটি হওয়াখেজুর বা কিছু খেয়ে ঈদের নামাজে যাওয়াতাকবির পাঠ করাশুভেচ্ছা বিনিময় করাআত্মীয়তা রক্ষা করা এবং গরিবদের মাঝে দান সদকা করামানবতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষাঈদ কেবল আনন্দের দিন নয় এটি পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করা আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং সমাজে সাম্য ও মানবতার চেতনা জাগ্রত করার এক অনন্য উপলক্ষ।উপসংহারঈদুল ফিতর শুধু উৎসব নয় এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহান সুযোগ। রমজানে অর্জিত তাকওয়া যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকে এটাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য।সংকলনকারীমুফতি ছাইদ আহমদসিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিবহরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা
লাইলাতুল কদর: রহমত, ফজিলত ও ইবাদতের রাত
লাইলাতুল কদর: রহমত, ফজিলত ও ইবাদতের রাতপয়গাম ডেক্স প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এ মাসে মুসলিমরা ইবাদত-বন্দেগি, নেক আমল ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এই বরকতময় মাসের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যার গুরুত্ব, ফজিলত ও রহমত অপরিসীম। ইসলামী শরীয়তে এই রাতের ইবাদতকে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে বর্ণনা করা হয়েছে।কোরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্বপবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ(সূরা আল-কদর, ৯৭:১–৩)এর অর্থ হলো—“নিশ্চয়ই আমরা কোরআনকে লাইলাতুল কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”আরও বলা হয়েছে—تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ(সূরা আল-কদর, ৯৭:৪–৫)অর্থ:“সেই রাতে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরাইল আ.) অবতীর্ণ হন। রাতটি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তিময় থাকে।”হাদিসে লাইলাতুল কদরের ফজিলতরাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”(সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)আরেক হাদিসে রাসূল ﷺ বলেন—“রমজানের শেষ দশকের মধ্যেই লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।”বুজুর্গদের ইবাদতের দৃষ্টান্তইসলামের বুজুর্গ ও আলেমগণ লাইলাতুল কদরের রাতে বিশেষভাবে ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তাদের ইবাদতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—তাহাজ্জুদ ও রাত জাগা:রাতের অধিকাংশ সময় তারা তাহাজ্জুদ নামাজ, জিকির ও দোয়ায় কাটাতেন।কোরআন তেলাওয়াত:এই রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করাকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।দোয়া ও ইস্তিগফার:রাসূল ﷺ শেখানো একটি দোয়া বিশেষভাবে পড়তেন—اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيঅর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।”নফল ইবাদত ও সদকা:এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, দান-সদকা ও নেক কাজ করার চেষ্টা করতেন।লাইলাতুল কদরের রাতে করণীয়লাইলাতুল কদরের ফজিলত অর্জনের জন্য মুসলমানদের করণীয় হলো—রাত জেগে ইবাদত করাকোরআন তেলাওয়াত করাবেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করানফল নামাজ আদায় করাদান-সদকা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাউপসংহারলাইলাতুল কদর মুসলমানদের জন্য এক মহামূল্যবান সুযোগ। এই রাতের ইবাদত ও দোয়া মানুষের জীবনে রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের দরজা খুলে দেয়। তাই রমজানের শেষ দশকে এই মহিমান্বিত রাত পাওয়ার আশায় মুসলমানদের বেশি বেশি ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।সংকলনে:মুফতি ছাইদ আহমদসিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিবহরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা,
রমযানের শেষ দশকে হরিণাফুলিয়ায় ই‘তিকাফের বিশেষ আয়োজন
রমযানের শেষ দশকে হরিণাফুলিয়ায় ই‘তিকাফের বিশেষ আয়োজনস্টাফ রিপোর্টার | আজকের পয়গামবরিশালের জামিয়া এমদাদিয়া হরিণাফুলিয়া মাদ্রাসার জামে মসজিদে পবিত্র রমযান মাসের শেষ দশ দিনব্যাপী ই‘তিকাফের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। হযরত পীর সাহেব হরিণাফুলিয়া (দামাত বারাকাতুহুম)-এর সান্নিধ্যে অনুষ্ঠিত এই ই‘তিকাফে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সমাগম ঘটবে বলে জানা গেছে।মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, রমযান মাসের শেষ দশ দিন অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সময়। এ সময়েই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমযানের শেষ দশ দিন নিয়মিত ই‘তিকাফ পালন করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ সুন্নতকে অনুসরণ করতেন।এ ধারাবাহিকতায় ২০ রমযান, বাদ আসর থেকে জামিয়া এমদাদিয়া হরিণাফুলিয়া মাদ্রাসার জামে মসজিদে ১০ দিনব্যাপী ই‘তিকাফ শুরু হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা, তালিবুল ইলম ও দ্বীনদার মুসল্লিরা হযরত পীর সাহেব হরিণাফুলিয়া (দা.বা.)-এর সান্নিধ্যে ইবাদত-বন্দেগি ও তাঁর দিকনির্দেশনা গ্রহণের উদ্দেশ্যে এখানে সমবেত হবেন।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হযরতের সোহবত ও নসীহতের মাধ্যমে বহু মানুষ দ্বীনের পথে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এ মহামূল্যবান সুযোগ কাজে লাগিয়ে ই‘তিকাফে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।রমযানের শেষ দশকের বরকতময় সময়কে কাজে লাগিয়ে অধিক পরিমাণে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া ও তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের জন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান আয়োজকরা।এদিকে, ই‘তিকাফে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকা, খাওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করা হবে। তবে প্রত্যেককে নিজ নিজ বিছানা-পত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।স্থান:জামে মসজিদ, জামিয়া এমদাদিয়া হরিণাফুলিয়া মাদ্রাসা, বরিশাল।যোগাযোগ:০১৭১৮২৩৭৬৪৩০১৭৫৩৩১৬৩৬৭০১৯১৬১৯৫৯৯০
২০তম তারাবি: সূরা ইয়াসিন, সাফফাত, সাদ ও জুমার-এর বিষয়বস্তু ও শিক্ষা
পবিত্র রমজানুল মোবারকের ২০তম তারাবিতে আজ তিলাওয়াত করা হবে কুরআনের ২৩তম পারা। আজকের তারাবিতে মূলত সূরা ইয়াসিন (আয়াত ২২-৮৩), সূরা সাফফাত, সূরা সাদ এবং সূরা জুমার (আয়াত ১-৩১) পঠিত হবে। এই সূরাগুলোর চমৎকার বিষয়বস্তু ও শিক্ষা নিচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:১. সূরা ইয়াসিন (আয়াত ২২-৮৩)এই সূরার শেষাংশে হাবিব নাজ্জার নামের এক নেককার ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যিনি তাঁর অবাধ্য জাতিকে অত্যন্ত দরদ দিয়ে সত্যের পথে ডেকেছিলেন। কিন্তু জাতি তাঁর কথা শোনেনি। এখানে নবী-রাসুলদের প্রতি উপহাসকারীদের করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আল্লাহর একত্ববাদ ও অসীম কুদরতের নানা প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু সূরাটির বড় একটি অংশজুড়ে মৃত্যুপরবর্তী জীবন, কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার আলোচনা রয়েছে, তাই এর সমাপ্তিও ঘটেছে পরকালের স্মরণ করিয়ে দিয়ে।২. সূরা সাফফাতএই সূরার শুরুতে সেসব ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে, যারা সদা-সর্বদা আল্লাহর ইবাদত ও প্রশংসায় মগ্ন থাকেন। এরপর জিনদের কথা এসেছে—তারা যখন লুকিয়ে ঊর্ধ্বজগতের সংবাদ শোনার চেষ্টা করে, তখন জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাদের তাড়া করে।সূরার উল্লেখযোগ্য আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:কেয়ামতের দিন পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত-জাহান্নামের দৃশ্য।জাহান্নামিদের পারস্পরিক দোষারোপ এবং জান্নাতিদের আনন্দের কথোপকথন।হজরত নুহ, ইবরাহিম, মুসা, হারুন, ইলিয়াস, লুত এবং ইউনুস (আ.)-এর জীবনের ঘটনাবলি।পরিশেষে ঘোষণা করা হয়েছে—আল্লাহর প্রেরিত বান্দারা সবসময় সাহায্যপ্রাপ্ত হন এবং চূড়ান্ত বিজয় সত্যেরই হয়।৩. সূরা সা-দকুরআনের অলৌকিকত্ব এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতার শপথ দিয়ে এই সূরা শুরু হয়েছে। মক্কার মুশরিকদের অহংকার ও মূর্খতার চিত্র তুলে ধরে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুলকে (সা.) ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।এখানে বেশ কয়েকজন নবীর জীবনী সংক্ষেপে আলোচিত হয়েছে:হজরত দাউদ, সোলাইমান ও আইয়ুব (আ.) সহ অন্যান্য নবীদের শুকরগুজার জীবনের কথা।হজরত আদম (আ.) ও অভিশপ্ত ইবলিসের অহংকারের ঘটনা।সূরার শেষে নবীজিকে (সা.) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে যে, তিনি তাঁর দাওয়াতের জন্য কোনো প্রতিদান চান না; এই কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মহা উপদেশ।৪. সূরা জুমার (আয়াত ১-৩১)এই সূরার মূল ভিত্তি হলো 'তাওহিদ' বা একত্ববাদ। ইবাদত হতে হবে শতভাগ লোকদেখানো বা রিয়ামুক্ত—কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।সূরার কয়েকটি বিশেষ দিক:মায়ের গর্ভে তিনটি অন্ধকারের স্তরে মানুষের সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ও কুদরতি নিদর্শন।মুশরিক ও একত্ববাদীর চমৎকার একটি তুলনা দেওয়া হয়েছে। মুশরিক হলো এমন এক দাসের মতো, যার অনেকগুলো বদমেজাজি মালিক রয়েছে এবং তারা একেকজন একেক রকম আদেশ দেয়। ফলে দাসটি থাকে চরম দিশেহারা। অন্যদিকে, একত্ববাদী মুমিন হলো এমন এক দাসের মতো, যার মালিক কেবল একজন এবং যিনি অত্যন্ত দয়ালু। একজন মুমিনের মনের এই প্রশান্তি দুনিয়ার যেকোনো রাজত্বের চেয়েও দামি।মূল লেখক: মুফতী রাশেদুর রহমান (সিনিয়র পেশ ইমাম, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ)
পবিত্র রমজানে ইতিকাফ: ফজিলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল
মাহে রমজানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় ইবাদত হলো ইতিকাফ। মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ, গুনাহ মাফ এবং বিশেষ করে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী 'শবে কদর'-এর ফজিলত অর্জনের জন্য ইতিকাফের কোনো বিকল্প নেই। ইতিকাফের মূল অর্থই হলো, দুনিয়াবি সব ব্যস্ততা ছেড়ে ক্ষমার আশায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রভুর দরবারে সঁপে দেওয়া।রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত ও ইতিকাফের গুরুত্ব: নবী করিম (সা.) তাঁর মাদানি জীবনে প্রতি বছরই নিয়মিত ইতিকাফ করেছেন। একবার জিহাদের সফরের কারণে তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি, তবে পরের বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা আদায় করে নিয়েছিলেন। হাদিস শরিফে ইতিকাফের বিশাল ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। একটি বর্ণনায় এসেছে: আরও পড়ুন: আজ ১৯ রমজান ঢাকা জেলার ইফতার-সেহরির সময়সূচি"যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ ও দুটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।" (শুআবুল ঈমান, আল মাতজার, হাদিস-৭৫০)ইতিকাফের বিশেষ উপকারিতা:শবে কদরের প্রাপ্তি: ইতিকাফের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ইতিকাফকারী নিশ্চিতভাবে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের বরকত লাভ করতে পারেন।পাপ থেকে সুরক্ষা ও সওয়াব বৃদ্ধি: ইতিকাফকারী বাইরের দুনিয়ার পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন। হাদিসের ভাষায়— "ইতিকাফকারী ব্যক্তি নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং বাইরে থাকা নেক কাজকারী মানুষদের মতো তার আমলনামায়ও সওয়াব জারি করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস-১৭৮১)ইতিকাফের জরুরি মাসায়েল (নিয়মকানুন): যেকোনো মুসল্লির জন্য ইতিকাফে বসার আগে মাসায়েলগুলো জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:১. বিধান: পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা 'সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়াহ'। অর্থাৎ, এলাকার যেকোনো একজন এই সুন্নাত আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে; কিন্তু কেউ না করলে পুরো এলাকাবাসী গুনাহগার হবেন। অন্যদিকে, নারীরা নিজ গৃহের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে ইতিকাফ করবেন। ২. মসজিদে অবস্থান: ইতিকাফকারীকে সর্বদা মসজিদের মূল সীমানার ভেতর থাকতে হবে। শরিয়ত অনুমোদিত কারণ (যেমন- প্রাকৃতিক প্রয়োজন) ছাড়া বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। ৩. মসজিদের সীমানা নির্ধারণ: নির্মাতারা যতটুকু জায়গাকে মূল মসজিদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, কেবল ততটুকুই মসজিদ। অজুখানা, বাথরুম, জানাজার স্থান, ইমাম বা খতিবের থাকার কক্ষ কিংবা মালপত্র রাখার জায়গা মূল মসজিদের অংশ নয়। ৪. সিঁড়ি ও মেহরাবের বিধান: সব মসজিদের মেহরাবই মূল মসজিদের অংশ। ইতিকাফকারী সেখানে যেতে পারবেন। তবে সিঁড়ির ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—সিঁড়ি মসজিদের ভেতর দিয়ে হলে তা মসজিদের অংশ, আর বাইরে দিয়ে হলে তা বাইরের অংশ বলে গণ্য হবে। বিনা প্রয়োজনে সেখানে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। ৫. সময়কাল: ২০শে রমজান সূর্যাস্তের আগ থেকে শুরু করে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করতে হবে।বিশেষ পরামর্শ: যারা মসজিদে ইতিকাফ করবেন, তাদের উচিত আগেই মসজিদ কমিটি বা নির্মাতাদের কাছ থেকে মূল মসজিদের সীমানা ভালোভাবে জেনে নেওয়া। কারণ, না জেনে সীমানার বাইরে পা রাখলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যেতে পারে।
রমজানে রোযা অবস্থায় রক্তদান ও গ্রহণের বিধান: দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা
রমজানে রোযা অবস্থায় রক্তদান ও গ্রহণের বিধান: দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনানিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামরমজান মাস ইবাদত-বন্দেগীর মাস। এ মাসে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিয়াম পালন করেন। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক সময় রোগীর জীবন রক্ষার্থে রক্তদান ও রক্ত গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রমজান মাসে এ ধরনের প্রয়োজন দেখা দিলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে বা গ্রহণ করলে রোযা ভঙ্গ হবে কি না।এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করেছেন বরিশাল সদর উপজেলার হরিনাফুলিয়া অবস্থিত জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব মুফতি ছাইদ আহমদ।তিনি বলেন, ফিকহ ও হাদিসের আলোকে জানা যায় যে রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোযা নষ্ট হয় না। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত আছে—عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: احْتَجَمَ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ صَائِمٌ(সহীহ বুখারী)অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্থায় শিঙ্গা (হিজামা) লাগিয়েছেন।এই হাদিস থেকে ফকীহগণ প্রমাণ করেছেন যে শরীর থেকে রক্ত বের হলেও রোযা ভঙ্গ হয় না। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে রোযা অবস্থায় রক্তদান করলে রোযা নষ্ট হবে না।তবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি রোযা অবস্থায় রক্ত দেওয়ার ফলে অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং রোযা ভেঙে ফেলতে হতে পারে, তাহলে প্রয়োজন ছাড়া তা করা মাকরুহ। এ প্রসঙ্গে ইমাম বুরহানুদ্দীন (রহ.) বলেন—إِنْ أَرَادَ الْحِجَامَةَ فِي الصَّوْمِ فَلَا بَأْسَ بِهَا إِذَا لَمْ يَخَفِ الضَّعْفَ، فَإِنْ خَافَ الضَّعْفَ كُرِهَ لَهُ(আল মুহিতুল বুরহানী ২/৫৬৩)অর্থ: রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগালে যদি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তবে কোনো সমস্যা নেই; কিন্তু দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা মাকরুহ।ফিকহবিদগণ এ বিষয়ে একটি মূলনীতিও উল্লেখ করেছেন—রোযা ভঙ্গ হয় শরীরের ভেতরে কিছু প্রবেশ করলে; শরীর থেকে কিছু বের হলে নয়। এ প্রসঙ্গে ইমাম বদরুদ্দীন আইনী (রহ.) বলেন—قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَعِكْرِمَةُ: الْفِطْرُ مِمَّا دَخَلَ وَلَيْسَ مِمَّا خَرَجَ(উমদাতুল ক্বারী ৮/১২৩)অর্থ: ইবনে আব্বাস ও ইকরিমা (রা.) বলেছেন—রোযা ভঙ্গ হয় যা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে তার কারণে; বের হওয়ার কারণে নয়।অন্যদিকে রোগীর শরীরে রক্ত প্রবেশ করানোর বিষয়টিকে অনেক আলেম ইনজেকশনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ এটি মুখ বা নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে না এবং সরাসরি পাকস্থলীতেও পৌঁছে না; বরং শিরার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। তাই অধিকাংশ ফকীহের মতে রক্ত গ্রহণ করলেও রোযা ভঙ্গ হয় না।আলোচনার উপসংহারে মুফতি ছাইদ আহমদ বলেন, রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা নষ্ট হয় না; তবে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজন ছাড়া তা করা মাকরুহ। একইভাবে রক্ত গ্রহণ করলেও রোযা ভঙ্গ হয় না। তাই রোগীর জীবন রক্ষার মতো মানবিক কাজে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে রোযা কোনো বাধা নয়; বরং শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করে রক্তদান ও গ্রহণ উভয়ই করা যেতে পারে।আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক জ্ঞান ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
রমজানের শেষ দশক ও ই‘তিকাফের মহিমা: ইবাদতের নিবিড় সময়, নৈকট্যের বিশেষ সুযোগ
রমজানের শেষ দশক ও ই‘তিকাফের মহিমা: ইবাদতের নিবিড় সময়, নৈকট্যের বিশেষ সুযোগধর্ম ডেস্ক | আজকের পয়গামরমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তবে রমজানের শেষ দশ দিন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময়েই নিহিত রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর—যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই মহামূল্যবান সময়কে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো ই‘তিকাফ।ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত ই‘তিকাফ করতেন এবং তাঁর উম্মতকেও এ আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। ই‘তিকাফ মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর দিকে একান্তভাবে নিবিষ্ট করে এবং দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে দূরে রেখে ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।ই‘তিকাফ শব্দটি আরবি “আকফ” ধাতু থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ হলো—কোন কিছুর সাথে লেগে থাকা, স্থির হয়ে থাকা বা নিজেকে নিবিষ্ট করা। শরীয়তের পরিভাষায় ই‘তিকাফ বলতে বোঝায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রাখা।রমজানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিসে বর্ণনা এসেছে। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন (সহীহ বুখারী)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ই‘তিকাফ রাসূল (সা.)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।রমজানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা। হাদিসে এসেছে, “তোমরা রমজানের শেষ দশ রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।” (সহীহ বুখারী)। ই‘তিকাফকারীর জন্য পুরো সময়টিই ইবাদতে কাটে, ফলে তার লাইলাতুল কদর লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।ই‘তিকাফ মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা, গুনাহ ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে দৃঢ় করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ই‘তিকাফকারী ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং সে যেন সকল নেক কাজ সম্পাদনকারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করে (ইবনে মাজাহ)।একটি বর্ণনায় আরও এসেছে, “যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ই‘তিকাফ করে, সে যেন দুটি হজ ও দুটি উমরার সমতুল্য সওয়াব লাভ করে।” (বায়হাকী)।ইসলামের ইতিহাসে আল্লাহওয়ালা ও হক্কানী পীর-মাশায়েখগণ মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তাদের সান্নিধ্যে ই‘তিকাফ করলে ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি শেখা যায়, আত্মশুদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং দোয়া-যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সহজ হয়।ই‘তিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা, আত্মশুদ্ধি অর্জন করা, গুনাহ থেকে তাওবা করা, কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা।রমজানের শেষ দশ দিন তাই মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ই‘তিকাফ ও অধিক ইবাদতের মাধ্যমে জীবনের গুনাহ মাফের চেষ্টা করা উচিত।সংকলনে:মুফতি ছাইদ আহমদ
যাকাত ও সাদকায়ে ফিতর: ফাযায়েল, মাসায়েল ও কওমি মাদ্রাসায় প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরলেন মুফতি ছাইদ আহমদ
যাকাত ও সাদকায়ে ফিতর: ফাযায়েল, মাসায়েল ও কওমি মাদ্রাসায় প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরলেন মুফতি ছাইদ আহমদবরিশাল প্রতিনিধি:যাকাত ও সাদকায়ে ফিতর ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। এগুলোর সঠিক বিধান জানা ও যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরেছেন বরিশালের হরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব মুফতি ছাইদ আহমদ।তিনি বলেন, যাকাত ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—“وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ”“নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো।”সূরা আল-বাকারা: ৪৩তিনি আরও বলেন, যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র ও বরকতময় হয়, গুনাহ মাফের কারণ সৃষ্টি হয় এবং সমাজে দারিদ্র্য বিমোচন ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—“مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ”“সদকা দিলে সম্পদ কমে না।”সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮রেফারেন্সসহীহ বুখারী, হাদিস ১৩৯৫তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৫যাকাতের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থমুফতি ছাইদ আহমদ বলেন, যাকাতের শাব্দিক অর্থ হলো পবিত্রতা, বৃদ্ধি ও বরকত।পারিভাষিক অর্থ হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর পূর্ণ এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হলে নির্ধারিত অংশ নির্দিষ্ট হকদারের নিকট মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রদান করা।রেফারেন্সআল-হিদায়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০০ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭০যাকাত কার উপর ফরজতিনি বলেন, হানাফি মাযহাব অনুযায়ী নিম্নোক্ত শর্ত পূরণ হলে যাকাত ফরজ হয়১. মুসলিম হওয়া২. বালেগ ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া৪. ঐ সম্পদের উপর পূর্ণ এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হওয়ানিসাবের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বলেনসোনা ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম)রূপা ৫২.৫ ভরি (৬১২.৩৬ গ্রাম)অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক সম্পদ।রেফারেন্সদুররে মুখতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৮রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৬গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েলতিনি বলেনপরিশোধযোগ্য ঋণ বাদ দিয়ে নিসাব হিসাব করতে হবে।বসবাসের ঘর, ব্যবহৃত পোশাক ও প্রয়োজনীয় আসবাবে যাকাত নেই।হানাফি মতে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকারেও যাকাত ফরজ।ব্যবসায়িক পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্যে যাকাত হিসাব করতে হবে।রেফারেন্সফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৮সাদকায়ে ফিতরসাদকায়ে ফিতর সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে তার উপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়।রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন“فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ”“রাসূলুল্লাহ ﷺ সাদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাদারের পবিত্রতার জন্য।”আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯রেফারেন্সফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯২কওমি মাদ্রাসায় যাকাত প্রদানের গুরুত্বমুফতি ছাইদ আহমদ বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে অসংখ্য গরিব, মিসকিন ও এতিম শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করছে। তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও কিতাবের ব্যয় বহনে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যাকাতের হকদার শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে যাকাত প্রদান করলে দ্বীনি শিক্ষা সংরক্ষণ ও আলেম তৈরির কাজে সহায়তা করা যায় এবং এটি সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হয়।রেফারেন্সদুররে মুখতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫৩ফাতাওয়া শামি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৪যাকাতের প্রাপ্য হকদার (৮ শ্রেণী)পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন“إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ…”“নিশ্চয় যাকাত হলো ফকির, মিসকিন, আমিল, মুআল্লাফাতুল কুলুব, রিকাব, গারিমিন, ফি সাবিলিল্লাহ ও ইবনুস সাবিলের জন্য।”সূরা তাওবা: ৬০উপসংহারতিনি বলেন, যাকাত ও সাদকায়ে ফিতর মুসলিম সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সামাজিক ন্যায়ের অন্যতম মাধ্যম। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত সঠিক মাসায়েল জেনে বিশুদ্ধ নিয়তে এই ইবাদত আদায় করা।বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসার গরিব শিক্ষার্থীদের মাঝে যাকাত প্রদান করলে ইলমে দ্বীনের খেদমতে শরিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনে।সংকলনেমুফতি ছাইদ আহমদসিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিবহরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, বরিশাল।
রাজাপুরে ১৩ দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে বাদ আছর আলোচনা
রাজাপুরে ১৩ দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে বাদ আছর আলোচনাআজকের পয়গাম ডেস্ক: রাজাপুর উপজেলায় ১৩ দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে বাদ আছর এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী রহ.-এর উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইউনুছ আহমাদ (বরিশাল)। তিনি তার বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কোরআনের আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।১৩ দিনব্যাপী এ মাহফিলে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত, তাফসির আলোচনা ও নসিহতপূর্ণ বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনে আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাহফিলে উপস্থিত থেকে আলোচনা মনোযোগ সহকারে শোনেন।আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের দ্বীনি আয়োজন অব্যাহত থাকবে।