neexra

রমজানের শেষ দশক ও ই‘তিকাফের মহিমা: ইবাদতের নিবিড় সময়, নৈকট্যের বিশেষ সুযোগ

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 06 মার্চ 2026, 05:01 পূর্বাহ্ন পঠিত: 147 বার
রমজানের শেষ দশক ও ই‘তিকাফের মহিমা: ইবাদতের নিবিড় সময়, নৈকট্যের বিশেষ সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

রমজানের শেষ দশক ও ই‘তিকাফের মহিমা: ইবাদতের নিবিড় সময়, নৈকট্যের বিশেষ সুযোগ
ধর্ম ডেস্ক | আজকের পয়গাম
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তবে রমজানের শেষ দশ দিন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময়েই নিহিত রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর—যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই মহামূল্যবান সময়কে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো ই‘তিকাফ।
ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত ই‘তিকাফ করতেন এবং তাঁর উম্মতকেও এ আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। ই‘তিকাফ মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর দিকে একান্তভাবে নিবিষ্ট করে এবং দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে দূরে রেখে ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
ই‘তিকাফ শব্দটি আরবি “আকফ” ধাতু থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ হলো—কোন কিছুর সাথে লেগে থাকা, স্থির হয়ে থাকা বা নিজেকে নিবিষ্ট করা। শরীয়তের পরিভাষায় ই‘তিকাফ বলতে বোঝায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রাখা।
রমজানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিসে বর্ণনা এসেছে। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন (সহীহ বুখারী)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ই‘তিকাফ রাসূল (সা.)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
রমজানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা। হাদিসে এসেছে, “তোমরা রমজানের শেষ দশ রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।” (সহীহ বুখারী)। ই‘তিকাফকারীর জন্য পুরো সময়টিই ইবাদতে কাটে, ফলে তার লাইলাতুল কদর লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
ই‘তিকাফ মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা, গুনাহ ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে দৃঢ় করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ই‘তিকাফকারী ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং সে যেন সকল নেক কাজ সম্পাদনকারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করে (ইবনে মাজাহ)।
একটি বর্ণনায় আরও এসেছে, “যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ই‘তিকাফ করে, সে যেন দুটি হজ ও দুটি উমরার সমতুল্য সওয়াব লাভ করে।” (বায়হাকী)।
ইসলামের ইতিহাসে আল্লাহওয়ালা ও হক্কানী পীর-মাশায়েখগণ মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তাদের সান্নিধ্যে ই‘তিকাফ করলে ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি শেখা যায়, আত্মশুদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং দোয়া-যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সহজ হয়।
ই‘তিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা, আত্মশুদ্ধি অর্জন করা, গুনাহ থেকে তাওবা করা, কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা।
রমজানের শেষ দশ দিন তাই মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ই‘তিকাফ ও অধিক ইবাদতের মাধ্যমে জীবনের গুনাহ মাফের চেষ্টা করা উচিত।
সংকলনে:
মুফতি ছাইদ আহমদ

#বাংলাদেশ #সংবাদ #Islam
neexra