neexra

প্রযুক্তি

মহাকাশে আধিপত্যের নতুন লড়াই: চাঁদে স্থায়ী আবাস গড়ার ঘোষণা নাসার
28 মার্চ, 2026

মহাকাশে আধিপত্যের নতুন লড়াই: চাঁদে স্থায়ী আবাস গড়ার ঘোষণা নাসার

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু স্বল্প সময়ের ভ্রমণ নয়, বরং চাঁদের মাটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী ঘাঁটি নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। ‘ইগনিশন’ নামক এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে নিয়মিত চন্দ্রাভিযানের পাশাপাশি মহাকাশের আরও গভীরে পৌঁছানোর জন্য চাঁদকে একটি ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।ট্রাম্পের মহাকাশ নীতি ও নাসার নতুন লক্ষ্যএই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় মহাকাশ নীতির প্রতিফলন। নাসার বর্তমান প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাঁদে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান তারা। তাঁর মতে, মহাকাশ জয়ের এই প্রতিযোগিতায় এখন সাফল্যের হিসাব হবে বছরের বদলে মাসের ভিত্তিতে।২০২৭: আর্টেমিস-৩ ও নিয়মিত মিশননাসার এই নতুন কৌশলে অভিযানের ধরনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বড় কোনো একক মিশনের বদলে এখন থেকে গুরুত্ব দেওয়া হবে ঘন ঘন অভিযান এবং ‘রি-ইউজেবল’ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ল্যান্ডিং প্রযুক্তির ওপর।২০২৭ সাল: আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন নভোচারীরা।ছয় মাসের বিরতি: প্রথম সফল অবতরণের পর প্রতি ছয় মাস অন্তর নিয়মিতভাবে মানব মিশন পাঠানো হবে।লক্ষ্যস্থল: মূলত চাঁদের দক্ষিণ মেরু এবং কৌশলগত এলাকাগুলোতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।বাস্তবায়নের তিন ধাপনাসার সহযোগী প্রশাসক অমিত ক্ষত্রিয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল প্রকল্প তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হবে:১. প্রথম ধাপ: কঠোর প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি রোবোটিক ও কার্গো মিশনের সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হবে। ২. দ্বিতীয় ধাপ: চাঁদের বুকে প্রাথমিক অবকাঠামো ও আধা-বাসযোগ্য ঘর নির্মাণ করা হবে, যাতে নভোচারীদের যাতায়াত ও অবস্থান সহজ হয়। ৩. চূড়ান্ত ধাপ: আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় একে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই ঘাঁটিটিই ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশ অভিযানের ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে কাজ করবে।বেসরকারি খাত ও বিশ্ব রাজনীতিখরচ কমাতে এবং দ্রুত লক্ষ্য অর্জনে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স বা ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে নাসা। এই তৎপরতার পেছনে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাবও স্পষ্ট। চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা করছে। ফলে মহাকাশে নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেকটাই মরিয়া।যদি নাসার এই ‘ইগনিশন’ পরিকল্পনা সফল হয়, তবে মানব সভ্যতা পৃথিবীর বাইরে তার প্রথম স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পাবে।

3 weeks,3 days আগে পড়ুন
শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও আসক্তি তৈরির দায়ে মেটা ও গুগলকে বড় অংকের জরিমানা
28 মার্চ, 2026

শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও আসক্তি তৈরির দায়ে মেটা ও গুগলকে বড় অংকের জরিমানা

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি তৈরির অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা (Meta) এবং গুগলকে (Google) ৬০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি বোর্ড। বড় কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জুরি বোর্ডের দেওয়া এটিই প্রথম রায়, যা ভবিষ্যতে সিলিকন ভ্যালির জন্য বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।রায়ের বিস্তারিত ও জরিমানার ভাগদীর্ঘ ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর গত বুধবার (২৫ মার্চ) এই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মেটা ও গুগল তাদের অ্যাপের ডিজাইন বা কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি দেখিয়েছে।মেটা: ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।গুলগ: ইউটিউবের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানকে ১৮ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।আইনি বিশ্লেষকদের মতে, শতকোটি ডলার আয় করা এই দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য জরিমানার অংকটি নগণ্য হলেও, এই রায়ের প্রতীকী ও নজিরবিহীন গুরুত্ব অপরিসীম।মামলার প্রেক্ষাপট ও বাদীর বক্তব্যকেলি নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণী এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র ৬ বছর বয়সে ইউটিউব এবং ৯ বছর বয়সে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার শুরু করে তিনি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। এই আসক্তি তার মানসিক স্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। মামলার রায় অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেলিকে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কাঠগড়ায় জাকারবার্গএই মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে হয়েছে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিকে। শুনানিতে কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর ‘বিউটি ফিল্টার’ কেন নিষিদ্ধ করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে জাকারবার্গ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যুক্তি দিলেও জুরি বোর্ড তা গ্রহণ করেনি।প্রযুক্তি খাতের জন্য কড়া বার্তাসাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের আপলোড করা কনটেন্টের জন্য দায়ী থাকে না। তবে এই মামলায় আইনজীবীরা কনটেন্টের বদলে প্ল্যাটফর্মের ‘ডিজাইন বা কাঠামো’—কে দায়ী করায় আদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছে।বাদীর প্রধান আইনজীবী বলেন:"আজকের এই রায় পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি কড়া বার্তা। এখন থেকে আর দায় এড়িয়ে চলা যাবে না। জবাবদিহির সময় চলে এসেছে।"পরবর্তী পদক্ষেপমেটা এবং গুগল উভয় প্রতিষ্ঠানই এই রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে একই অভিযোগে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের বিরুদ্ধেও মামলা ছিল, তবে তারা বিচার শুরুর আগেই বাদীর সাথে আদালতের বাইরে সমঝোতা করে নিয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে মেটা ও গুগল ভবিষ্যতে তাদের অ্যাপের নকশায় বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে, যা তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

3 weeks,3 days আগে পড়ুন
৫জি নেটওয়ার্কেও অর্থ চুরির ফাঁদ: ‘টু-জি’ সিগন্যাল দেখলেই সাবধান!
23 ফেব., 2026

৫জি নেটওয়ার্কেও অর্থ চুরির ফাঁদ: ‘টু-জি’ সিগন্যাল দেখলেই সাবধান!

প্রযুক্তি ডেস্ক | আপনার ফোনে পুরোদমে ফাইভ-জি বা ফোর-জি নেটওয়ার্ক কাজ করছে, অথচ হঠাৎ করেই সিগন্যাল ড্রপ করে ‘২জি’ (2G) হয়ে গেল? সাথে সাথে ফোনে এল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া সংক্রান্ত কোনো জরুরি বার্তা? সাবধান! আপনি হয়তো কোনো ভয়ংকর ডিজিটাল ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ নামক এক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র।প্রতারণার নতুন কৌশল: ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ কী?প্রতারকরা এখন আর শুধু দূর থেকে কল দেয় না, বরং তারা আপনার খুব কাছেই অবস্থান করে। তারা ব্যবহার করছে ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ বা ‘আইএমএসআই ক্যাচার’ নামক একটি পোর্টেবল যন্ত্র। এটি নিজেকে একটি আসল মোবাইল টাওয়ার হিসেবে জাহির করে।কিভাবে কাজ করে এটি?নেটওয়ার্ক ছিনতাই: যন্ত্রটি চালু করলে ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা সব ফোনকে এটি শক্তিশালী সিগন্যাল দিয়ে নিজের নেটওয়ার্কে টেনে নেয়।টু-জি ডাউনগ্রেড: আমাদের বর্তমান ফোর-জি বা ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সুরক্ষিত। কিন্তু ২জি নেটওয়ার্ক অনেক পুরনো এবং এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। তাই প্রতারক যন্ত্রটি জোরপূর্বক আপনার ফোনকে ২জি মোডে নামিয়ে আনে।অফিসিয়াল আইডি ব্যবহার: ২জি নেটওয়ার্কে মেসেজ প্রেরকের নাম (Sender ID) পরিবর্তন করা খুব সহজ। ফলে প্রতারকরা ব্যাংক বা সরকারি দপ্তরের নাম (যেমন: SBI, HDFC, Govt Alert) ব্যবহার করে বার্তা পাঠাতে পারে, যা দেখে সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় থাকে না যে এটি ভুয়া।যেসব বার্তায় লুকিয়ে আছে বিপদএই ভুয়া টাওয়ার থেকে সাধারণত আতঙ্ক বা অতিরিক্ত লোভ তৈরি করার মতো বার্তা পাঠানো হয়:KYC আপডেট: "আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আজই বন্ধ হয়ে যাবে, কেওয়াইসি আপডেট করতে লিংকে ক্লিক করুন।"পরিষেবা বিচ্ছিন্ন: "বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় আজ রাতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে।"কুরিয়ার বা রিওয়ার্ড: "আপনার নামে একটি পার্সেল আটকে আছে" অথবা "হাজার টাকার গিফট কার্ড পয়েন্ট রিডিম করুন।"ভয়ানক পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ঘটনা২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লি, নয়ডা এবং সাইবারাবাদে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বড় বড় প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।২০২৫ সালে কেবল ভারতেই সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০ হাজার কোটি রুপির বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে।টেলিকম কেন্দ্রিক সাইবার অপরাধ গত এক বছরে প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।নিরাপদ থাকার অব্যর্থ উপায়প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই ডিজিটাল লুটতরাজ থেকে বাঁচতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:টু-জি সেটিংস বন্ধ করা: ফোনের সেটিংস থেকে 'Allow 2G' অপশনটি বন্ধ করে রাখুন (অ্যান্ড্রয়েড ১২ বা তার পরবর্তী ভার্সনে এটি সম্ভব)।অপ্রত্যাশিত লিংকে ক্লিক না করা: এসএমএসে আসা কোনো শর্ট-লিংকে ক্লিক করে তথ্য প্রদান করবেন না।অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার: ব্যাংকিং বা বিল সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের জন্য সরাসরি ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ: যদি জনাকীর্ণ এলাকায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ নেটওয়ার্ক ফাইভ-জি থেকে ২জি-তে নেমে যায়, তবে সেই মুহূর্তে আসা কোনো এসএমএস বিশ্বাস করবেন না।

1 month,4 weeks আগে পড়ুন
neexra