শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও আসক্তি তৈরির দায়ে মেটা ও গুগলকে বড় অংকের জরিমানা
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি তৈরির অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা (Meta) এবং গুগলকে (Google) ৬০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি বোর্ড। বড় কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জুরি বোর্ডের দেওয়া এটিই প্রথম রায়, যা ভবিষ্যতে সিলিকন ভ্যালির জন্য বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রায়ের বিস্তারিত ও জরিমানার ভাগ
দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর গত বুধবার (২৫ মার্চ) এই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মেটা ও গুগল তাদের অ্যাপের ডিজাইন বা কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি দেখিয়েছে।
মেটা: ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
গুলগ: ইউটিউবের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানকে ১৮ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, শতকোটি ডলার আয় করা এই দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য জরিমানার অংকটি নগণ্য হলেও, এই রায়ের প্রতীকী ও নজিরবিহীন গুরুত্ব অপরিসীম।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বাদীর বক্তব্য
কেলি নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণী এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র ৬ বছর বয়সে ইউটিউব এবং ৯ বছর বয়সে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার শুরু করে তিনি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। এই আসক্তি তার মানসিক স্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। মামলার রায় অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেলিকে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাঠগড়ায় জাকারবার্গ
এই মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে হয়েছে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিকে। শুনানিতে কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর ‘বিউটি ফিল্টার’ কেন নিষিদ্ধ করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে জাকারবার্গ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যুক্তি দিলেও জুরি বোর্ড তা গ্রহণ করেনি।
প্রযুক্তি খাতের জন্য কড়া বার্তা
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের আপলোড করা কনটেন্টের জন্য দায়ী থাকে না। তবে এই মামলায় আইনজীবীরা কনটেন্টের বদলে প্ল্যাটফর্মের ‘ডিজাইন বা কাঠামো’—কে দায়ী করায় আদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছে।
বাদীর প্রধান আইনজীবী বলেন:
"আজকের এই রায় পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি কড়া বার্তা। এখন থেকে আর দায় এড়িয়ে চলা যাবে না। জবাবদিহির সময় চলে এসেছে।"
পরবর্তী পদক্ষেপ
মেটা এবং গুগল উভয় প্রতিষ্ঠানই এই রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে একই অভিযোগে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের বিরুদ্ধেও মামলা ছিল, তবে তারা বিচার শুরুর আগেই বাদীর সাথে আদালতের বাইরে সমঝোতা করে নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে মেটা ও গুগল ভবিষ্যতে তাদের অ্যাপের নকশায় বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে, যা তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।