খেলা
মোট সংবাদ: 4 টি
এটাই বাস্তব’: ১১৫ নম্বর মৌরিতানিয়ার কাছে ঘামছুটানো জয়ে হতাশ স্কালোনি
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৫তম স্থানে থাকা মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, আর্জেন্টিনা তাদের সেরা ছন্দ থেকে অনেক দূরে ছিল।স্কালোনির ‘রিয়েলিটি চেক’ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাআগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এই ম্যাচে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন স্কালোনি। প্রথমার্ধে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে রেখেছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসিকে নামানো হয় একদম সামনের সারিতে (অ্যাটাকিং থার্ড)।দলের সাদামাটা পারফরম্যান্স নিয়ে স্কালোনি বলেন:"আমরা আজ ভালো খেলিনি এবং এটাই বাস্তব। নতুন কিছু করার চেষ্টা করলে অনেক সময় পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে ভুলগুলো এখনই (প্রীতি ম্যাচে) হওয়া ভালো যাতে আমরা দ্রুত সেগুলো শুধরে নিতে পারি।"দিবুর স্বস্তি ও ‘ফিনালিসিমা’ প্রসঙ্গআর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বরাবরের মতোই অকপট। ৯৪ মিনিটে গোল হজম করায় তিনি যেমন বিরক্ত, তেমনি দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ। মজার ছলে তিনি টেনে আনেন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বাতিল হওয়া স্পেনের বিপক্ষে ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচের কথা।মার্তিনেজের মতে, "ভাগ্যিস ম্যাচটা বাতিল হয়েছে! আজ যেভাবে খেলেছি, তাতে ফিনালিসিমা হলে নির্ঘাত হারতে হতো। আমাদের খেলায় আজ কোনো গতি বা ছন্দ ছিল না।"পরিসংখ্যানে মৌরিতানিয়ার দাপটবল দখলে আর্জেন্টিনা (৬৪%) এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধার বেশি ছিল মৌরিতানিয়ার। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছিল আফ্রিকার এই দেশটি।মোট শট: মৌরিতানিয়া ১১টি, আর্জেন্টিনা ৭টি।দ্বিতীয়ার্ধের চিত্র: মৌরিতানিয়া ৮টি শট নিলেও আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে মাত্র ১টি।গোলকিপিং: এমিলিয়ানো মার্তিনেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।বিশ্বকাপের আগে এমন পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হলেও, স্কালোনি একে স্রেফ একটি ‘ভুল থেকে শেখার পাঠ’ হিসেবেই দেখছেন।
ধোনি-রায়নাহীন এক নতুন চেন্নাই: আইপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার এমন অভিজ্ঞতার সামনে সিএসকে
আইপিএলের ইতিহাসে এক অনন্য এবং কিছুটা আবেগপ্রবণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংস। আসন্ন আসরের প্রথম দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে 'থালা' মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। আর এর মাধ্যমেই তৈরি হচ্ছে এক নতুন ইতিহাস—সুরেশ রায়না ও এমএস ধোনি, এই দুই কিংবদন্তিকে ছাড়াই প্রথমবারের মতো আইপিএলে মাঠে নামবে হলুদ বাহিনী।কেন থাকছেন না ধোনি?চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, ধোনি বর্তমানে পায়ের পেশির চোটে ভুগছেন। বর্তমানে তাঁর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে এবং সুস্থ হয়ে উঠতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ৪৫ বছর বয়সী এই তারকার জন্য চোটের সাথে লড়াইটা নতুন নয়; গত কয়েক মৌসুম ধরেই হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন তিনি। বয়স এবং চোটের ধকল কাটিয়ে তিনি কবে নাগাদ ফিরবেন, তা নিয়ে সমর্থকদের মনে উৎকণ্ঠা রয়েই যাচ্ছে।উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে কে?ধোনির অনুপস্থিতিতে উইকেটের পেছনের দায়িত্ব সামলানো নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে সবচেয়ে জোরালো নাম হিসেবে উঠে আসছে সঞ্জু স্যামসনের নাম। রবীন্দ্র জাদেজা ও স্যাম কারেনের মতো তারকাদের রাজস্থান রয়্যালসে পাঠিয়ে ট্রেড উইন্ডোর মাধ্যমে স্যামসনকে দলে ভিড়িয়েছে চেন্নাই। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে ওপেনিংয়ের পাশাপাশি কিপিংয়ের দায়িত্বেও তাকেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।বিকল্প হিসেবে চেন্নাইয়ের হাতে রয়েছে আরও দুটি অস্ত্র:কার্তিক শর্মা: ঘরোয়া ক্রিকেটে হার্ড-হিটিং ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই তরুণকে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপির বিশাল মূল্যে দলে নিয়েছে সিএসকে।উর্বিল প্যাটেল: গত আসরে ২১২.৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা উর্বিলও কিপিং গ্লাভস হাতে দলের হাল ধরতে পারেন।প্রথম চার ম্যাচের কঠিন পরীক্ষাধোনিকে ছাড়াই সিএসকে-কে আগামী দুই সপ্তাহে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মোকাবিলা করতে হবে। ৩০ মার্চ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর ঘরের মাঠে পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নামবে তারা। এ ছাড়া রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে একটি অ্যাওয়ে ম্যাচও রয়েছে চেন্নাইয়ের সূচিতে।এক যুগের অবসান?২০২১ সালে সুরেশ রায়না আইপিএল থেকে বিদায় নেওয়ার পর ধোনিই ছিলেন চেন্নাইয়ের প্রাণভোমরা। ২০২৫ সালেও ১৪টি ম্যাচ খেলে ১৩৫.১৭ স্ট্রাইক রেটে ১৯৬ রান করে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর এই আসরে ধোনির সম্ভাব্য অনুপস্থিতি এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চেন্নাই কি পারবে তাদের এই দুই মহাতারকাকে ছাড়াই দাপট বজায় রাখতে? উত্তর মিলবে মাঠেই।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? আজ মেগা সেমিতে লড়বে ভারত ও ইংল্যান্ড
মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের দুই পরাশক্তি—ভারত ও ইংল্যান্ড। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারতের সামনে আজ সুযোগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার। অন্যদিকে, র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল ইংল্যান্ডও মরিয়া ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী হতে। মেগা এই লড়াইয়ের আগে চলুন একনজরে দেখে নিই দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম ও শক্তি-দুর্বলতা।ছন্দে ফিরেছে টিম ইন্ডিয়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ফেভারিটের তকমা গায়ে লাগানো ভারত গ্রুপ পর্বে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাত্র ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল তারা। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের অসাধারণ ৮৪ রানের ইনিংসে ভর করে সেই যাত্রায় রক্ষা পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর সুপার এইটে এসে নিজেদের আসল রূপ দেখিয়েছে তারা। জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সাথেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত।ভয়ংকর রূপে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বে থাকা ইংলিশদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছিল কিছুটা নড়বড়েভাবে। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার এবং নেপালের বিপক্ষে একেবারে শেষ বলে পাওয়া কষ্টার্জিত জয়ের পর অনেকেই তাদের নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে সুপার এইটে পা রেখেই স্বরূপে ফেরে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে বিধ্বস্ত করে নিজেদের শক্তিমত্তার জোরালো জানান দিয়েছে তারা।আজকের ম্যাচে তাই কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এখন দেখার বিষয়, ওয়াংখেড়ের মহারণ জিতে শিরোপার মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় কারা!
‘প্রতিশোধ’ নিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলল পাকিস্তান
‘প্রতিশোধ’ নিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলল পাকিস্তানক্রীড়া ডেস্ক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে আগের হারের প্রতিশোধ নিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩২ রানের জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে শীর্ষে উঠে গেছে তারা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ভারতকেও পেছনে ফেলেছে বাবর আজমের দল।প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ বলে ৭৩ রান করেন সাহিবজাদা ফারহান। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন সব বাউন্ডারি ও ছক্কার মার। শেষ দিকে অধিনায়ক বাবর আজম ও শাদাব খান গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র শুরুটা ভালো করলেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ। পাওয়ারপ্লে শেষে ফিল্ড ছড়িয়ে দিলে রান তুলতে হিমশিম খায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।শাদাব খান ও উসমান তারিক ছিলেন বল হাতে উজ্জ্বল। দুজন মিলে ৮ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে শিকার করেন ৪টি উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে টানা জয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে দলটি।