neexra

পবিত্র রমজানে ইতিকাফ: ফজিলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল

Nasir Uddin, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 09 মার্চ 2026, 04:40 অপরাহ্ন পঠিত: 69 বার
পবিত্র রমজানে ইতিকাফ: ফজিলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল
ছবি: সংগৃহীত

মাহে রমজানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় ইবাদত হলো ইতিকাফ। মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ, গুনাহ মাফ এবং বিশেষ করে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী 'শবে কদর'-এর ফজিলত অর্জনের জন্য ইতিকাফের কোনো বিকল্প নেই। ইতিকাফের মূল অর্থই হলো, দুনিয়াবি সব ব্যস্ততা ছেড়ে ক্ষমার আশায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রভুর দরবারে সঁপে দেওয়া।

রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত ও ইতিকাফের গুরুত্ব: নবী করিম (সা.) তাঁর মাদানি জীবনে প্রতি বছরই নিয়মিত ইতিকাফ করেছেন। একবার জিহাদের সফরের কারণে তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি, তবে পরের বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা আদায় করে নিয়েছিলেন। হাদিস শরিফে ইতিকাফের বিশাল ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। একটি বর্ণনায় এসেছে:

 

আরও পড়ুন: আজ ১৯ রমজান ঢাকা জেলার ইফতার-সেহরির সময়সূচি

"যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ ও দুটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।" (শুআবুল ঈমান, আল মাতজার, হাদিস-৭৫০)

ইতিকাফের বিশেষ উপকারিতা:

শবে কদরের প্রাপ্তি: ইতিকাফের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ইতিকাফকারী নিশ্চিতভাবে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের বরকত লাভ করতে পারেন।

পাপ থেকে সুরক্ষা ও সওয়াব বৃদ্ধি: ইতিকাফকারী বাইরের দুনিয়ার পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন। হাদিসের ভাষায়— "ইতিকাফকারী ব্যক্তি নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং বাইরে থাকা নেক কাজকারী মানুষদের মতো তার আমলনামায়ও সওয়াব জারি করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস-১৭৮১)

ইতিকাফের জরুরি মাসায়েল (নিয়মকানুন): যেকোনো মুসল্লির জন্য ইতিকাফে বসার আগে মাসায়েলগুলো জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:

১. বিধান: পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা 'সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়াহ'। অর্থাৎ, এলাকার যেকোনো একজন এই সুন্নাত আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে; কিন্তু কেউ না করলে পুরো এলাকাবাসী গুনাহগার হবেন। অন্যদিকে, নারীরা নিজ গৃহের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে ইতিকাফ করবেন। ২. মসজিদে অবস্থান: ইতিকাফকারীকে সর্বদা মসজিদের মূল সীমানার ভেতর থাকতে হবে। শরিয়ত অনুমোদিত কারণ (যেমন- প্রাকৃতিক প্রয়োজন) ছাড়া বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। ৩. মসজিদের সীমানা নির্ধারণ: নির্মাতারা যতটুকু জায়গাকে মূল মসজিদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, কেবল ততটুকুই মসজিদ। অজুখানা, বাথরুম, জানাজার স্থান, ইমাম বা খতিবের থাকার কক্ষ কিংবা মালপত্র রাখার জায়গা মূল মসজিদের অংশ নয়। ৪. সিঁড়ি ও মেহরাবের বিধান: সব মসজিদের মেহরাবই মূল মসজিদের অংশ। ইতিকাফকারী সেখানে যেতে পারবেন। তবে সিঁড়ির ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—সিঁড়ি মসজিদের ভেতর দিয়ে হলে তা মসজিদের অংশ, আর বাইরে দিয়ে হলে তা বাইরের অংশ বলে গণ্য হবে। বিনা প্রয়োজনে সেখানে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। ৫. সময়কাল: ২০শে রমজান সূর্যাস্তের আগ থেকে শুরু করে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করতে হবে।

বিশেষ পরামর্শ: যারা মসজিদে ইতিকাফ করবেন, তাদের উচিত আগেই মসজিদ কমিটি বা নির্মাতাদের কাছ থেকে মূল মসজিদের সীমানা ভালোভাবে জেনে নেওয়া। কারণ, না জেনে সীমানার বাইরে পা রাখলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যেতে পারে।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #Islam
neexra