২০তম তারাবি: সূরা ইয়াসিন, সাফফাত, সাদ ও জুমার-এর বিষয়বস্তু ও শিক্ষা
পবিত্র রমজানুল মোবারকের ২০তম তারাবিতে আজ তিলাওয়াত করা হবে কুরআনের ২৩তম পারা। আজকের তারাবিতে মূলত সূরা ইয়াসিন (আয়াত ২২-৮৩), সূরা সাফফাত, সূরা সাদ এবং সূরা জুমার (আয়াত ১-৩১) পঠিত হবে। এই সূরাগুলোর চমৎকার বিষয়বস্তু ও শিক্ষা নিচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:
১. সূরা ইয়াসিন (আয়াত ২২-৮৩)
এই সূরার শেষাংশে হাবিব নাজ্জার নামের এক নেককার ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যিনি তাঁর অবাধ্য জাতিকে অত্যন্ত দরদ দিয়ে সত্যের পথে ডেকেছিলেন। কিন্তু জাতি তাঁর কথা শোনেনি। এখানে নবী-রাসুলদের প্রতি উপহাসকারীদের করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আল্লাহর একত্ববাদ ও অসীম কুদরতের নানা প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু সূরাটির বড় একটি অংশজুড়ে মৃত্যুপরবর্তী জীবন, কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার আলোচনা রয়েছে, তাই এর সমাপ্তিও ঘটেছে পরকালের স্মরণ করিয়ে দিয়ে।
২. সূরা সাফফাত
এই সূরার শুরুতে সেসব ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে, যারা সদা-সর্বদা আল্লাহর ইবাদত ও প্রশংসায় মগ্ন থাকেন। এরপর জিনদের কথা এসেছে—তারা যখন লুকিয়ে ঊর্ধ্বজগতের সংবাদ শোনার চেষ্টা করে, তখন জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাদের তাড়া করে।
সূরার উল্লেখযোগ্য আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:
- কেয়ামতের দিন পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত-জাহান্নামের দৃশ্য।
- জাহান্নামিদের পারস্পরিক দোষারোপ এবং জান্নাতিদের আনন্দের কথোপকথন।
- হজরত নুহ, ইবরাহিম, মুসা, হারুন, ইলিয়াস, লুত এবং ইউনুস (আ.)-এর জীবনের ঘটনাবলি।
- পরিশেষে ঘোষণা করা হয়েছে—আল্লাহর প্রেরিত বান্দারা সবসময় সাহায্যপ্রাপ্ত হন এবং চূড়ান্ত বিজয় সত্যেরই হয়।
৩. সূরা সা-দ
কুরআনের অলৌকিকত্ব এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতার শপথ দিয়ে এই সূরা শুরু হয়েছে। মক্কার মুশরিকদের অহংকার ও মূর্খতার চিত্র তুলে ধরে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুলকে (সা.) ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এখানে বেশ কয়েকজন নবীর জীবনী সংক্ষেপে আলোচিত হয়েছে:
- হজরত দাউদ, সোলাইমান ও আইয়ুব (আ.) সহ অন্যান্য নবীদের শুকরগুজার জীবনের কথা।
- হজরত আদম (আ.) ও অভিশপ্ত ইবলিসের অহংকারের ঘটনা।
- সূরার শেষে নবীজিকে (সা.) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে যে, তিনি তাঁর দাওয়াতের জন্য কোনো প্রতিদান চান না; এই কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মহা উপদেশ।
৪. সূরা জুমার (আয়াত ১-৩১)
এই সূরার মূল ভিত্তি হলো 'তাওহিদ' বা একত্ববাদ। ইবাদত হতে হবে শতভাগ লোকদেখানো বা রিয়ামুক্ত—কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
সূরার কয়েকটি বিশেষ দিক:
- মায়ের গর্ভে তিনটি অন্ধকারের স্তরে মানুষের সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ও কুদরতি নিদর্শন।
- মুশরিক ও একত্ববাদীর চমৎকার একটি তুলনা দেওয়া হয়েছে। মুশরিক হলো এমন এক দাসের মতো, যার অনেকগুলো বদমেজাজি মালিক রয়েছে এবং তারা একেকজন একেক রকম আদেশ দেয়। ফলে দাসটি থাকে চরম দিশেহারা। অন্যদিকে, একত্ববাদী মুমিন হলো এমন এক দাসের মতো, যার মালিক কেবল একজন এবং যিনি অত্যন্ত দয়ালু। একজন মুমিনের মনের এই প্রশান্তি দুনিয়ার যেকোনো রাজত্বের চেয়েও দামি।
মূল লেখক: মুফতী রাশেদুর রহমান (সিনিয়র পেশ ইমাম, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ)