neexra

লাইলাতুল কদর: রহমত, ফজিলত ও ইবাদতের রাত

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 11 মার্চ 2026, 09:48 অপরাহ্ন পঠিত: 111 বার
লাইলাতুল কদর: রহমত, ফজিলত ও ইবাদতের রাত
ছবি: সংগৃহীত

লাইলাতুল কদর: রহমত, ফজিলত ও ইবাদতের রাত
পয়গাম ডেক্স 
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এ মাসে মুসলিমরা ইবাদত-বন্দেগি, নেক আমল ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এই বরকতময় মাসের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যার গুরুত্ব, ফজিলত ও রহমত অপরিসীম। ইসলামী শরীয়তে এই রাতের ইবাদতকে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
কোরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ۝ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
(সূরা আল-কদর, ৯৭:১–৩)
এর অর্থ হলো—
“নিশ্চয়ই আমরা কোরআনকে লাইলাতুল কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”
আরও বলা হয়েছে—
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ ۝ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ
(সূরা আল-কদর, ৯৭:৪–৫)
অর্থ:
“সেই রাতে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরাইল আ.) অবতীর্ণ হন। রাতটি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তিময় থাকে।”
হাদিসে লাইলাতুল কদরের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
(সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)
আরেক হাদিসে রাসূল ﷺ বলেন—
“রমজানের শেষ দশকের মধ্যেই লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।”
বুজুর্গদের ইবাদতের দৃষ্টান্ত
ইসলামের বুজুর্গ ও আলেমগণ লাইলাতুল কদরের রাতে বিশেষভাবে ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তাদের ইবাদতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
তাহাজ্জুদ ও রাত জাগা:
রাতের অধিকাংশ সময় তারা তাহাজ্জুদ নামাজ, জিকির ও দোয়ায় কাটাতেন।
কোরআন তেলাওয়াত:
এই রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করাকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
দোয়া ও ইস্তিগফার:
রাসূল ﷺ শেখানো একটি দোয়া বিশেষভাবে পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
নফল ইবাদত ও সদকা:
এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, দান-সদকা ও নেক কাজ করার চেষ্টা করতেন।
লাইলাতুল কদরের রাতে করণীয়
লাইলাতুল কদরের ফজিলত অর্জনের জন্য মুসলমানদের করণীয় হলো—
রাত জেগে ইবাদত করা
কোরআন তেলাওয়াত করা
বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা
নফল নামাজ আদায় করা
দান-সদকা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা
উপসংহার
লাইলাতুল কদর মুসলমানদের জন্য এক মহামূল্যবান সুযোগ। এই রাতের ইবাদত ও দোয়া মানুষের জীবনে রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের দরজা খুলে দেয়। তাই রমজানের শেষ দশকে এই মহিমান্বিত রাত পাওয়ার আশায় মুসলমানদের বেশি বেশি ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
সংকলনে:
মুফতি ছাইদ আহমদ
সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব
হরিনাফুলিয়া জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, 

#বাংলাদেশ #সংবাদ #Islam
neexra