ইমাম নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্ব: মসজিদে তালা, বাইরে নামাজ আদায়
ইমাম নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্ব: মসজিদে তালা, বাইরে নামাজ আদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গাম
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিরাজগঞ্জে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনায় মুসল্লিদের বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পেচিবাড়ি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
তালাবদ্ধ মসজিদ, বাইরে নামাজ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরি শেষে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের বাইরেই নামাজ আদায় করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজের ব্যবস্থা করে দেয়।
দ্বন্দ্বের সূত্রপাত
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমাম নিয়োগ ও নামাজ পরিচালনা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গ্রামের একাংশ ইমাম আব্দুল হাইয়ের কেরাত নিয়ে আপত্তি তুলে তাকে পরিবর্তনের দাবি জানায়। প্রস্তাব ছিল—তিনি ওয়াক্তের নামাজ পড়াবেন, আর তারাবির নামাজ অন্য ইমাম পড়াবেন।
বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নতুন ইমাম নিয়ে মসজিদে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তালা দেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপি-সমর্থিত ব্যক্তিদের দাবি, শনিবার রাতে নতুন ইমাম দিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ানো হয়। রোববার সকালে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মসজিদে তালা দেখতে পান তারা। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষই তালা দিয়েছে।
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমামকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এ অভিযোগ ঠিক নয়। কে তালা দিয়েছে তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত গ্রামের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
পুলিশের বক্তব্য
সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুর রহমান জানান, মুসল্লিরা তালাবদ্ধ মসজিদের বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কে তালা দিয়েছে তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। পরে সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।