neexra

খানজাহান আলীর মাজারের দিঘি থেকে কুমির অপসারণে ক্ষোভ, ফেরানোর দাবি

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 04 জুন 2026, 12:01 অপরাহ্ন পঠিত: 21 বার
খানজাহান আলীর মাজারের দিঘি থেকে কুমির অপসারণে ক্ষোভ, ফেরানোর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

খানজাহান আলীর মাজারের দিঘি থেকে কুমির অপসারণে ক্ষোভ, ফেরানোর দাবি

আজকের পয়গাম ডেস্ক | বাগেরহাট 

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬

​বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘির শেষ মিঠাপানির কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে মাজারের খাদেম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষার স্বার্থে কুমিরটিকে দ্রুত দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাজারের প্রধান খাদেম।

​উল্লেখ্য, গত তিন দিন আগে দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে প্রশাসন ও বন বিভাগ কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (৩ জুন) বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

​'দুর্ঘটনার জন্য ঐতিহ্য ধ্বংস করা ঠিক নয়'

​মাজারের প্রধান খাদেম ও সাবেক জেলা যুবদল নেতা ফকির তারিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন:

​"খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার এবং এই দিঘি সাড়ে ৫০০ বছর ধরে আমাদের পরিবার দেখভাল করে আসছে। আমাদের হয়তো কোনো ভুলত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এই কুমির বাগেরহাটের মানুষের একটি বড় সম্পদ। দুর্ঘটনা যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে। তাই বলে এভাবে কুমিরটি নিয়ে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।"


 

​তিনি প্রশাসনের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, "বাগেরহাট থানায় যদি কোনো লোক মারা যায়, তাহলে কি ওসির চাকরি চলে যাবে বা থানা বন্ধ করে দিতে হবে? এমন কোনো নিয়ম কি আছে?"

​দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই কুমির দেখতে আসে উল্লেখ করে তিনি অনতিবিলম্বে কুমিরটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি দিঘির নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি।

​দর্শনার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

​কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাধারণ দর্শনার্থীদের মাঝে। অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মোল্লাহাট থেকে আসা দর্শনার্থী শাহিদা বেগম বলেন, "কোনো প্রাণহানিই কাম্য নয়। তবে দিঘিতে উপযুক্ত ও নিরাপদ বেষ্টনী নির্মাণ করে কুমিরটিকে আবারও জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।"

​বিলুপ্তপ্রায় মিঠাপানির কুমির ও প্রজনন কেন্দ্রের সম্ভাবনা

​২০০০ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমিরকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। তবে মাজারের দিঘির কুমিরগুলো ছিল বিরল এই মিঠাপানির প্রজাতির।

​করমজল বন্য প্রাণী ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির এই দিঘিকে কেন্দ্র করে নতুন সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, "সুন্দরবনে আমরা কুমিরের বাচ্চা ফোটাচ্ছি। প্রশাসন যদি কঠোর হয় এবং বাইরের হস্তক্ষেপ না থাকে, তবে ওই দিঘির এক পাড়ে একটি মিঠাপানির কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নদ-নদী থেকেও বেশ কিছু মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হয়েছে। ফলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে।"

​কী বলছে বন বিভাগ ও প্রশাসন?

​খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, মিঠাপানির কুমিরকে লোনাপানির সুন্দরবনে ছাড়া হলে সেটি বাঁচবে না, তাই সেখানে এটি ছাড়া হবে না। বন্য প্রাণীকে তার উপযোগী পরিবেশেই ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এদিকে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানিয়েছেন, কুমিরটির ভবিষ্যৎ স্থানান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #saradesh
neexra