সকল সংবাদ 451 টি
জাতীয়
ভাষা দিবসে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পবিত্র কুরআন খতম
পিরোজপুর প্রতিনিধি: মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পবিত্র কুরআন খতমের আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ পিরোজপুর জেলা শাখা।শুক্রবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।আয়োজকরা বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সমাজে কুরআনের শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন।অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাজনীতি
টকশোর বক্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি: অবস্থান পরিষ্কার করলেন আব্দুল হান্নান মাসুদ
সম্প্রতি Star News–এর একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আব্দুল হান্নান মাসুদ। তিনি বলেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।তিনি জানান, টকশোতে তিনি বলেছিলেন—“আমাদের প্রত্যাশা ছিল আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে ইলেকশন করবো। সেখান থেকে যদি ৬টি আসনও পেতাম, সেটাই আমাদের জন্য বেশি সম্মানজনক হতো। কিন্তু আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি।”জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন—“জামায়াতের সঙ্গে জোট করাটা ভুল ছিল বলব না। সময় ও পরিস্থিতি আমাদের সে দিকে যেতে বাধ্য করেছে। তবে আমরা যদি না যেতাম, আরও ভালো হতো।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার বক্তব্যের একটি অংশে বলা হয়েছিল— জোট না হলে এনসিপি এককভাবে ৩–৪টি আসন পেতে পারত। কিন্তু তিনি কোথাও বলেননি যে, জোট না করলে তারা অতিরিক্ত ৩–৪টি আসন বেশি পেতেন। এই দুই বক্তব্যের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।আব্দুল হান্নান মাসুদ অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজ ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার মন্তব্য ছিল রাজনৈতিক বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও আত্মসমালোচনার জায়গা থেকে; কাউকে দোষারোপ করা বা বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও ভাষ্য বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
জাতীয়
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শ্রদ্ধা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে।সংগঠনটির এক বার্তায় বলা হয়, ভাষাকে অবমূল্যায়নমুক্ত করা এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই সব শহীদ ভাইদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।বার্তায় আরও বলা হয়, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে জাতির ঐক্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় আরও সুদৃঢ় হবে।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সারাদেশ
বরিশালে নামাজে ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্র নিহত
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার চরবিশোর গ্রামে নামাজে ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রকে লাথি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না।নিহত ১৩ বছর বয়সী আরিফ রাঢ়ী হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের চরবিশোর গ্রামের আনিছ রাঢ়ীর ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোশারফ বয়াতি (২৬) একই গ্রামের শাহজালাল বয়াতির ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এশার নামাজের আগে আরিফ অভিযুক্ত মোশারফের ঘরে গিয়ে তাকে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। সে সময় মোশারফ খাটে শুয়ে ছিল। উঠতে অস্বীকৃতি জানালে আরিফ তাকে চড় দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশারফ আরিফের বুকের ওপর লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।পরে মরদেহ বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্বজনরা খালের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। স্থানীয়রা সন্দেহভাজন মোশারফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের মাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয়
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর আমীর, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ আদালতে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, তার নির্মম ও চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ভাষা আন্দোলন–এর ২১ ফেব্রুয়ারিতে। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করতে বাধ্য হওয়া এবং সেই আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যার মতো বর্বরতা ইতিহাসে বিরল।তিনি বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই রফিক, আব্দুল জব্বার, বরকত ও আব্দুস সালামসহ বহু ভাষা সংগ্রামী শহীদ হন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রায় পৌনে এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও দেশের উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা এখনো পূর্ণ মর্যাদা পায়নি। এটি ভাষা শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিনি পুনরায় দাবি জানান— উচ্চ আদালত ও উচ্চশিক্ষায় বাংলার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।এছাড়া তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার বিকাশ, চর্চা ও সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সারাদেশ
প্লাস্টিকের ডিম বিক্রির অভিযোগে বিক্রেতা আটক, ডিম নষ্ট
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় প্লাস্টিকের ডিম বিক্রির অভিযোগে এক বিক্রেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় তার কাছে থাকা কিছু ডিম ভেঙে ফেলা হয় এবং বাকিগুলো নদীতে ফেলে নষ্ট করা হয়। ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনাবাড়ীর আমবাগ রোডের এমএম গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ডিম বিক্রি করছিলেন। সম্প্রতি কয়েকজন ক্রেতার সন্দেহ হয়, তার বিক্রি করা ডিমগুলো স্বাভাবিক নয়। ডিমের গঠন ও ভেতরের উপাদান অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে, তার কাছে থাকা ডিমগুলো ভাঙা হয়। এরপর সেগুলো প্লাস্টিকজাতীয় বা কৃত্রিম উপাদানে তৈরি বলে অভিযোগ ওঠে।উত্তেজিত জনতা পরে আমবাগ ব্রিজের ওপর ডিমগুলো নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
সারাদেশ
জামায়াত সমর্থন না করায় সাতক্ষীরায় দুই গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগ
খুলনার সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় জামায়াতকে সমর্থন না করার অভিযোগ তুলে দুই গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, তাদের বাবা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থক হওয়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী জোসনা খাতুন (২৫) ও সুলতানা আক্তার (২০) পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গাইনবাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে। জোসনার শ্বশুরবাড়ি চণ্ডীপুর গ্রামে এবং সুলতানার শ্বশুরবাড়ি পাতাখালী গ্রামে।জোসনা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামী এনামুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনের আগে বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে তাকে মারধর করা হয় এবং বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে তাকে তালাক দিয়ে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়।ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, মেয়েকে আনতে গেলে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাও হুমকি দেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ বিষয়টিকে পারিবারিক বিরোধ বলে দাবি করেছে।অন্যদিকে সুলতানা আক্তার অভিযোগ করেন, বাবার বাড়িতে গেলে বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন—এই সন্দেহে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে এবং বাবার বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দেয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দুই পরিবারের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
রাজনীতি
জোট রাজনীতি ও সমন্বয় ঘাটতি: ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন : রিপোর্টার পুস্পিতা খান
সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামী ধারার দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য জোট ও সমন্বয় প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) একসঙ্গে নির্বাচনী সমন্বয়ে অংশ নিত, তাহলে বহু আসনে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারত।দলীয় সূত্র ও পর্যবেক্ষকদের দাবি, প্রায় ৫০টির বেশি আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজয় হয়েছিল। সেসব আসনে জোটগত সমন্বয় থাকলে সরকার গঠনের বাস্তব সুযোগ তৈরি হতে পারত বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, ভবিষ্যতে তা পুনরায় সৃষ্টি হওয়া কঠিন হতে পারে।জোট রাজনীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জোটে থাকা ছোট দলগুলোর ভোট স্থানান্তর সবসময় কার্যকর হয় না। উদাহরণ হিসেবে এলডিপি’র সীমিত ভোট প্রাপ্তি কিংবা ইসলামী ধারার নেতাদের অংশগ্রহণ সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ভোট স্থানান্তর না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ প্রসঙ্গে মামুনুল হক–সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসলামী ধারার দলগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি ও কৌশলগত ভিন্নতা ভবিষ্যৎ ঐক্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে করে বৃহৎ দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা বা সমন্বয় নির্ভর রাজনীতিই সামনে এগোতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সারাদেশ
রমাদানকে ঘিরে সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
পবিত্র মাহে রমাদানকে সামনে রেখে সমাজের নৈতিক পরিবেশ ও মানুষের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাওলানা ইউনুস আহমাদ। তিনি বলেন, ইবাদতের এই পবিত্র মাসে আমাদের আমল কেমন হবে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।তিনি জানান, সম্প্রতি অসহ্য কোমরের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে সেখানে রোগীদের অপেক্ষারত অবস্থায় নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথোপকথনের এক পর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন বিভিন্ন সমস্যার জন্য এক নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ধারাকে দায়ী করে মন্তব্য করেন।ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে ফার্মেসিতে গেলেও একই ধরনের আলোচনা ও পরনিন্দার প্রবণতা লক্ষ্য করেন তিনি। পরে রুপাতলী কাঁচাবাজারে গিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখেন—লেবু হালি ১০০ টাকা, কলা হালি ৬০ টাকা, শসা কেজি ১০০ টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। সেখানেও একইভাবে দোষারোপ ও আলোচনা চলতে দেখা যায়।আসর নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে গেলে নামাজের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চস্বরে আলোচনা ও গীবতচর্চার পরিবেশ লক্ষ্য করেন। নামাজ শেষে চায়ের দোকানেও একই ধরনের আলোচনা চলতে দেখেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, পবিত্র মাহে রমাদানের পবিত্রতা রক্ষা, গীবত ও অনর্থক বিতর্ক থেকে বিরত থাকা এবং ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এখন সময়ের দাবি।তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন সবাই রমাদানের মর্যাদা রক্ষা করে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতে পারে।
রাজনীতি
বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটিকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শুভেচ্ছা
বরিশাল মহানগর শাখার ২০২৬ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর এর পক্ষ থেকে সভাপতি : মোঃ সিরাজুল ইসলাম। এক শুভেচ্ছা বার্তায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার পক্ষ থেকে বরিশাল মহানগরীর ছাত্র শিবিরের নবনির্বাচিত সভাপতি হাসান নাঈম ও সেক্রেটারি আব্দুর রহমান সুজনসহ সকল দায়িত্বশীলদের জন্য দোয়া ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।বার্তায় বলা হয়, আল্লাহ তাআলা যেন তাদেরকে দ্বীনের খেদমতে কবুল করেন এবং ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার কাজে সফলতা দান করেন।
রাজনীতি
শরীয়াহ প্রশ্নে আপস নয়, ঐক্য থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করলেন শেখ ফজলুল করিম মারুফ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ইসলাম ও শরীয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করার লক্ষ্য নিয়েই বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ শেখ ফজলুল করিম মারুফ। তিনি বলেন, শরীয়াহ প্রশ্নকে ভিত্তি করে “ইউদিন ইসলাম” মতভেদ পাশে রেখে ঐক্য গড়ে তুলেছিল।তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে ইসলাম ও শরীয়াহ প্রশ্নকে আড়াল করেছে। তবে দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি মনে করেন, তারা শরীয়াহকে বাদ দেয়নি; বরং কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি উহ্য রেখেছে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হওয়া সম্ভব হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতো যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে প্রকাশ্যে ইসলাম ও শরীয়াহকে সামনে রেখে রাজনীতি করার মতো কোনো দল নেই। এতে “বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইসলাম ও শরীয়াহভিত্তিক রাজনীতি সম্ভব নয়” — এমন ধারণা শক্তিশালী হয়ে উঠত।তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি ঠেকাতেই প্রায় সোয়া এক বছর ধরে নির্মিত ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচনের মাত্র ২৫ দিন আগে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা।শেখ মারুফ দাবি করেন, তাদের দলকে পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে কিছু মহল সমর্থনও দিয়েছে। পর্দা বিষয়ে তাদের দৃঢ় অবস্থান পশ্চিমা বিশ্বে অস্বস্তির কারণ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তার অভিযোগ, বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–কে দুর্বল দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং শরীয়াহভিত্তিক প্রচারণা জোরদার হওয়ার পর দলটির ভোট কম দেখানোর অপচেষ্টা হয়েছে। তিনি একে বহুমাত্রিক “ইঞ্জিনিয়ারিং” হিসেবে অভিহিত করেন।তিনি আরও বলেন, শরীয়াহ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের অযৌক্তিক ভীতি রয়েছে এবং এ কারণেই ইসলামী আন্দোলনের শক্তি কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
রাজনীতি
বারবার জয়, তবু মন্ত্রিসভায় নয় — সরওয়ারকে ঘিরে প্রশ্ন
বারবার জয়, তবু মন্ত্রিসভায় নয় — সরওয়ারকে ঘিরে প্রশ্নরফিকুল ইসলাম | অতিথি প্রতিবেদকবরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মজিবর রহমান সরওয়ার। উপনির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে বরিশাল–৫ (সিটি-সদর) আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবারের মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বারবার জয় সত্ত্বেও কেন তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলেন না।বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যুগ্ম মহাসচিব সরওয়ার দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। দলের পুরনো ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি ১৯৯১, ১৯৯৮, ২০০১, ২০০৮ ও ২০২৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া দুটি উপনির্বাচনেও জয়ী হয়েছেন এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।সংসদে তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় হুইপ ছিলেন এবং জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। যোগ্যতার বিচারে মন্ত্রী হওয়ার মতো ঘাটতি চোখে না পড়লেও বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।এবারের মন্ত্রিসভায় বরিশাল জেলা থেকে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই তিনজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ভোলা থেকে নির্বাচিত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এসব আলোচনায় সরওয়ারের নাম নেই।রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে এবং সেখানে নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। কিন্তু সম্ভাব্য তালিকাতেও সরওয়ারের নাম নেই বলে জানা গেছে। ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে—দলীয় পদ, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও ভোটার সমর্থন থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি উপেক্ষিত?দলের ভেতরের সমীকরণবিএনপির নীতিনির্ধারণী স্তরে দীর্ঘদিন ধরে অলিখিত একটি সমীকরণ কাজ করে—কারা থাকবেন ফ্রন্টলাইনে, আর কারা সংগঠন সামলাবেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সরওয়ারকে এই দুই তালিকার বাইরেই রাখা হয়েছে। সংসদে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ক্ষমতার ভাগ বণ্টনের সময় তিনি “নিরাপদ পছন্দ”, কিন্তু “প্রাধান্যপ্রাপ্ত পছন্দ” নন।দলের প্রভাবশালী বলয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না বলেও নেতাদের অনেকে মনে করেন। বরিশাল অঞ্চলে নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা তাকে কখনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চোখে স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে—যা মন্ত্রিসভা গঠনের সময় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।জনপ্রিয়তা বনাম কেন্দ্রীয় আস্থাবরিশালে সরওয়ারের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত হলেও জাতীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় আস্থা এক বিষয় নয়। এক সাবেক বিএনপি নেতা বলেন, ভোটে জয়ী হওয়া এক বিষয়, আর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া আরেক বিষয়; মন্ত্রিত্বের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে নিঃশর্ত সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমন্বয়ের প্রশ্নেই সরওয়ার বারবার পিছিয়ে পড়েছেন। সংসদে সক্রিয় থাকলেও তিনি কখনো দলের প্রচারযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেননি।মেয়র অধ্যায় কি প্রভাব ফেলেছে?বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন সরওয়ারকে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী করেছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব ধরে রাখার বিষয়টি তাকে কেন্দ্রের চোখে অতিরিক্ত স্থানীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।জাতীয় রাজনীতিতে দৃশ্যমানতা ও মিডিয়া উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তিনি তুলনামূলকভাবে নীরব ছিলেন। ইতিবাচক সংবাদ কম এবং নেতিবাচক সংবাদ বেশি প্রচারিত হওয়াও তার রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে বলে মত রয়েছে।ক্ষমতার এক ধাপ দূরেতিনবারের সংসদ সদস্য, দুইবার উপনির্বাচনে জয়, গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ—সবকিছু থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া কেবল কাকতালীয় নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার কাঠামো, আস্থা ও নিয়ন্ত্রণ রাজনীতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বরিশাল–৫ আসনের ভোটাররা তাকে পাঁচবার সংসদে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেই সংসদের ভেতরেই তিনি থেকে গেছেন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে এক ধাপ দূরে—এটাই তার রাজনৈতিক জীবনের বড় বৈপরীত্য।মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন জানান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে সরওয়ার ৫৫টি মামলার আসামি ছিলেন, চার বছরে ৯ বার গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাবরণ করেন। ২০১৪ সালের পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা হয়নি।রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ভোটে গ্রহণযোগ্য নেতা হয়েও কেন ক্ষমতার কেন্দ্রে জায়গা মিলছে না সরওয়ারের?
সারাদেশ
পাবনায় ২ গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে স্পটে ১ জন নিহত
পাবনায় তুমুল সংঘর্ষে নিহত ১পাবনা প্রতিনিধি | প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল গফুর (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গফুর ওই গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার নিহতের ছেলে আলমের সঙ্গে একই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিনের (৪৫) টাকা লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। আলমের অভিযোগ, পূর্বে নেওয়া টাকা পরিশোধ না করেই পুনরায় টাকা দাবি করায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়েন উদ্দিন লোকজন নিয়ে আলমের বাড়িতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে আব্দুল গফুর, মানিক হোসেন (৪৩), ময়েন উদ্দিন, ময়ূরী খাতুন (৩৪)সহ কয়েকজন আহত হন।আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল গফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মানিক হোসেনকে পাবনা সদর হাসপাতাল এ স্থানান্তর করা হয়েছে।ঘটনার পর পুলিশ ময়েন উদ্দিন, তার স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৪), মানিক হোসেন ও সজিব হোসেন (২৫)-কে আটক করেছে।নিহতের ছেলে আলম অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং মারধরের ঘটনাতেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
জাতীয়
রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ: রোজাদারদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ: মুসল্লিদের জন্য জরুরি নির্দেশনানিজস্ব প্রতিবেদকপ্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। রোজা সহীহ রাখতে কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকা জরুরি। অসতর্কতা বা অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় রোজা ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। তাই রোজা ভঙ্গের কারণগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা, ধূমপান করা, স্বামী-স্ত্রীর সহবাস, ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো, মুখভর্তি বমি ইচ্ছাকৃতভাবে করা, ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব শুরু হওয়া এবং শরীরে শক্তি জোগায় এমন পুষ্টিকর স্যালাইন বা ইনজেকশন গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়।যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয়ভুলে খাওয়ার পর মনে পড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া চালিয়ে যাওয়া, অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে কাজা রোজা আদায় করতে হয়।যেসব ক্ষেত্রে কাজা ও কাফফারা উভয়ই প্রযোজ্যইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে খাওয়া বা পান করা এবং স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করলে কাজার পাশাপাশি কাফফারা আদায় করতে হয়। কাফফারা হিসেবে ধারাবাহিক ৬০টি রোজা রাখা অথবা ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে খাবার প্রদান করতে হয়।যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় নাভুলে খেয়ে ফেলা, অনিচ্ছাকৃত বমি, রক্ত পরীক্ষা দেওয়া, দাঁত ব্রাশ করা (পানি গিলে না ফেললে) এবং সুগন্ধি ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয় না।ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; মিথ্যা, গীবত, অশালীন আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ থেকেও বিরত থাকাই রোজার প্রকৃত শিক্ষা।
জাতীয়
পবিত্র রমজান উপলক্ষে অফিস-আদালত-ব্যাংকের নতুন সময়সূচি কার্যকর
পবিত্র রমজান উপলক্ষে অফিস-আদালত-ব্যাংকের নতুন সময়সূচি কার্যকরনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে সরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস শুরু হওয়ায় সাহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় এনে এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।গত ৮ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময় নির্ধারণ করে।সরকারি অফিসরমজান মাসজুড়ে সরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি যথারীতি শুক্র ও শনিবার। এর আগে সরকারি অফিস সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।আদালতবাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। অফিস সময় থাকবে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। উভয় ক্ষেত্রেই দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট ও এর অধীন অন্যান্য আদালতের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে নির্ধারণ করবে।ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানবাংলাদেশ ব্যাংক এর জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, সব তফসিলি ব্যাংক সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। লেনদেন চলবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এই সময়েও বিকল্প ব্যবস্থায় গ্রাহকসেবা চালু রাখতে হবে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ আইন-বিধি অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনায় সময়সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে।শেয়ারবাজাররমজান মাসে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হবে সকাল ১০টা থেকে এবং চলবে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এরপর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিটের পোস্ট-ক্লোজিং অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।পবিত্র রমজান মাসে ধর্মীয় অনুশীলনের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনজীবনের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এ সময়সূচি কার্যকর করা হয়েছে।
সারাদেশ
বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, রাস্তার পাশে মিলল লাশ
বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, রাস্তার পাশে মিলল লাশবরিশাল, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে স্থানীয় বৌসেরহাট বাজারের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানায়, তারাবির নামাজ চলাকালে দেলোয়ার হোসেন সাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাদামতলা এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তার মরদেহ রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে রাখা হয়।খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর বিমানবন্দর থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।রাজনৈতিক ও জমি বিরোধের অভিযোগস্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও তার ভাই কবির চৌধুরীর বিরোধ ছিল। জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা জানান, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।পুলিশের বক্তব্যবিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঘটনার পর র্যাব, সিআইডি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
শিক্ষা
আজ থেকেই স্কুল ছুটি, ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ সব বিদ্যালয়
আজ থেকেই স্কুল ছুটি, ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ সব বিদ্যালয়ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি শুরু হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৬ মার্চ পর্যন্ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।এ সিদ্ধান্ত পৃথকভাবে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি শেষে সাপ্তাহিক বন্ধ (শুক্র ও শনিবার) থাকায় বিদ্যালয়গুলো পুনরায় খুলবে ২৯ মার্চ।আগের সূচি পরিবর্তনএর আগে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকার সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি কার্যকর করেছে।আদালতের নির্দেশনা প্রসঙ্গরমজানের শুরু থেকেই ছুটি দেওয়ার বিষয়ে পূর্বে একটি রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছিল। পরে চেম্বার আদালতে সেই আদেশ বাতিল করা হলেও সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্তে প্রথম রোজা থেকেই ছুটি কার্যকর করা হয়েছে।
জাতীয়
দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন
দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন,“যত দ্রুত সম্ভব এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।”অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গেঅন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া–র বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরে কথা বলা হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের আলাদা মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতি নিয়ে মন্তব্যমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতটা খারাপ নয়; বরং আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। অর্থনীতিও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে এবং ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে; সব কিছু স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে অবস্থানকার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন স্থানে দলটির অফিস খোলার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেও মন্তব্য করেন।