neexra

এক কার্ডেই মিলবে নাগরিকের সব সেবা, আসছে ‘এক-আইডি’

Abdullah Al Ayan, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 04 সেপ্টে. 2026, 08:59 পূর্বাহ্ন পঠিত: 16 বার
এক কার্ডেই মিলবে নাগরিকের সব সেবা, আসছে ‘এক-আইডি’
ছবি: সংগৃহীত

এক কার্ডেই মিলবে নাগরিকের সব সেবা, আসছে ‘এক-আইডি’
আজকের পয়গাম ডেস্ক
দেশের সব নাগরিককে একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামে এই পরিচয়পত্র চালু করা হবে। জন্মের পরই শিশুরা এ পরিচয়পত্র পাবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে। অনুমোদনের প্রক্রিয়ার জন্য প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশে জন্মনিবন্ধনের পর শিশুদের জন্মসনদ দেওয়া হয় এবং ১৮ বছর বয়স হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়া হয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় জন্মের পর থেকেই প্রত্যেক নাগরিকের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি হবে। ফলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একক পরিচয়পত্র চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের কার্যকারিতা কমে আসতে পারে। এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন সেবাও নতুন ‘এক-আইডি’র মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ২০ কোটি। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই মার্কিন ডলার এবং বিতরণ ও সরবরাহে আরও এক ডলার। সব মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৬৯ টাকা।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা আসার কথা রয়েছে। কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হবে। এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বর্তমানে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনের মতো বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও তথ্যভান্ডার রয়েছে। এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকের একই তথ্য বারবার সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবাদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #jatio
neexra