রাজনীতি
মোট সংবাদ: 117 টি
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, জোটে অসন্তোষ
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, জোটে অসন্তোষআজকের পয়গাম ডেস্ক | লক্ষ্মীপুরতারিখ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, ধারাবাহিক গণসংযোগ ও ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, সংগঠনিক শক্তির কারণে তিনি এ আসনে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জাকির হোসেন পাটোয়ারী নির্বাচন ঘোষণার আগেই এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন। নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও সামাজিক উদ্যোগের ফলে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখে পরিণত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে এনসিপি নেতা মাহবুব আলমের নাম ঘোষণা করা হলে জোটের তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, মাহবুব আলম একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সে সময়ের কিছু ছবি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া তার বাবা আজিজুর রহমান ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক—এই বিষয়টিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় ইসলামী ধারা সমর্থনকারী অনেক ভোটার বিকল্প হিসেবে হাতপাখা প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। এতে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে।সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে প্রধান লড়াই বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
শাকিব খানের নামে ‘জামায়াতের প্রচারণা’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের শিকার হলেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও নিউজ কার্ডে দাবি করা হচ্ছে, তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, বিষয়টি পুরোপুরি অসত্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারসাজি।ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছেসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই কার্ডটিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। কার্ডের সঙ্গে যুক্ত লিংকে ক্লিক করলে দেখা যায়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ভাষণ দিচ্ছেন এবং তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন শাকিব খান। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও শিরোনামে একে ‘জামায়াতের ভাইরাল গান’-এ শাকিব খানের অংশগ্রহণ বলে প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে আরও কয়েকজন তারকার উপস্থিতি কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে।ফ্যাক্ট চেক ও বাস্তবতাভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। বাস্তবে শাকিব খানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে সাধারণ নেটিজেনদের অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে একে সত্য বলে মনে করছেন, যা অভিনেতার ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্যশাকিব খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও বা কার্ড সম্পর্কে অভিনেতা কিছুই জানতেন না। সূত্রটি আরও জানায়, আসন্ন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেননি শাকিব খান। তিনি বর্তমানে নিজের পেশাগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত।শুটিংয়ে ব্যস্ত শাকিব রাজনৈতিক মাঠ থেকে দূরে থাকা এই অভিনেতা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। জানা গেছে, ‘প্রিন্স’-এর কাজ শেষ করে তিনি দুই সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন এবং এরপরই নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করবেন।
ভোটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আশা ইসির
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল দ্রুততম সময়ে প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণের পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। একইসঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেওয়া নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত গণনাসংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় কাজের পরিধি বাড়লেও ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ইসি আনোয়ারুল। তিনি জানান, আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ও উন্নত ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারের ফলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও গণনা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, "দুর্গম বা বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকার কারণে সামান্য সময় লাগতে পারে, তবে অতীতের মতো ফলাফলের জন্য তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে না।"মাঠপর্যায়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তানির্বাচনী সহিংসতা রোধে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্ন উপস্থিতি নিশ্চিতে এবার কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন।নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসি আরও জানান: বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সাপেক্ষে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর মাঠপর্যায়ের তথ্য কেন্দ্রীয় সেলে পাঠানোর জন্য একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করবে। গুজব রোধ ও কড়াকড়িনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন কোনো অপপ্রচার বা গুজব ছড়াতে না পারে, সে জন্য একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।স্বচ্ছতার অঙ্গীকার রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, "৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নে এই নির্বাচন একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।"
চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোটের আহ্বান — মুফতী ফয়জুল করীম
চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোটের আহ্বান — মুফতী ফয়জুল করীমবরিশাল প্রতিনিধি | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বরিশালকে চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম।সোমবার বিকেল ৩টায় বরিশাল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“বরিশাল আজ চাঁদাবাজদের কবলে জর্জরিত। সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সে লক্ষ্যে সবাইকে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের জানমাল ও সম্মান রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন এবং কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু করে সদর রোড, বাজার রোড ও চকবাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
জনপ্রত্যাশা পূরণে বরিশাল গড়ার প্রত্যয়ে জেন জি’র সঙ্গে মতবিনিময়
জনপ্রত্যাশা পূরণে বরিশাল গড়ার প্রত্যয়ে জেন জি’র সঙ্গে মতবিনিময়আজকের পয়গাম | বরিশালজনপ্রত্যাশা পূরণে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীম।শুক্রবার নগরীর একটি মিলনায়তনে “To build a Barisal that meets public expectations” শীর্ষক GEN Z Meetup অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের মতামত শোনেন।মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের নেতৃত্ব। তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার ভিত্তিতেই আগামীর বরিশাল গড়তে হবে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসমুক্ত বরিশাল গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণদের নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনায় গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে বক্তব্য দেওয়া নারীকে নিয়ে বিভ্রান্তি
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে বক্তব্য দেওয়া নারীকে নিয়ে বিভ্রান্তিওসমান হাদির বোন পরিচয়ে নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন শবনম খাদিজা নামে এ নারী। ছবি: সংগৃহীতশরীফ ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন শবনম খাদিজা নামে এক নারী। এ সময় নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোটও চান তিনি। নিজেকে হাদির বোন পরিচয় দিলেও তার আসল পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়া ওই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন ।ওই নারী ভাষণ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। সেখানে তিনি এই নারীকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেন।ফেসবুক পোস্টে হাদির স্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি তার জীবদ্দশায় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাই দলগুলোকে নিজ স্বার্থে শহীদ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি। তবে সবাই তার আদর্শ ব্যবহার করলে কোন বাধা নেই বলেও জানান।
চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোট দিন — মুফতী ফয়জুল করীম
বরিশালে হাতপাখার গণমিছিলে জনতার ঢলবরিশাল প্রতিনিধি | আজকের পয়গামবরিশালকে চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম।আজ বিকেল ৩টায় বরিশাল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“বরিশাল আজ চাঁদাবাজদের কবলে জর্জরিত। সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্যেই সবাইকে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের জানমাল ও সম্মান রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন এবং কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু করে সদর রোড, বাজার রোড ও চকবাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে একটি শান্তিপূর্ণ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
নারীর নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব বিকাশে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা চাইলেন জাইমা রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাজনৈতিক দলগুলোকেই প্রধান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দলের ভেতর নারীদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করবেন এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।রাজনৈতিক দলে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকার প্রস্তাব নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জাইমা রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব একটি কঠোর ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “কোনো নারী নেত্রী বা কর্মী যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাকালীন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হন, তবে দলকে অবশ্যই তার দায়ভার নিতে হবে এবং ভুক্তভোগীর পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে।”নেতৃত্বের ‘পাইপলাইন’ ও অভিভাবকত্ব পলিসি মেকিং বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি শক্তিশালী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, “ছাত্র নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ‘পাইপলাইন’ তৈরি করতে হবে। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না যায়, তবে যোগ্য নারী নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হবে না।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে পুরুষদের জন্য যতটা সহজে মেন্টরশিপ বা অভিভাবকত্ব পাওয়া যায়, নারীরা সেই সুযোগ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। উপযুক্ত সহায়তা ও নেটওয়ার্কিং ছাড়া নতুন নারী নেতৃত্ব বিকশিত হওয়া কঠিন। তাই নারীদের জন্য কার্যকর সংযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।অর্থনৈতিক বাধা ও উত্তরণ রাজনীতিতে নারীদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতাকে চিহ্নিত করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে অর্থনৈতিক বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বৈষম্য দূর করতে নারী নেত্রীদের জন্য দলের পক্ষ থেকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এতে তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাগুলো অনেকটাই কমে আসবে।”তরুণদের নিয়ে আগামীর রাষ্ট্রভাবনা জাইমা রহমান তার বক্তব্যে তরুণ সমাজের মেধা ও চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রথাগত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে তরুণদের মেধা কাজে লাগিয়ে একটি ভিন্নধর্মী ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়তে হবে। এজন্য প্রয়োজন সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত উদ্যোগ। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
ক্ষমতায় এলে ঢাকার ৪০টি খেলার মাঠ ও নিরাপদ নগরী গড়ার ঘোষণা : তারেক রহমানের
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুরে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে ঢাকা শহরকে নিয়ে নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি যদি আগামীতে সরকার গঠন করতে পারে, তবে রাজধানী ঢাকায় ৪০টি নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।রবিবার বিকেলে মিরপুর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।শহরের নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের বেড়ে ওঠার জন্য উন্মুক্ত স্থানের প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ, বিএনপি আগামী ১২ তারিখে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি করব।"জনাকীর্ণ এই পথসভায় তিনি দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। মানুষের চলাচলের যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে নিজের দলের ইশতেহার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যয় কেবল অবকাঠামো নয়, নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকাকে একটি নিরাপদ ও নারীবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি ঢাকা গড়তে চাই যেখানে আমাদের মা-বোনেরা দিন-রাত যেকোনো সময়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। কারো মনে কোনো ভীতি থাকবে না।" পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে চাঁদাবাজি বা কোনো প্রকার হুমকি ছাড়া নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এলাকার ট্রাফিক জ্যাম নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় গেলে মিরপুর ইসিবি চত্বর থেকে উত্তরা জসিম উদ্দিন পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি প্রশস্ত করা হবে, যাতে নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার কাছে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, "দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করুন।1