neexra

জামায়াতের ভোট কোনদিকে—হাতপাখা নাকি ধানের শীষ?

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 11 ফেব. 2026, 11:37 পূর্বাহ্ন পঠিত: 155 বার
জামায়াতের ভোট কোনদিকে—হাতপাখা নাকি ধানের শীষ?
ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে শেষ মুহূর্তের হিসাব
জামায়াতের ভোট কোনদিকে—হাতপাখা নাকি ধানের শীষ?
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | আজকের পয়গাম
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শেষ হওয়ায় এখন চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত প্রার্থীরা। বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে সদর-৫ আসন। নগরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম কি বিজয়ের হাসি হাসবেন, নাকি নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার?
জামায়াতের সমর্থন ঘিরে জটিল সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহ-সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ফয়জুল করীমকে সমর্থন দেওয়ায় নির্বাচনি সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস দেখা দেয়। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে না পারায় হাতপাখা শিবির পুরো সুবিধা নিতে পারেনি—এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলীয় প্রার্থী ত্যাগ স্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। ফলে ১১ দলীয় জোটের ভোটারদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত যদি জামায়াত ও জোটের ভোট একত্রে হাতপাখায় পড়ে, তাহলে ফলাফল বদলে যেতে পারে।
বিএনপির ঘাঁটি রক্ষার লড়াই
অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার শুরুতে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধে কিছুটা কোণঠাসা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নেতাকর্মীদের একমঞ্চে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তবে প্রচারণা নিয়ে অগোছালোভাবের অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই।
সরোয়ার বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য ভোটব্যাংকে টানার কৌশল নিয়েছেন বলেও জানা গেছে, যা নিয়ে দলীয় তৃণমূলে কিছু অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে কৌশলে তা সামাল দিয়ে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
হাতপাখার আশাবাদ
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফয়জুল করীম দাবি করছেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন ছাড়াও আওয়ামী লীগের একটি অংশ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনও তিনি পাবেন। তার ভাষ্য, “মানুষ সৎ ও আদর্শিক রাজনীতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন যা বলে, তা-ই করে—এই বিশ্বাস থেকেই জনগণ হাতপাখায় ভোট দেবে।”
জামায়াতের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই জামায়াত সমর্থন দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, পীর সাহেবের সম্মানে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে হাতপাখাকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাসদ
এ আসনে বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তীও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। মহানগরীর শ্রমজীবী মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য ভোটব্যাংকেও প্রভাব ফেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসনে মূল লড়াই ধানের শীষ ও হাতপাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে জামায়াতের সমর্থন কোনদিকে কতটা কার্যকর হয়—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলেই। এখন পুরো নগরজুড়ে একটাই আলোচনা—শেষ হাসি কে হাসবেন?

#বাংলাদেশ #সংবাদ #politics
neexra