neexra

বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম সংকট যুদ্ধের প্রভাবে এমআরআই সেবায় বিলম্বের শঙ্কা

Md Ahad Hossain Rakib, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 26 মার্চ 2026, 06:22 অপরাহ্ন পঠিত: 47 বার
বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম সংকট যুদ্ধের প্রভাবে এমআরআই সেবায় বিলম্বের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম সংকট
যুদ্ধের প্রভাবে এমআরআই সেবায় বিলম্বের শঙ্কা
আজকের পয়গাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব চিকিৎসা খাতসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে পড়তে পারে। বিশেষ করে এমআরআই (MRI) স্ক্যান সেবায় বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে ব্যবহৃত হিলিয়ামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ বর্তমানে ঝুঁকির মুখে। এর প্রধান কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং কাতারের উৎপাদন কমে যাওয়া। হিলিয়াম মূলত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) উৎপাদনের উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে এলএনজি উৎপাদন ব্যাহত হলে হিলিয়াম সরবরাহও কমে যায়।
২০২৫ সালে কাতার প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ঘনমিটার হিলিয়াম উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবে এই সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রপথে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ শিল্পাঞ্চলে হামলার কারণে এলএনজি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে। ফলে হিলিয়াম উৎপাদনেও সরাসরি প্রভাব পড়েছে। কাতার জানিয়েছে, তাদের তরল হিলিয়াম রপ্তানি বছরে প্রায় ১৪ শতাংশ কমতে পারে।
হিলিয়াম পরিবহনও অত্যন্ত জটিল। এটি তরল আকারে বিশেষ কন্টেইনারে সংরক্ষণ করতে হয় এবং ৪৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার না করলে তা গ্যাসে পরিণত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পরিবহনে বিলম্ব হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান ও চীন—যারা কাতারের হিলিয়ামের বড় ক্রেতা। সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বাজারে চাপ বাড়বে এবং দামও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ৩০ দিনের সংকটে হিলিয়ামের দাম ১০-২০ শতাংশ এবং ৬০-৯০ দিনের সংকটে ২৫-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যা অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায়ও তরল অবস্থায় স্থিতিশীল থাকে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এমআরআই মেশিনে ব্যবহৃত সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট ঠান্ডা রাখতে এটি অপরিহার্য। হিলিয়াম ছাড়া শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি সম্ভব নয়, ফলে নির্ভুল চিকিৎসা চিত্রায়ণও ব্যাহত হতে পারে।
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট হিলিয়ামের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমআরআই মেশিনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, স্মার্টফোন, গাড়ি ও ডেটা সেন্টারসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিলিয়ামের কার্যকর বিকল্প এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। যদিও কিছু গবেষণায় বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে, তা এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্বে একাধিকবার হিলিয়াম সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে সেই ধারাবাহিকতার পঞ্চম বড় সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এমআরআইসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবায় বিলম্ব অনিবার্য হয়ে উঠবে।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #international
neexra