ইতিহাসের মোড় ঘোরানো দিন আজ: ‘ইসলামী শিক্ষার অক্সফোর্ড’ দেওবন্দের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
উপমহাদেশের ইতিহাসে আজকের দিন: দারুল উলুম দেওবন্দের ১৪০ বছর
অনলাইন ডেস্ক | আজকের পয়গাম
ঢাকা: আজ ৩০ মে। উপমহাদেশের ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক দিন। আজ থেকে ঠিক ১৪০ বছর আগে, ১৮৮৬ সালের এই দিনে (৩০ মে) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে এক বৈপ্লবিক শিক্ষাদোলনের সূচনা হয়েছিল।
আজকের এই দিনে যুগশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ, শায়খুল হিন্দ আল্লামা কাসেম নানুতবী (রহ.)-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহ্যের আলোকবর্তিকা ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’।
বিপ্লব ও সংস্কারের এক শতাব্দী
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের পর যখন এ অঞ্চলের মুসলিম সংস্কৃতি ও শিক্ষা চরম সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই আল্লামা কাসেম নানুতবী (রহ.) এবং তাঁর যোগ্য সহযোগীরা মিলে সম্পূর্ণ জনমানুষের সহায়তায় এই ঐতিহাসিক মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো সরকারি অনুদান ছাড়াই, আল্লাহর ওপর ভরসা করে দেওবন্দের ছাত্তা মসজিদের ডালিম গাছের নিচে মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন ছাত্রকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
বিশ্বজুড়ে দেওবন্দের প্রভাব
সময়ের পরিক্রমায় সেই ছোট মাদরাসাটি আজ শুধু ভারতেই নয়, বরং বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ পুরো বিশ্বের বুকে ‘ইসলামী শিক্ষার অক্সফোর্ড’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
- জ্ঞানচর্চা: কোরআন, হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের বিশুদ্ধ চর্চায় দেওবন্দের অবদান অতুলনীয়।
- স্বাধীনতা সংগ্রাম: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেওবন্দের আলেমদের ত্যাগ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
- সমাজ সংস্কার: কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানটি দেওবন্দী ধারার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল অনুসারী তৈরি করেছে।
'আজকের পয়গাম'-এর সম্পাদকীয় মন্তব্য
"দারুল উলুম দেওবন্দ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি একটি চেতনা, একটি আন্দোলন এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। আল্লামা কাসেম নানুতবী (রহ.)-এর সেই নিঃস্বার্থ ইখলাস ও দূরদর্শিতার ফসল আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে দ্বীনের আলো ছড়াচ্ছে। ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠা দিবসে ‘আজকের পয়গাম’ পরিবারের পক্ষ থেকে এই মহান বিদ্যাপীঠের সকল মনীষী ও এর আদর্শের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।"
#আজকের_পয়গাম #দারুল_উলুম_দেওবন্দ #আল্লামা_কাসেম_নানুতবী #ইতিহাস #৩০মে