আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ব্যাপক বিমান হামলা: নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়ালো
আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিতে নির্দিষ্ট আস্তানায় এই অভিযান চালিয়েছে। তবে কাবুল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
হামলার কারণ ও লক্ষ্যবস্তু
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার ভোরে আফগানিস্তানের নানগারহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশে এই অভিযান চালানো হয়। পাকিস্তানের দাবি, তারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রদেশের (আইএস-কে) অন্তত সাতটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গোপন আস্তানা ধ্বংস করেছে।
অভিযানে আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলো হলো:
নানগারহারের ইব্রাহিম কেন্দ্র ও দুটি নতুন আস্তানা।
খোস্ত প্রদেশের মৌলভি আব্বাস কেন্দ্র ও ইসলাম সেন্টার।
পাকতিকার মোল্লা রাহবার ও মুখলিস ইয়ার কেন্দ্র।
ইসলামাবাদের অবস্থান
পাকিস্তান সরকারের দাবি, তাদের কাছে ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে যে সম্প্রতি পাকিস্তানে সংঘটিত আত্মঘাতী হামলাগুলো আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এই ‘প্রতিশোধমূলক’ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
কাবুলের তীব্র প্রতিবাদ ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, এই হামলাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
হামলায় জঙ্গি আস্তানা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি এবং একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিহতের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একে একটি ‘উস্কানিমূলক কাজ’ বলে বর্ণনা করেছে।
আফগান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন ও সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার এই ঘটনার ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার অধিকার তারা রাখে।
উত্তপ্ত সীমান্ত পরিস্থিতি
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিটিপি-কে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।