তুষারপাত উপেক্ষা করে জাপানে চলছে ভোটগ্রহণ: বড় জয়ের পথে সানায়ে তাকাইচি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
তীব্র শীত আর ভারী তুষারপাত উপেক্ষা করে জাপানে শুরু হয়েছে দেশটির সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জন্য এই নির্বাচনকে তার জনপ্রিয়তার ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে এই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) নতুন করে গণম্যান্ডেট পাইয়ে দিতেই তার এই সাহসী পদক্ষেপ।
ভোটের পরিসংখ্যান ও সমীকরণ
মোট আসন: পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসন।
প্রার্থী সংখ্যা: ১ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অগ্রিম ভোট: নির্বাচনের মূল তারিখের আগে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে তাদের ভোট প্রদান করেছেন।
জরিপের পূর্বাভাস: জয়ের পথে এলডিপি জোট
বিভিন্ন বুথফেরত জরিপ ও জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোট সঙ্গী জাপানিজ ইনোভেশন পার্টি বড় জয়ের পথে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই জোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। কর ছাড় এবং জ্বালানিতে ভর্তুকির মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতি তাকাইচিকে তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব
নির্বাচনের দিনে জাপান সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে এবং উত্তরাঞ্চলে ভারী তুষারপাত শুরু হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পরিবহন সংকট: তুষারপাতের কারণে অন্তত ৩৭টি ট্রেন লাইন এবং ৫৮টি ফেরি রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল: বৈরী আবহাওয়ায় ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এর ফলে ভোটার উপস্থিতি বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম জাপানে শীতকালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফলাফল কখন?
ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। এরপরই শুরু হবে গণনা। আশা করা হচ্ছে, সোমবার ভোরের মধ্যেই প্রাথমিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানা যাবে। যদি এই নির্বাচনে তাকাইচি সফল হন, তবে তা জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ আরও প্রশস্ত করবে।