neexra

ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের সূচনা দিবস আজ

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 01 জুল. 2026, 08:53 পূর্বাহ্ন পঠিত: 76 বার
ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের সূচনা দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের সূচনা দিবস আজ

বিশেষ প্রতিবেদন:

আজ ১ জুলাই। বৈশ্বিক ইতিহাসে ছাত্র-জনতার এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় সংগ্রামের সূচনা দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনটিতেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব। রক্তস্নাত সেই গণঅভ্যুত্থানের আজ দ্বিতীয় বার্ষিকী।

​২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে রাজপথে নেমেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দমনের চেষ্টা করলে ১৫ জুলাই থেকে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং ১৬ জুলাই আবু সাঈদসহ অন্যান্যদের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে তা তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের নির্বিচার দমন-পীড়নের মুখে আন্দোলন দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবি রূপ নেয় একদফা অর্থাৎ সরকার পতনের আন্দোলনে। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার তুমুল গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে থাকা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। মুক্ত হয় বাংলাদেশ।

যেভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালের পরিপত্রকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছিল সরকার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট ওই পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করলে আবারও ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল হয়।

​এর প্রতিবাদে ২০২৪ সালের জুন মাস থেকেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ শুরু হয়। তবে আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ নেয় ১ জুলাই। এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেয়।

​সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী অবস্থান নেন এবং পরে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে ছাত্র সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ে ৪ জুলাই পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

​তৎকালীন সমন্বয়ক ও বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সমাবেশ থেকে ঘোষণা করেছিলেন, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে আইনিভাবে এই বৈষম্যের চূড়ান্ত সুরাহা করতে হবে।

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ

শুধু ঢাকা নয়, ১ জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিনেই ঢাকার বাইরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ১০ মিনিটের জন্য প্রতীকী অবরোধ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্যারিস রোডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন।

​আজ সেই ঐতিহাসিক ১ জুলাই। যে দিনটির হাত ধরে বাংলাদেশ নতুন এক স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল, দেশের ইতিহাসে আজ সেই বিপ্লব সূচনার দিন। দিনটি স্মরণে আজ সারা দেশের নানা স্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #jatio
neexra