প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা শেষে দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা শেষে দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৪০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুলের মিজান মিলনায়তনে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ুন কবির বাবুর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক।
সভায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীরা বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তার অপর পাশে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের সমর্থকেরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ফটিকের এক সমর্থক পানি, পানির বোতল ও জুতা নিক্ষেপ করলে অপর পক্ষ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে বিএনপির নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মী শাখাওয়াত টিপু ও ফখরুল ইসলামসহ অন্তত ২০ জন আহত হন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কাজী জামশেদুর রহমান ফটিক বলেন, তাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু আকবর হোসেনের লোকজন অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লেও তিনি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। হামলায় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষ করে বের হওয়ার সময় বহিষ্কৃত কিছু নেতাকর্মী তাকে ও তার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিনা উস্কানিতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার স্ত্রীসহ প্রায় ৪০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।