neexra

এমপিরা কি নিজেদের বেতন নিজেরাই ঠিক করবেন? প্রশ্ন তুললেন ডাঃ তাসনিম জারা

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 23 এপ্রি. 2026, 08:21 পূর্বাহ্ন পঠিত: 51 বার
এমপিরা কি নিজেদের বেতন নিজেরাই ঠিক করবেন? প্রশ্ন তুললেন ডাঃ তাসনিম জারা
ছবি: সংগৃহীত

এমপিরা কি নিজেদের বেতন নিজেরাই ঠিক করবেন? প্রশ্ন তুললেন ডাঃ তাসনিম জারা

ডেস্ক রিপোর্ট | আজকের পয়গাম 
দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণি যখন ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমে আসছেন, তখন সংসদ সদস্যদের (এমপি) সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে এমপিদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও বিশ্লেষক ডাঃ তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা দিনের পর দিন আন্দোলন করেও ন্যায্য বেতন পান না, ডাক্তাররা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হন, নার্সরা আন্দোলনে নামেন, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। একইসঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীরাও নানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছেন। অর্থাৎ, দেশ একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু এই বাস্তবতায় সংসদে এমপিদের নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হয়। দাবি উঠলেই তা বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে দ্রুত সমাধানের দিকে এগোয়। অথচ সাধারণ জনগণের সমস্যায় এমন ঐক্য ও দ্রুততা খুব কমই দেখা যায়।
ডাঃ জারা মনে করেন, এমপিরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে সংসদে যান—নিজেদের সুবিধা নির্ধারণের জন্য নয়। একজন শিক্ষক যখন মাসের পর মাস আন্দোলন করেও সাড়া পান না, আর এমপিরা কয়েক দিনের মধ্যে নিজেদের সুবিধা নির্ধারণ করে ফেলেন, তখন জনগণের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, এমপিদের নিজেদের বেতন-ভাতা নিজেরাই নির্ধারণ করা নীতিগতভাবে ভুল। পৃথিবীর কোনো পেশাতেই ব্যক্তি নিজে নিজের বেতন নির্ধারণ করেন না। এটি স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে। যেমন—ডাক্তারের বেতন নির্ধারণ করে হাসপাতাল বা সরকার, শিক্ষকের বেতন নির্ধারণ করে শিক্ষা বোর্ড, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণ করে পে কমিশন।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা এমপিদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করবে। এই কমিটি বিভিন্ন পেশার সঙ্গে তুলনা করে এমপিদের দায়িত্ব, সময়, ঝুঁকি ও প্রয়োজন বিবেচনায় একটি যৌক্তিক কাঠামো নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, এই কমিটি শুধু সুবিধা বাড়ানো বা কমানোর জন্য নয়; বরং কোনটি প্রয়োজনীয় এবং কোনটি অপ্রাসঙ্গিক—তা নির্ধারণ করবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এমপিদের যাতায়াত ও জনসংযোগের জন্য সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে, আবার কিছু বিলাসবহুল সুবিধা সময়ের প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়তে পারে।
ডাঃ জারা আরও প্রস্তাব করেন, এই কমিটিতে বিচারক, অর্থনীতিবিদ, প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিও থাকা উচিত—যেমন একজন শিক্ষক, একজন নার্স বা একজন ছোট ব্যবসায়ী। কারণ এমপিদের সুবিধা নির্ধারণ শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
সবশেষে তিনি বলেন, এমপিদের উচিত নিজেরাই এমন প্রস্তাব উত্থাপন করা। এতে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বার্থের সংঘাত থেকে বের হয়ে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার সূচনা হবে।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #jatio
neexra