“আদর্শের বিরুদ্ধে গেলে ওলামাদের দিল থেকে বের হয়ে যাবে”— হেফাজত আমির
চরমোনাই পীরকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানালেন বাবুনগরী, হাটহাজারীর বয়ানে দিলেন কঠোর বার্তা
“আদর্শের বিরুদ্ধে গেলে ওলামাদের দিল থেকে বের হয়ে যাবে”— হেফাজত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক: আজকের পয়গাম
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ–এর এক সভায় সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী চরমোনাই পীর সাহেবদের প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামি অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বয়ানে বাবুনগরী বলেন, বর্তমান সময়ে হেফাজতে ইসলাম আদর্শিক অবস্থানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, সংগঠন এখন এমন সাথীদের কাছেই থাকতে চায় যারা আকিদা ও আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি মাওলানা রেজাউল করিম ও ফয়জুল করিম–এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাদের সাম্প্রতিক ভূমিকার কারণে ওলামায়ে কেরামের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি চরমোনাই পীর সাহেবদ্বয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাবুনগরী তার বক্তব্যে মুসলিম উম্মাহকে সীরাতে মুস্তাকিমের ওপর অটল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে এমন কিছু গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে যারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করে এবং তাদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ধরনের চিন্তাধারাকে “বাতিল” আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি।”
তিনি আরও বলেন, “উম্মতে মুহাম্মদী ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, এর মধ্যে একটিমাত্র দল নাজাতপ্রাপ্ত হবে—যারা নবী ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসারী।”
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, এমন কিছু ব্যক্তি রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছেন যারা সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা স্বীকার করে না। এ সময় তিনি বলেন, “আমাদেরই কিছু মানুষের সহযোগিতায় তারা বড় জায়গায় পৌঁছেছে।”
হেফাজত আমির আরও বলেন, বাতিল চিন্তাধারা যখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তখন ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সতর্ক করা এবং সত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। অন্যথায় আলেম সমাজকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম ও আকাবিরদের পথে অটল থাকুন। আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে কেউই ওলামায়ে কেরামের সমর্থন পাবে না।”
সভা শেষে বক্তব্যটির সারসংক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সাহেবদের প্রতি প্রকাশ্য ধন্যবাদ এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তাকে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।