সকল সংবাদ 451 টি
জাতীয়
ফল প্রকাশে কড়া প্রস্তুতি ইসির, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের
ফল প্রকাশে কড়া প্রস্তুতি ইসির, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদেরনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ঘিরে কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, তিন স্তরের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। তবে এ ব্যবস্থাকে ঘিরে নির্বাচন বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের একটি অংশ ইসির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।ইসি সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল ঘোষণার জন্য নির্বাচন ভবনের খোলা চত্বরে বড় আকারের ডিজিটাল মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জন্য ৮৭টি আলাদা বুথ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো ফলাফল ব্যবস্থাপনা ইন্টারনেটবিহীন একটি ক্লোজড নেটওয়ার্কে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।ইন্টারনেট ছাড়াই ফলাফল আদান-প্রদানইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, এবার ফলাফল কোনোভাবেই হ্যাক হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে না। ইসির নিজস্ব সুরক্ষিত ভিপিএন নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ফলাফল আদান-প্রদান হবে।তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের স্বচ্ছতা, অডিটযোগ্যতা ও মানবিক ত্রুটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।নির্বাচন ভবনেই কেন্দ্রীয় ফল ঘোষণাইসি জানিয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করার পর তা ডেটা সেন্টারে পাঠানো হবে। কোনো আসনের মোট কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়ার পরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে মোট ফলাফল ও ভোটের হার আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হবে।ফল যাচাইয়ের তিন ধাপভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রের ফলাফল সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। সেখানে স্ক্যান কপি ও ডেটা ইনপুট মিলিয়ে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয়ভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।কেন্দ্রীয় ফল ঘোষণার টিমফলাফল ঘোষণার দায়িত্বে থাকবেন তিন সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় টিম। পুরো প্রক্রিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন ইসির সিনিয়র সচিব।ভোটের হার জানানো হবে ধাপে ধাপেভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোট পড়ার হার গণমাধ্যমকে জানানো হবে। ভোটগ্রহণ শেষে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হবে।নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনাএবার আগের ‘কপোত’ অ্যাপের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ইএমএস সফটওয়্যারের বিশেষ মডিউল ‘আরএমএস’ (রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ফলাফল দ্রুত প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকবে।স্বচ্ছতা নিয়ে আপত্তিসুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই কার্যক্রম নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে। তাঁর মতে, সরাসরি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ফল না নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ফল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত। তবে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইসির ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠছে, তা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রাজনীতি
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, জোটে অসন্তোষ
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, জোটে অসন্তোষআজকের পয়গাম ডেস্ক | লক্ষ্মীপুরতারিখ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, ধারাবাহিক গণসংযোগ ও ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, সংগঠনিক শক্তির কারণে তিনি এ আসনে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জাকির হোসেন পাটোয়ারী নির্বাচন ঘোষণার আগেই এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন। নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও সামাজিক উদ্যোগের ফলে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখে পরিণত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে এনসিপি নেতা মাহবুব আলমের নাম ঘোষণা করা হলে জোটের তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, মাহবুব আলম একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সে সময়ের কিছু ছবি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া তার বাবা আজিজুর রহমান ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক—এই বিষয়টিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় ইসলামী ধারা সমর্থনকারী অনেক ভোটার বিকল্প হিসেবে হাতপাখা প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। এতে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে।সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে প্রধান লড়াই বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
রাজনীতি
শাকিব খানের নামে ‘জামায়াতের প্রচারণা’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের শিকার হলেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও নিউজ কার্ডে দাবি করা হচ্ছে, তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, বিষয়টি পুরোপুরি অসত্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারসাজি।ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছেসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই কার্ডটিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। কার্ডের সঙ্গে যুক্ত লিংকে ক্লিক করলে দেখা যায়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ভাষণ দিচ্ছেন এবং তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন শাকিব খান। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও শিরোনামে একে ‘জামায়াতের ভাইরাল গান’-এ শাকিব খানের অংশগ্রহণ বলে প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে আরও কয়েকজন তারকার উপস্থিতি কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে।ফ্যাক্ট চেক ও বাস্তবতাভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। বাস্তবে শাকিব খানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে সাধারণ নেটিজেনদের অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে একে সত্য বলে মনে করছেন, যা অভিনেতার ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্যশাকিব খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও বা কার্ড সম্পর্কে অভিনেতা কিছুই জানতেন না। সূত্রটি আরও জানায়, আসন্ন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেননি শাকিব খান। তিনি বর্তমানে নিজের পেশাগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত।শুটিংয়ে ব্যস্ত শাকিব রাজনৈতিক মাঠ থেকে দূরে থাকা এই অভিনেতা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। জানা গেছে, ‘প্রিন্স’-এর কাজ শেষ করে তিনি দুই সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন এবং এরপরই নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করবেন।
রাজনীতি
ভোটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আশা ইসির
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল দ্রুততম সময়ে প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণের পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। একইসঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেওয়া নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত গণনাসংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় কাজের পরিধি বাড়লেও ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ইসি আনোয়ারুল। তিনি জানান, আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ও উন্নত ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারের ফলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও গণনা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, "দুর্গম বা বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকার কারণে সামান্য সময় লাগতে পারে, তবে অতীতের মতো ফলাফলের জন্য তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে না।"মাঠপর্যায়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তানির্বাচনী সহিংসতা রোধে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্ন উপস্থিতি নিশ্চিতে এবার কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন।নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসি আরও জানান: বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সাপেক্ষে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর মাঠপর্যায়ের তথ্য কেন্দ্রীয় সেলে পাঠানোর জন্য একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করবে। গুজব রোধ ও কড়াকড়িনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন কোনো অপপ্রচার বা গুজব ছড়াতে না পারে, সে জন্য একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।স্বচ্ছতার অঙ্গীকার রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, "৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নে এই নির্বাচন একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।"
রাজনীতি
চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোটের আহ্বান — মুফতী ফয়জুল করীম
চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোটের আহ্বান — মুফতী ফয়জুল করীমবরিশাল প্রতিনিধি | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বরিশালকে চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম।সোমবার বিকেল ৩টায় বরিশাল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“বরিশাল আজ চাঁদাবাজদের কবলে জর্জরিত। সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সে লক্ষ্যে সবাইকে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের জানমাল ও সম্মান রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন এবং কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু করে সদর রোড, বাজার রোড ও চকবাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদেশ
ভোটের আগে ৪ দিন মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ, লেনদেনে নতুন সীমা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেন রোধে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে টানা চার দিন অর্থাৎ ৯৬ ঘণ্টা এই সেবাগুলো সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।কখন থেকে কার্যকর হবে?বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।বিকাশ-রকেট-নগদে লেনদেনের নতুন নিয়মপ্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস সেবায় ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে (পি-টু-পি) টাকা পাঠানোর সুযোগ কমিয়ে আনা হয়েছে। সর্বোচ্চ সীমা: একজন গ্রাহক প্রতি বারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পাঠাতে পারবেন। লেনদেনের সংখ্যা: দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। দৈনিক মোট সীমা: সব মিলিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন করা যাবে না। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও আইবিএফটিশুধু মোবাইল ব্যাংকিং নয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। নির্দেশিত সময়ে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফাণ্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) সেবার মাধ্যমে এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যেসব সেবা চালু থাকবেসাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কিছু জরুরি সেবাকে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। কেনাকাটার পেমেন্ট (মার্চেন্ট পেমেন্ট) এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ বিভিন্ন পরিষেবা বিল পরিশোধের (ইউটিলিটি বিল) ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম ও সীমা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, বিল বা কেনাকাটার ক্ষেত্রে কোনো নতুন বাধা নেই।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় কালো টাকার ছড়াছড়ি ও ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা বন্ধ করতেই এই আগাম সতর্কতা। পাশাপাশি ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য দিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা করে।
সারাদেশ
দেশের বাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন, নতুন দাম কার্যকর
দেশের বাজারে আবারও বড় অংকের পতন হয়েছে স্বর্ণের দামে। সবশেষ গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।স্বর্ণের নতুন বাজারদরবাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায় বিক্রি হবে।রুপার দামেও পতনস্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সবশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।বাড়তি খরচ ও ভ্যাটবাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্রেতাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, স্বর্ণের উল্লিখিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। এছাড়া বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশও যোগ করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে।বাজার ওঠানামার খতিয়ানচলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১০ বার কমানো হয়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। অন্যদিকে, রুপার বাজারও ছিল অস্থিতিশীল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৭ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে।
রাজনীতি
জনপ্রত্যাশা পূরণে বরিশাল গড়ার প্রত্যয়ে জেন জি’র সঙ্গে মতবিনিময়
জনপ্রত্যাশা পূরণে বরিশাল গড়ার প্রত্যয়ে জেন জি’র সঙ্গে মতবিনিময়আজকের পয়গাম | বরিশালজনপ্রত্যাশা পূরণে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীম।শুক্রবার নগরীর একটি মিলনায়তনে “To build a Barisal that meets public expectations” শীর্ষক GEN Z Meetup অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের মতামত শোনেন।মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের নেতৃত্ব। তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার ভিত্তিতেই আগামীর বরিশাল গড়তে হবে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসমুক্ত বরিশাল গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণদের নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনায় গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টা যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, চলবে যেসব বাহন
নিষেধাজ্ঞার বাইরে যেসব বাহনডেস্ক নিউজ | আজকের পয়গামবরিশাল | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে যানবাহন চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ একটি সরকারি নির্দেশনা জারি করেছে।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ২৪ ঘণ্টা।এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।যেসব ক্ষেত্রে চলাচলের অনুমতি থাকবেসরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত কিছু যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। যেমন—পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যানবাহনসশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় যানজরুরি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পরিবহনকারী গাড়িনিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের যানবাহনসংবাদপত্র ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট পরিবহনবিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে বিমানবন্দর যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে যাতায়াতে বাধা দেওয়া হবে না।প্রার্থী, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধানির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাদের এজেন্টরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও নির্ধারিত স্টিকার ব্যবহার করে একটি করে ছোট যানবাহন চালাতে পারবেন।এছাড়া অনুমোদন সাপেক্ষে সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহনও নিষেধাজ্ঞামুক্ত থাকবে।সরকার জানিয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসক বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ কঠোর বা শিথিল করতে পারবেন।
রাজনীতি
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে বক্তব্য দেওয়া নারীকে নিয়ে বিভ্রান্তি
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে বক্তব্য দেওয়া নারীকে নিয়ে বিভ্রান্তিওসমান হাদির বোন পরিচয়ে নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন শবনম খাদিজা নামে এ নারী। ছবি: সংগৃহীতশরীফ ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন শবনম খাদিজা নামে এক নারী। এ সময় নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোটও চান তিনি। নিজেকে হাদির বোন পরিচয় দিলেও তার আসল পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়া ওই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন ।ওই নারী ভাষণ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। সেখানে তিনি এই নারীকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেন।ফেসবুক পোস্টে হাদির স্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি তার জীবদ্দশায় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাই দলগুলোকে নিজ স্বার্থে শহীদ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি। তবে সবাই তার আদর্শ ব্যবহার করলে কোন বাধা নেই বলেও জানান।
রাজনীতি
চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোট দিন — মুফতী ফয়জুল করীম
বরিশালে হাতপাখার গণমিছিলে জনতার ঢলবরিশাল প্রতিনিধি | আজকের পয়গামবরিশালকে চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম।আজ বিকেল ৩টায় বরিশাল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“বরিশাল আজ চাঁদাবাজদের কবলে জর্জরিত। সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্যেই সবাইকে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের জানমাল ও সম্মান রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন এবং কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু করে সদর রোড, বাজার রোড ও চকবাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে একটি শান্তিপূর্ণ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিনোদন
সাহিত্যে পদক না থাকায় সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দেওয়ার প্রস্তাব ডা. তুষারের
২০২৬ সালের একুশে পদক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলমান বির্তকের মধ্যে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. আব্দুন নূর তুষার। ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে 'সিরিয়াস' আবেদন জানিয়েছেন তিনি।ফেসবুক পোস্টের মূল বক্তব্যআজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে ডা. তুষার এই অদ্ভুত আবেদনটি করেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন:"সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দিতে বিশেষ আবেদন ও অনুরোধ করছি। এটা একটা সিরিয়াস পোস্ট। সে প্রথম ইংলিশ অক্ষরে বাংলা বই লিখেছিল বলে শুনেছি।"বিতর্কের নেপথ্যে কী?সম্প্রতি সরকার ২০২৬ সালের একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তবে এবারের তালিকায় 'ভাষা ও সাহিত্য' বিভাগে কাউকেই মনোনীত করা হয়নি। শিল্প-সাহিত্যের এই বড় শূন্যস্থান এবং পদক নিয়ে নানা সমালোচনার মাঝেই ডা. তুষার এমন মন্তব্য করলেন। নেটিজেনদের ধারণা, এটি সরাসরি কোনো দাবি নয়, বরং সাহিত্যের শূন্যতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি সূক্ষ্ম বিদ্রূপ বা 'স্যাটায়ার'।সালমান মুক্তাদিরের প্রতিক্রিয়াডা. তুষারের এই পোস্টের নিচে সালমান মুক্তাদির নিজেও মন্তব্য করেছেন। তিনি হাস্যরসাত্মকভাবে উত্তর দেন:"একুশে পদক লাগবে না, ভিসা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তুষার ভাই প্লিজ এডিট করেন।"পরে ডা. তুষার পোস্টটি এডিট করে তার ভিসা প্রাপ্তির জন্যও শুভকামনা জানান।নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াসামাজিক মাধ্যমে এই পোস্টটি নিয়ে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ডা. তুষারের রসবোধের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ সালমান মুক্তাদিরের 'ইংরেজি হরফে বাংলা লেখা'র বিষয়টি টেনে তাকে নিয়ে মজা করছেন, আবার অনেকে রাষ্ট্রীয় পদকের মানদণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।উল্লেখ্য, এবার ১০ জনের তালিকায় মরণোত্তর পদক পাচ্ছেন সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু এবং চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা।
সারাদেশ
বায়তুল মোকাররমে নিজের বিরুদ্ধেই ডাকা বিক্ষোভে উপস্থিত হলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকা এক বিক্ষোভ মিছিলে খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই উপস্থিত হয়েছেন। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই ঘটনা ঘটে।ঘটনার প্রেক্ষাপটহেফাজতে ইসলামের সাবেক মহাসচিব মরহুম আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল 'আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী স্মৃতি সংসদ'। বিক্ষোভকারীরা যখন তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে অবাক করে দেন।সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্যবিক্ষোভস্থলের সামনে তার অবস্থানের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ একে সাহসিকতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অভিহিত করছেন।ফেসবুকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাবিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হওয়ার কিছু সময় পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নিজের ভুলের দায় স্বীকার করে লিখেন:"আমার কথায় বা আচরণে যাঁরা মনঃকষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি।"রাজনৈতিক পরিস্থিতিঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থীর এমন পদক্ষেপকে অনেকে ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। মরহুম আল্লামা বাবুনগরীর অনুসারীদের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ দূর করতেই তিনি সরাসরি বিক্ষোভের মুখে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাদেশ
সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন চরমোনাই পীর
বিটিভিতে প্রচার হবে ইসলামী আন্দোলনের রেকর্ডকৃত ভাষণরাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেকর্ডকৃত ভাষণ সম্প্রচার করা হবে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শায়খ ফজলুল করীম মারুফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উক্ত ভাষণে চরমোনাই পীর মহান স্বাধীনতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বোধ-বিশ্বাসের প্রতিফলনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে।এছাড়া ভাষণে রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত পরিকল্পনা, রাষ্ট্র সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি এবং বিশেষ খাতভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি ও অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমিরে ইসলামী আন্দোলনের বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক বার্তাও থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
তুষারপাত উপেক্ষা করে জাপানে চলছে ভোটগ্রহণ: বড় জয়ের পথে সানায়ে তাকাইচি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬তীব্র শীত আর ভারী তুষারপাত উপেক্ষা করে জাপানে শুরু হয়েছে দেশটির সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জন্য এই নির্বাচনকে তার জনপ্রিয়তার ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।নির্বাচনের প্রেক্ষাপটগত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে এই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) নতুন করে গণম্যান্ডেট পাইয়ে দিতেই তার এই সাহসী পদক্ষেপ।ভোটের পরিসংখ্যান ও সমীকরণমোট আসন: পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসন।প্রার্থী সংখ্যা: ১ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।অগ্রিম ভোট: নির্বাচনের মূল তারিখের আগে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে তাদের ভোট প্রদান করেছেন।জরিপের পূর্বাভাস: জয়ের পথে এলডিপি জোটবিভিন্ন বুথফেরত জরিপ ও জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোট সঙ্গী জাপানিজ ইনোভেশন পার্টি বড় জয়ের পথে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই জোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। কর ছাড় এবং জ্বালানিতে ভর্তুকির মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতি তাকাইচিকে তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবনির্বাচনের দিনে জাপান সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে এবং উত্তরাঞ্চলে ভারী তুষারপাত শুরু হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।পরিবহন সংকট: তুষারপাতের কারণে অন্তত ৩৭টি ট্রেন লাইন এবং ৫৮টি ফেরি রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।ফ্লাইট বাতিল: বৈরী আবহাওয়ায় ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এর ফলে ভোটার উপস্থিতি বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম জাপানে শীতকালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ফলাফল কখন?ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। এরপরই শুরু হবে গণনা। আশা করা হচ্ছে, সোমবার ভোরের মধ্যেই প্রাথমিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানা যাবে। যদি এই নির্বাচনে তাকাইচি সফল হন, তবে তা জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
সারাদেশ
ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই, অনিয়ম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তাস্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,"নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আমাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী এটি একটি ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন হতে যাচ্ছে।"অনিয়ম রোধে কঠোর হুঁশিয়ারিনির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে উপদেষ্টা বলেন, কোথাও যদি কোনো ধরনের কারচুপির চেষ্টা করা হয়, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,"কোথাও কোনো অনিয়ম বা কারচুপির খবর পাওয়া মাত্রই আমরা কঠোর অ্যাকশন নেব। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরংপুর বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিটি স্থানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনের সততা ও পেশাদারিত্বই হবে এবারের নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি।মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামরেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলামমহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলীজেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানউল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সারাদেশ
বাগেরহাটে ৪০৯ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: কড়া নিরাপত্তায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। জেলার মোট ৫৪৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০৯টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।ভোটকেন্দ্রের শ্রেণিবিন্যাস ও নিরাপত্তানির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, জেলার কেন্দ্রগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ: ১৮৬টি কেন্দ্রঝুঁকিপূর্ণ: ২২৩টি কেন্দ্রসাধারণ: ১৩৮টি কেন্দ্রপ্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের মধ্যে ৩ জন থাকবেন সশস্ত্র। এছাড়া পুলিশের সশস্ত্র দলও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।সিসিটিভি ও আধুনিক পর্যবেক্ষণনির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাগেরহাটের সবকটি ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি স্থাপনের ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, যা একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী ও স্ট্রাইকিং ফোর্সনিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করতে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে থাকবে:বাংলাদেশ সেনাবাহিনীবাংলাদেশ নৌবাহিনীকোস্টগার্ডর্যাবরিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্যবাগেরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন,শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট উপহার দিতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।উল্লেখ্য, বাগেরহাটের ৪টি আসনে এবার বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনীতি
নারীর নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব বিকাশে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা চাইলেন জাইমা রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাজনৈতিক দলগুলোকেই প্রধান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দলের ভেতর নারীদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করবেন এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।রাজনৈতিক দলে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকার প্রস্তাব নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জাইমা রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব একটি কঠোর ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “কোনো নারী নেত্রী বা কর্মী যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাকালীন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হন, তবে দলকে অবশ্যই তার দায়ভার নিতে হবে এবং ভুক্তভোগীর পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে।”নেতৃত্বের ‘পাইপলাইন’ ও অভিভাবকত্ব পলিসি মেকিং বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি শক্তিশালী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, “ছাত্র নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ‘পাইপলাইন’ তৈরি করতে হবে। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না যায়, তবে যোগ্য নারী নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হবে না।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে পুরুষদের জন্য যতটা সহজে মেন্টরশিপ বা অভিভাবকত্ব পাওয়া যায়, নারীরা সেই সুযোগ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। উপযুক্ত সহায়তা ও নেটওয়ার্কিং ছাড়া নতুন নারী নেতৃত্ব বিকশিত হওয়া কঠিন। তাই নারীদের জন্য কার্যকর সংযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।অর্থনৈতিক বাধা ও উত্তরণ রাজনীতিতে নারীদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতাকে চিহ্নিত করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে অর্থনৈতিক বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বৈষম্য দূর করতে নারী নেত্রীদের জন্য দলের পক্ষ থেকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এতে তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাগুলো অনেকটাই কমে আসবে।”তরুণদের নিয়ে আগামীর রাষ্ট্রভাবনা জাইমা রহমান তার বক্তব্যে তরুণ সমাজের মেধা ও চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রথাগত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে তরুণদের মেধা কাজে লাগিয়ে একটি ভিন্নধর্মী ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়তে হবে। এজন্য প্রয়োজন সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত উদ্যোগ। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।