সকল সংবাদ 451 টি
রাজনীতি
নির্যাতিত নারীকে দেখতে নোয়াখালী যাচ্ছেন জামায়াত আমির
নির্যাতিত নারীকে দেখতে নোয়াখালী যাচ্ছেন জামায়াত আমিরনিজস্ব প্রতিবেদক । আজকের পয়গাম ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্যাতনের শিকার এক নারীকে দেখতে আজ হেলিকপ্টারযোগে নোয়াখালী যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে আমির ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং তাকে দেখতে যাওয়ার আশ্বাস দেন।এ সফরে তার সঙ্গে যাওয়ার কথা রয়েছে নাহিদ ইসলাম, আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তিনি ভুক্তভোগী নারীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “পুরো বাংলাদেশ আপনার পাশে আছে।”জেলা জামায়াতের নেতারা জানান, আমির নির্যাতিত নারীকে নিজের বোন হিসেবে উল্লেখ করে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।এদিকে নোয়াখালী-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, দ্বীপাঞ্চল হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।ঘটনাপ্রবাহস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১টার দিকে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় দুর্বৃত্তরা ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে। তারা তার স্বামীকে বেঁধে রেখে এনসিপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তাকে পাশবিক নির্যাতন করে।পরদিন বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চিকিৎসা চলছে।প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।➡️ সংশ্লিষ্টদের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজনীতি
নির্বাচনের দিন থেকে এ পর্যন্ত হামলায় আহত ১ হাজার নেতাকর্মী
নিজস্ব প্রতিবেদক:নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলার ঘটনায় প্রায় ১ হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধপূর্ণ এলাকায় একাধিক দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতরসহ অনেকে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন কয়েকটি কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের পর সহিংসতার ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।উল্লেখ্য, আহতদের সঠিক সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনীতি
নির্বাচনের দিন থেকে এ পর্যন্ত হামলায় ১ হাজার নেতাকর্মী আহত
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যায়।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলা, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এসব নেতাকর্মী আহত হন। অনেককে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই উত্তেজনা সহিংস রূপ নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তারা সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয়
সাইন্সল্যাব জামে মসজিদের ইমামকে অব্যাহতি: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগ
সাইন্সল্যাব জামে মসজিদের ইমামকে অব্যাহতি: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগনিজস্ব প্রতিবেদকপ্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী এক ইমামকে হঠাৎ অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ইমাম দাবি করেছেন, প্রায় এক যুগ ধরে নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কারণে তাকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।অভিযোগে জানা যায়, অব্যাহতির বিষয়ে কোনো পূর্ব আলোচনা, নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি ন্যূনতম সৌজন্যতাও দেখানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশে বাধাইমাম জানান, শুক্রবার মসজিদে গিয়ে নিজের নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে খাদেম তাকে জানান— কক্ষের চাবি সভাপতির নিয়ন্ত্রণে এবং তাকে রুমে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে ব্যথিত করে।তিনি অজু করে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন।পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জুমার নামাজ পরিচালনাছুটিতে থাকায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পেশ ইমাম জুমার নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে বিষয়টি নিয়ে সভাপতির সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি দীর্ঘ সময় মসজিদে অবস্থান করেন। তবে সভাপতি বা কমিটির কেউ এ বিষয়ে আলোচনা করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।পরে সভাপতি এসে কেবল দোয়া চান। অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলেননি। এতে তিনি নিজেকে অপরিচিত মুসল্লির মতো আচরণের শিকার হয়েছেন বলে মনে করেন।রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগঘটনার পেছনে “দলান্ধতা” কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই ইমাম। তার দাবি, মসজিদ কমিটির সভাপতি একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থক, এবং সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়।হোয়াটসঅ্যাপে অব্যাহতি পত্রতিনি জানান, জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়ার তথ্য জানার পরও কেবল হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে অব্যাহতি পত্র পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি জানতে সভাপতিকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিভুক্তভোগী ইমাম বলেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয় নয়; বরং আলেম সমাজের বিরুদ্ধে প্রণীত কথিত বানোয়াট নিয়মনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনীতি
জামায়াতের কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার কারণ: বিশ্লেষণে উঠে এল ১০ দিক
জামায়াতের কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার কারণ: বিশ্লেষণে উঠে এল ১০ দিকনিজস্ব প্রতিবেদকপ্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে না পারার পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সামাজিক কারণ রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী বাস্তবতা, ভোটের মনস্তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতা দলটির ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।নিচে আলোচিত হলো উল্লেখযোগ্য ১০টি কারণ—১️⃣ নতুন ভোটারদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশাপ্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটারকে সম্ভাব্য বড় সমর্থকভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে দেখা গেছে অধিকাংশ নতুন ভোটার পারিবারিক রাজনৈতিক আদর্শ থেকেই প্রভাবিত হয়েছেন। ফলে তারা প্রচলিত দলীয় ধারা থেকে বড় আকারে সরে আসেননি।২️⃣ ঐতিহাসিক ভোট বাস্তবতার সীমাবদ্ধতাঅতীত নির্বাচনে দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ১৯৯১ সালে ১৮টি আসন এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন। চতুর্থ পর্যায়ের দল থেকে হঠাৎ প্রথম সারিতে উঠে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণে কঠিন।৩️⃣ সৌজন্য আচরণকে ভোট সমর্থন মনে করাপ্রচারণায় জনসাধারণের হাসিমুখ, করমর্দন ও আশ্বাসকে প্রকৃত ভোট সমর্থন হিসেবে ধরে নেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের সমর্থন সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।৪️⃣ প্রতিপক্ষকে আক্রমণাত্মক প্রচারণাপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নেতিবাচক প্রচারণা সাধারণ ভোটারের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে—এমন ধারণাও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।৫️⃣ “পরিবর্তনের জোয়ার” ধারণার অতিরঞ্জনদেশের ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুধুমাত্র দুর্নাম বা ব্যর্থতা তুলে ধরলে ভোটারদের আনুগত্য পরিবর্তন হবে—এই ধারণা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।৬️⃣ ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ভেঙে যাওয়াইসলামী শক্তির ঐক্যের প্রত্যাশা তৈরি হলেও জোটের ভাঙন ও মতপার্থক্যের কারণে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একাংশ হতাশ হন।৭️⃣ একাত্তরের ভূমিকা বিষয়ে দ্ব্যর্থতামুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া এবং ঐতিহাসিক বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক জনমনে সংশয় তৈরি করেছে।৮️⃣ নীতিগত অবস্থানে অসামঞ্জস্যনির্বাচনের সময়সূচি, নির্বাচন পদ্ধতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক কৌশল বিষয়ে বারবার অবস্থান পরিবর্তন জনআস্থায় প্রভাব ফেলেছে।৯️⃣ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষকদের অতিরঞ্জনপ্রবাসী ও অনলাইন বিশ্লেষকদের অতিরিক্ত আশাবাদী মূল্যায়ন নেতাকর্মীদের মধ্যে বাস্তবতার চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।🔟 আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় সমর্থন সম্পর্কে ভুল ধারণারাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক মহল নিজেদের পক্ষে রয়েছে—এমন ধারণা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।ভোট বাস্তবতা বনাম রাজনৈতিক প্রত্যাশাবিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনী সাফল্য মূলত স্থানীয় সমীকরণ, সাংগঠনিক শক্তি, জোট রাজনীতি ও ভোটার আচরণের ওপর নির্ভরশীল। প্রচারণা বা জনসমাগম সবসময় ভোটে রূপান্তরিত হয় না।আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনী প্রেক্ষাপট এবং একাধিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ফলে অর্জিত আসন ও ভোটকে দলটির জন্য অগ্রগতির লক্ষণ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ও করণীয়কিছু আসনে ফল প্রকাশে বিলম্ব, ভোট ব্যবধান ও আসন ব্যবধানের পার্থক্য এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত ও আইনি উদ্যোগের পাশাপাশি জনমত গঠন জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।পরিশেষে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য বাস্তবভিত্তিক কৌশল, স্থির নীতি, ঐক্য এবং ভোটার মনস্তত্ত্ব বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রাজনীতি
গুলিভর্তি পিস্তল-দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মী গ্রেফতার
গুলিভর্তি পিস্তল-দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মী গ্রেফতারনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবারবগুড়ার নন্দীগ্রামে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের তেঁতুলিয়াগাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আবদুস সালাম (৩০), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও তেঁতুলিয়াগাড়ি গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে;আবু বক্কর (২৮), একই এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে;এবং পারভেজ মোশারফ (২৫), শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের রূপিহার গ্রামের আবু মুসার ছেলে।স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেনাবাহিনীর অভিযানসেনাবাহিনী সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেজর মেহেদী হাসান, ক্যাপ্টেন জিসান ও লেফটেন্যান্ট ফাতিনের নেতৃত্বে শাজাহানপুর ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা মঙ্গলবার বিকালে তেঁতুলিয়াগাড়ি গ্রামে অভিযান চালান।অভিযানকালে আবদুস সালামকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করলে তাকে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে একটি চায়নিজ পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবু বক্কর ও পারভেজ মোশারফকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলিসহ তিনজনকে নন্দীগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।আইনি ব্যবস্থানন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অস্ত্র আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজনীতি
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল অস্ত্রসহ আটক
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল অস্ত্রসহ আটকনিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মাদবরকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের যন্ত্রাংশসহ আটক করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার সদর আলী মাদবর কান্দি এলাকায় তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাজিরা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আশরাফ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।অভিযানে যা উদ্ধারযৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মজিবর রহমান মাদবরের বাড়িতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রুমা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে পিস্তলের কভার, পিস্তলের স্লাইড, অস্ত্র পরিষ্কারের ওয়েল ব্রাশসহ আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চাপাতি, ছুরিসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।রাজনৈতিক পরিচয়স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মজিবর রহমান মাদবর দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১২ সালে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন।প্রশাসনের বক্তব্যজাজিরা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আশরাফ আহমেদ বলেন, “অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন অংশ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দু’জনকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।”জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, “সাবেক চেয়ারম্যানকে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আটক নারীর বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের দাবি করা হয়েছে—বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
খেলা
‘প্রতিশোধ’ নিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলল পাকিস্তান
‘প্রতিশোধ’ নিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলল পাকিস্তানক্রীড়া ডেস্ক | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে আগের হারের প্রতিশোধ নিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩২ রানের জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে শীর্ষে উঠে গেছে তারা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ভারতকেও পেছনে ফেলেছে বাবর আজমের দল।প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ বলে ৭৩ রান করেন সাহিবজাদা ফারহান। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন সব বাউন্ডারি ও ছক্কার মার। শেষ দিকে অধিনায়ক বাবর আজম ও শাদাব খান গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র শুরুটা ভালো করলেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ। পাওয়ারপ্লে শেষে ফিল্ড ছড়িয়ে দিলে রান তুলতে হিমশিম খায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।শাদাব খান ও উসমান তারিক ছিলেন বল হাতে উজ্জ্বল। দুজন মিলে ৮ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে শিকার করেন ৪টি উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে টানা জয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে দলটি।
জাতীয়
ভোট উৎসবে শামিল হতে বাড়ি ফিরছেন ভোটাররা
ভোট উৎসবে শামিল হতে বাড়ি ফিরছেন ভোটাররাআনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকালত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোট উৎসবে শামিল হতে বাড়ি ফিরছেন হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ব্রিজের উভয় প্রান্ত, মইজ্জারটেক ও চাতরী চৌমুহনী এলাকায় দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।মোড়ে মোড়ে, স্টেশনে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা কোনো যানবাহন এলেই হুমড়ি খেয়ে উঠছেন। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ঝুলে গন্তব্যের পথে রওনা দিচ্ছেন। যানবাহনের সংকটের কারণে কেউ কেউ কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু হেঁটেই পার হচ্ছেন। কারও হাতে, কারও কাঁধে ব্যাগ—তবু মুখে ভোট দেওয়ার আনন্দের হাসি।যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের সুযোগ নিয়ে কয়েকগুণ ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। রেহেনা আক্তার নামে এক যাত্রী জানান, “ব্রিজ থেকে বাঁশখালী গুনাগুরি পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া সাধারণত ৮০-১০০ টাকা হলেও এখন ২০০-৩০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।”অন্যদিকে চালকেরা বলছেন, যানজট ও গাড়ি স্বল্পতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।সব কষ্ট-ভোগান্তির মাঝেও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। রাফসান নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নতুন ভোটার। এবারের মতো ভোটের আমেজ আগে দেখিনি। তরুণদের ভোটেই জনগণের সরকার নির্ধারিত হবে।”আব্দুল কাদের নামে আরেক ভোটার জানান, “নবম সংসদ নির্বাচনের পর এমন আগ্রহ দেখছি। এরপর আর কোনো নির্বাচনে বাড়ি যাইনি। এবার বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তাই ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি।”ভোটকে ঘিরে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বাড়িমুখো জনস্রোত নির্বাচন ঘিরে বাড়তি উৎসবের আবহ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজনীতি
জামায়াতের ভোট কোনদিকে—হাতপাখা নাকি ধানের শীষ?
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে শেষ মুহূর্তের হিসাবজামায়াতের ভোট কোনদিকে—হাতপাখা নাকি ধানের শীষ?নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | আজকের পয়গামপ্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শেষ হওয়ায় এখন চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত প্রার্থীরা। বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে সদর-৫ আসন। নগরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম কি বিজয়ের হাসি হাসবেন, নাকি নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার?জামায়াতের সমর্থন ঘিরে জটিল সমীকরণরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহ-সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ফয়জুল করীমকে সমর্থন দেওয়ায় নির্বাচনি সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস দেখা দেয়। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে না পারায় হাতপাখা শিবির পুরো সুবিধা নিতে পারেনি—এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলীয় প্রার্থী ত্যাগ স্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। ফলে ১১ দলীয় জোটের ভোটারদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত যদি জামায়াত ও জোটের ভোট একত্রে হাতপাখায় পড়ে, তাহলে ফলাফল বদলে যেতে পারে।বিএনপির ঘাঁটি রক্ষার লড়াইঅন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার শুরুতে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধে কিছুটা কোণঠাসা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নেতাকর্মীদের একমঞ্চে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তবে প্রচারণা নিয়ে অগোছালোভাবের অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই।সরোয়ার বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য ভোটব্যাংকে টানার কৌশল নিয়েছেন বলেও জানা গেছে, যা নিয়ে দলীয় তৃণমূলে কিছু অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে কৌশলে তা সামাল দিয়ে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।হাতপাখার আশাবাদহাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফয়জুল করীম দাবি করছেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন ছাড়াও আওয়ামী লীগের একটি অংশ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনও তিনি পাবেন। তার ভাষ্য, “মানুষ সৎ ও আদর্শিক রাজনীতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন যা বলে, তা-ই করে—এই বিশ্বাস থেকেই জনগণ হাতপাখায় ভোট দেবে।”জামায়াতের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই জামায়াত সমর্থন দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”এ বিষয়ে জামায়াত নেতা মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, পীর সাহেবের সম্মানে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে হাতপাখাকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাসদএ আসনে বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তীও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। মহানগরীর শ্রমজীবী মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য ভোটব্যাংকেও প্রভাব ফেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।শেষ কথাসব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসনে মূল লড়াই ধানের শীষ ও হাতপাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে জামায়াতের সমর্থন কোনদিকে কতটা কার্যকর হয়—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলেই। এখন পুরো নগরজুড়ে একটাই আলোচনা—শেষ হাসি কে হাসবেন?
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধডেস্ক রিপোর্ট | আজকের পয়গামত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার জন্য সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত (মোট ৭২ ঘণ্টা) সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।এছাড়া, একই প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয় যে, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজনীতি
ভোট চুরি হতে পারে, ফলাফল না নিয়ে ফিরবেন না : ডা. শফিকুর রহমান
ভোট চুরি হতে পারে, ফলাফল না নিয়ে ফিরবেন না : ডা. শফিকুর রহমানআজকের পয়গাম ডেস্কপ্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরও ভোট চুরি হতে পারে উল্লেখ করে ভোটের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটারদের কেন্দ্র না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ’ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে এবং জুলাই বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে আবরারসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট শুরু থেকেই সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে।তিনি আরও বলেন, সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশ বর্তমান অবস্থা থেকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণরা দয়া নয়, কাজ চায়; তারা দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চায়। সে লক্ষ্যেই তরুণদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।২০০৮ সালের পর দেশে গণরায়ের সঠিক প্রতিফলন হয়নি দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। গ্রামের ভোটাররা আগ্রহ নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আশা, গণরায়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটলে বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক ধারায় অগ্রসর হবে।নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে ন্যায়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা সবার কর্তব্য। এতে জনগণের আস্থা ও সম্মান অর্জিত হবে।
সারাদেশ
প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক জামায়াত নেতা
প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক জামায়াত নেতাযশোর প্রতিনিধি | আজকের পয়গাম১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪:২৫ মিনিটযশোরের শার্শা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে মধ্যরাতে আপত্তিকর অবস্থায় এক জামায়াত নেতাকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগআঁচড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সাব্বির হোসেন। তিনি বাগআঁচড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাব্বির হোসেন জামায়াত সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীনের ছেলে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই সময় সাব্বির হোসেন এক প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে কক্ষে ঢুকে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে এসে সাব্বির হোসেন ও ওই নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাউকে আটক না করে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন ও ওই নারীকে ছেড়ে দেয়। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।তবে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন দাবি করেছেন, তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন।এ বিষয়ে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী বলেন, “সাব্বির হোসেন জামায়াতের সক্রিয় নেতা নন, তিনি একজন কর্মী মাত্র। নির্বাচনের সময় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সাব্বির হোসেনকে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
জাতীয়
দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান ঢাবি উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সেই সংকট কেটে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে। তাই তিনি এখন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান।আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি*) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।উপাচার্য বলেন, ‘‘আমি মনে করছি, দায়িত্ব পালনের একটি ভালো পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি। তাই এখন আমি সরে দাঁড়াতে চাই।’’দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘‘২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে দেশের এক বিশেষ ক্রান্তিকালে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল ছিল, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। সেই কঠিন সময়ে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।’’তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সবার সহযোগিতায় আমরা সেই আপৎকালীন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সার্বিকভাবে একটি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।’’তবে পদত্যাগের ফলে যেন কোনো প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও তিনি সচেতন। উপাচার্য উল্লেখ করেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যদি মনে করেন যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে তাঁর আরও কিছুদিন থাকা প্রয়োজন, তবে ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ বা মসৃণ হস্তান্তরের স্বার্থে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি আছেন।
সারাদেশ
আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার (বর্তমান তারিখ*) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোট—এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি আজ দেশবাসীর উদ্দেশে কথা বলবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরবেন।প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন বিটিভির ফিড থেকে ভাষণটি একযোগে প্রচার করবে।
জাতীয়
যে কারণে জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান আলেমদের
যে কারণে জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান আলেমদেরআজকের পয়গাম | জাতীয় ডেস্ক📅 ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম ও মুফতিগণ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ ইসলামী আকীদা ও শরীয়াহভিত্তিক শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা মুসলমানদের ঈমানের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে “বহুত্ববাদ” ও “অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) শাসনব্যবস্থা” প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মূলত পশ্চিমা সেক্যুলার চিন্তাধারারই নতুন রূপ।ইনক্লুসিভ শব্দ নিয়ে আপত্তিআলেমগণ বলেন, ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটি ব্যবহার করে সঠিক ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের সীমারেখা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার সুযোগ সংকুচিত হয় এবং ইসলামী বিধানের বিরোধিতা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।তাদের মতে, এই পরিভাষা মুসলমানদের আকীদাগত দুর্বলতায় ঠেলে দেওয়ার একটি কৌশল, যা দীর্ঘমেয়াদে ঈমান ধ্বংসের কারণ হতে পারে।বহুত্ববাদ ও প্রগতিশীলতা প্রসঙ্গেবিবৃতিতে আরও বলা হয়, বহুত্ববাদ মূলত সেক্যুলারিজমেরই নতুন মোড়ক, যা ইসলামী শাসনব্যবস্থার পরিপন্থী। একইভাবে ‘প্রগতিশীলতা’ শব্দটি ব্যবহার করে নৈতিকতা বিবর্জিত ও ধর্মীয় মূল্যবোধহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আলেমরা।উল্লেখ্য, সম্প্রতি জামায়াত-শিবির নিজেদের ‘প্রগতিশীল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।ভোটের বিষয়ে আলেমদের আহ্বানআলেমগণ বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার ভোগ করবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে মুসলমানদের ক্ষেত্রে ঈমান ও আকীদা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ কারণে তারা জামায়াতকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ ও হারাম বলে অভিহিত করেন।তারা মুসলমানদের পশ্চিমা রাজনৈতিক পরিভাষার ফাঁদে পা না দিয়ে দীন ও ঈমান রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন—মুফতি আজিজুল ইসলাম কাসেমীআহ্বায়ক, বাংলাদেশ দারুল ইফতা ও গবেষণা পরিষদ, হাটহাজারী(বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম ও মুফতিগণের পক্ষে)
জাতীয়
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার):বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠককালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।এছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয় যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউর প্রায় ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দায়িত্ব পালন করবে।ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এ সময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
রাজনীতি
সাম্য ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই : ফয়জুল করীম
সাম্য ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই : ফয়জুল করীমবরিশাল-৫ (আসন)সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমিরে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।রোববার বিকেলে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ফয়জুল করীম বলেন, স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেই আদর্শ থেকে দেশকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিচার ব্যবস্থায়ও সাধারণ মানুষের আস্থা নেই।তিনি বলেন, “আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে অপরাধী অপরাধের শাস্তি পাবে, আর নিরপরাধ মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে। যে ব্যক্তি দোষী নয়, তাকে যেন আর হয়রানির শিকার হতে না হয়।”পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বারবার ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও জনগণের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয়নি। দুর্নীতি, মিথ্যা মামলা ও অবিচার সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।ফয়জুল করীম আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে একটি মিথ্যা মামলাও থাকতে দেব না। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে আমার অঙ্গীকার।”তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আমাকে একবার পরীক্ষা করুন। যদি আমি ব্যর্থ হই, তাহলে আর আপনাদের সামনে দাঁড়াব না।”জনসভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য উজ্জ্বল দাস হিন্দুদের হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।জনসভা শেষে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হয়।