রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ও নেপথ্য সমঝোতা: প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ
হাসিনা পালিয়েছে ২৪ সালের আগস্টে আর তারেক রহমান দেশে এসেছে ২৫ সালের ডিসেম্বরে। মাঝখানে অন্যান্য নেতাকর্মীরা দেশে আসলেও তারেক রহমান আসেনি।
তারেক রহমানের দেশে ফিরা নিয়ে যতবার প্রশ্ন করা হয়েছে ততবারই বলেছে- নিরাপত্তার কারণে আসতে পারছে না।
কিন্তু নিরাপত্তাটাই আসল কারণ ছিল না।
আরেকটা বড় কারণ ছিল নেগোসিয়েশন বা সমঝোতা।
তারেক রহমান দেশে আসার আগে সব রাজনৈতিক দল, পাশ্ববর্তী দেশ এবং বাহিনীদের সাথে নেগোসিয়েশন করে তবেই দেশে আসার প্ল্যান করেছিল।
তবে সবচেয়ে বড় নেগোসিয়েশনটা হয়েছিল দেশের বাহিনীগুলোর সাথে। তাছাড়া তারেক রহমানের দ্বন্দ্বটাও ছিল বাহিনীদের সাথেই।
দেশের বাহিনীরাই তাকে মুচলেকা দিয়ে দেশত্যাগ করিয়েছিল। সেজন্যে বাহিনীদের সাথে সমঝোতা না করে দেশে ফিরতে পারছিল না সে।
বাহিনীদের সাথে তারেক রহমানের সমঝোতা ছিল অনেকটা এরকম- বাহিনীর যেসকল উর্ধ্বতন কর্মকতারা গু*ম খুনের সাথে জড়িত তাদের মামলাগুলো আস্তে আস্তে সরিয়ে ফেলতে হবে।
তাদেরকে জেল বা ফাঁসি হওয়া থেকে বাঁচাতে হবে, বিডিআর হ*ত্যাকান্ডের পুনঃতদন্ত বন্ধ করতে হবে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার স্পেস দিতে হবে এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের জোরদার করতে হবে।
এই সমঝোতা গুলো মানলে বাহিনীরা তারেক রহমানের বিএনপিকে নির্বাচনে জিতিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বানাতে যত ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার সেগুলো করবে- এমনটাই কথা হয়েছিল।
বাহিনীরা শুধুমাত্র বিএনপিকে তাদের পছন্দ হিসাবে বেছে নিয়েছিল কারণ জামায়াত বা অন্য দলের সাথে তাদের পরিকল্পনা মিলছিল না। তাছাড়া জামায়াত বা অন্য দলগুলো ক্ষমতায় চলে আসলে বাহিনীদের এই স্বার্থগুলোও হাসিল হওয়া কঠিন হতো ।
তাই তারা বিএনপি তথা তারেক রহমানকে বেছে নিয়েছিল এবং তাকে নির্বাচনে জিতাতে প্রশাসনিক সব সাপোর্ট দিয়েছিল।
নেগোসিয়েশনের অংশ হিসাবে তারেক রহমানও নির্বাচনে জিতার পর তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে শুরু করে।
এজন্যেই হুট করে ডিজিএফআইয়ের চিফ বানানো হয় জেনারেল কায়সার চৌধুরীকে যার সাথে হাসিনার দহরমমহরম সম্পর্ক ছিল।
তারপর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকেও প্রসিকিউশন থেকে বাদ দেয়া হয় কারণ তাজুল ইসলাম জুলাই হত্যা মামলাগুলোর উকিল ছিলেন এবং বাহিনীদের গুম খুনের মামলাগুলো সামলাচ্ছিলেন।
তাজুল ইসলাম বলেছিলেন- কোটি টাকা দিলেও তার টিমকে কিনা যাবে না। তাজুল ইসলাম থাকলে বাহিনীদের উর্ধ্বতন কর্মকতারা ছাড়া পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তো তাই আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাজুল ইসলামকে সাথে সাথেই বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে।
এরপর ইউনূস সরকারের আমলে বিডিআর হ*ত্যাকান্ডের যে পুনঃতদন্ত চালু করা হয়েছিল সেটাও দুদিন আগে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকতাদের বাঁচিয়ে দেয়া যায়।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন এমডি বানানো হয়েছে রামনাথ পূজারীকে। শুধু তাই না গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসানো হয়েছে দলীয় লোকদেরকে যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী নেগোসিয়েশনটা সহজ হয়।
তারপর একে একে আওয়ামী লীগের নেতাদেরকেও জামিনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে, তাদের কার্যালয় খুলার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, রাজনীতিতে ফিরার স্পেস করে দেয়া হয়েছে।
আমরা হয়তো ভাবছি এই কাজগুলো হুট করেই হচ্ছে। কিন্তু না, এই নেগোসিয়েশন গুলো হয়েছিল নির্বাচনের আগেই।
তারেক রহমান যখন তিন বাহিনীর প্রধানের সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিল তখন সে বাহিনী প্রধানদের সাথে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেখেই বুঝা যাচ্ছিল বাহিনীদের কাছে কতটা অসহায় এবং ধরা সে।
যেই ঘটনাগুলো আমরা ইদানীং ঘটতে দেখছি, যে ঘটনাগুলো দেখে আমরা অবাক হচ্ছি সেগুলো মোটেও হুট করে ঘটছে না সেগুলোর নীলনকশা আঁকা হয়েছিল নির্বাচনের বহু আগেই
- Ibrahim Khalil Shawon