neexra

তথ্য ফাঁসের অভিযোগে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি আতঙ্ক

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 13 মে 2026, 10:25 অপরাহ্ন পঠিত: 42 বার
তথ্য ফাঁসের অভিযোগে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ফাঁসের অভিযোগে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন-এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগে তার নিজ কার্যালয়ের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন শাখা ও উপজেলায় বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ছয় কর্মচারীকে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় বদলি করা হয়। এর আগে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক কার্যালজুড়ে অস্থিরতা ও বদলি আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদের আগে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় কর্মদিবস বাকি থাকতেই এ ধরনের বদলিকে অনেকেই “আক্রোশমূলক বদলি” হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু অতিরিক্ত ভোটকক্ষ দেখিয়েই নয়, রিটার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিমসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত প্রায় ১৪ লাখ টাকারও কোনো সঠিক ব্যয় দেখানো হয়নি। বরং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে বরিশাল সদরসহ ১০ উপজেলায় নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে গত ৭ মে জাতীয় দৈনিক আমার দেশ⁠�-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বরিশালজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই তথ্য ফাঁসের অভিযোগে একের পর এক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার হালদার-কে সাধারণ শাখা থেকে সরিয়ে জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখায় বদলি করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুজি কান্ত হাজং-কে মানবসম্পদ ও উন্নয়ন শাখায় সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলির ক্ষেত্রেও জেলা প্রশাসকের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সহকারী কমিশনার হাসিবুল আজম-কে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনে বদলি করা হয়েছে। এডিসি জেনারেল সুফল চন্দ্র গোলদার-কে ওএসডি করে মানবসম্পদ শাখায় পদায়ন করা হয় এবং পরে তাকে রেল মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
এনডিসি আশ্রাফুল ইসলাম-কে পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট সাকলাইনকে এনডিসি পদ থেকে সরিয়ে অন্য শাখায় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেটদের কম গুরুত্বপূর্ণ শাখায় সরিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সর্বশেষ বদলির তালিকায় রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজুর রহমান খান, খাদিজা বেগম, আনিছুর রহমান, মহিউদ্দীন খান, সার্টিফিকেট সহকারী সুবেকা সাদেকীন এবং হিসাব সহকারী শফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #saradesh
neexra