বিয়েবাড়িতে চাঁদার দাবিতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, আহত ৩
বিয়েবাড়িতে চাঁদার দাবিতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, আহত ৩
আজকের পয়গাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন— ত্রিনাথ বিশ্বাস (৩২), বাবুলাল বিশ্বাস (৬০) ও বৃজন রানী (৪৫)। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তারা থানায় মামলা করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবুলাল বিশ্বাসের ছেলে সেম্বু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় পাশের এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মহন (২৫)-এর নেতৃত্বে আল আমিনের ছেলে আরমান (১৮), বারেক বকাউলের ছেলে আবির হোসেন (১৬) ও জিসান (১৮)সহ কয়েকজন সেখানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা দাবিকৃত চাঁদার পরিমাণ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে আয়োজকপক্ষ তিন হাজার টাকা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে হামলাকারীরা বরের পিতা বাবুলাল বিশ্বাস ও ভাই ত্রিনাথ বিশ্বাসকে মারধর করে। এ সময় টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর এবং আশপাশের বাড়িঘরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। অনুষ্ঠান চলাকালে আমরা ক্যারাম খেলছিলাম। হঠাৎ কিশোর গ্যাং এসে হামলা চালায়। আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিয়েবাড়িতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম মোল্লা জানান, ঘটনার সময় তিনি তারাবির নামাজে ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজি বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।