১০ বছর পর চালু হচ্ছে বরিশালের শিশু হাসপাতাল
১০ বছর পর চালু হচ্ছে বরিশালের শিশু হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ১০ বছর অচল থাকার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে বরিশালের একমাত্র শিশু হাসপাতাল। হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো এবং শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যার এই শিশু হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও এতদিন তা চালু করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি বরিশালের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান আকস্মিকভাবে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের ভবন, কক্ষ ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও বিদ্যুৎ সাবস্টেশন না থাকায় হাসপাতালটি চালু হয়নি বলে জানা যায়। এ সময় অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সংযোগ সচল করার বিষয়টিও যাচাই করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাম রোগীদের আইসোলেশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।
এ লক্ষ্যে গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা জোরদারে ফায়ার সার্ভিস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দ্রুত সেবা চালুর লক্ষ্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করেছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক খন্দকার আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন এবং সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর ই-ইলাহীসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খসরু জানান, দেশের অন্যান্য জেলায় শিশু হাসপাতাল চালু হলেও বরিশালেরটি দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। তিনি নতুন বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অতীতে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে হাসপাতালটির কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে তা সম্পন্ন হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, দ্রুত হাসপাতালটি চালু হলে বরিশালসহ পুরো বিভাগের শিশুদের চিকিৎসা সেবা অনেকটাই সহজলভ্য হবে এবং হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে।