neexra

ভুয়া টেন্ডারে কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ; তদন্তে নেমেছে প্রশাসন

Rasel Shikder, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: 04 মার্চ 2026, 08:17 পূর্বাহ্ন পঠিত: 81 বার
ভুয়া টেন্ডারে কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ; তদন্তে নেমেছে প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া টেন্ডারে কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ; তদন্তে নেমেছে প্রশাসন
আজকের পয়গাম ডেস্ক: পলাশবাড়ী-এ সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভুয়া টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণকৃত ৮৫৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া সমবায় সমিতি ও গোপন যোগসাজশে মনগড়া টেন্ডার দেখিয়ে এসব গাছ বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা হলেও মাত্র ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলকে প্রধান করে গঠিত কমিটি অভিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী দুই ব্যক্তির বক্তব্যও শোনা হয়।
তদন্তে দরপত্র সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতির তথ্য উঠে আসে। কাগজপত্রে পাঁচজন দরদাতার অংশগ্রহণ দেখানো হলেও তালিকার ৩ থেকে ৫ নম্বরে থাকা তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, তারা উক্ত দরপত্রে অংশ নেননি। তারা লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি তদন্ত কমিটিকে অবহিত করেন। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অনিয়মের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেওয়া এক প্রতিবাদী বিবৃতিতে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান, যাচাই-বাছাই এবং সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সকল কার্যক্রম নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক বিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় গঠিত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং যথাসময়ে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জনমনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #saradesh
neexra