বরিশাল বিভাগে বাড়ছে হামের প্রকোপ, তিন মাসে মৃত্যু ৭ শিশুর
বরিশাল বিভাগে বাড়ছে হামের প্রকোপ, তিন মাসে মৃত্যু ৭ শিশুর
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৮:২৪
বরিশাল বিভাগজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হাম। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ২০৬ শিশুর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভোলা জেলায় হামের টিকার সংকট থাকলেও বরিশালসহ বিভাগের অন্যান্য পাঁচ জেলায় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ গত তিন মাসে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ জন, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৩৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ রোধে তাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে আরও এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার বলেন, ‘সাত দিন আগে আমার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপর অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার শিশুকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।’
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, শিশুদের হামের টিকা সাধারণত ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে হামের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বেড সংকটও সমাধান করা হয়েছে। তিনি জানান, রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখা এবং টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সবাইকে সচেতন থাকারও পরামর্শ দেন।