ঘুষ না দেওয়ায় জমি মামলায় ‘ভুল’ রায়, এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ঘুষ না দেওয়ায় জমি মামলায় ‘ভুল’ রায়, এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | পয়গাম ডেস্ক
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বৈধ কাগজপত্র ও আদালতের রায় থাকার পরও ঘুষ না দেওয়ায় জমি সংক্রান্ত মামলায় বিপক্ষে রায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী তপন কুমার ও চেইনম্যান এনামুল হকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী জমির উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে। এসএ রেকর্ডে ত্রুটি থাকায় ১৯৮৪ সালে তারা আদালতে মামলা করেন এবং ১৯৮৫ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে সেই রায়ের ভিত্তিতে নামজারি ও নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করে আসছেন তারা।
সম্প্রতি প্রতিপক্ষ ওই নামজারি বাতিলের জন্য রৌমারী উপজেলা ভূমি অফিসে দুটি মিসকেস দায়ের করে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার শুনানির তারিখ জানার জন্য গত ১৮ মার্চ ভূমি অফিসে গেলে এসিল্যান্ড তাকে অফিসের প্রধান সহকারী ও চেইনম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে তারা রায়ের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে ‘খরচাপাতি’ হিসেবে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন।
জমির উদ্দিনের দাবি, শুনানির জন্য ৬ মে তারিখ নির্ধারণ করা হলেও গোপনে গত ২৬ এপ্রিলই তাদের বিপক্ষে রায় দেওয়া হয়। এমনকি রায়ের কপিতে তাদের হাজিরা দেখানো হয়েছে এবং বৈধ কাগজপত্রকে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদর। তিনি বলেন, “আমার সামনেই ভুক্তভোগীর কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। সরকারি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রৌমারী ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানি চলে আসছে। এতে সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চেইনম্যান এনামুল হক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রধান সহকারী তপন কুমার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, “নথিপত্র পর্যালোচনা করেই রায় দেওয়া হয়েছে। কেউ অসন্তুষ্ট হলে রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।”
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।