পিরোজপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় নারীসহ দুইজনের যাবজ্জীবন
মঠবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ: প্রধান আসামিসহ ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর | ১৪ মে, ২০২৬
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত প্রধান আসামি এবং তার নারী সহযোগীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। দীর্ঘ এক দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস. এম. মনিরুজ্জামান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয়
আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
১. মো. নজরুল ইসলাম সরদার (৩৫) পিতা- মৃত সুলতান সরদার।
২.মোসা. গোলাপী বেগম (৩০)পিতা- মৃত মোসলেম হাওলাদার।
উভয়ই মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ কবুতর খালি গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার প্রেক্ষাপট ও রায়
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা-মা দুজনেই মানসিক প্রতিবন্ধী এবং ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে অতি কষ্টে সংসার চালাতেন। ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট স্কুল ছুটির পর থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় খুঁজে পায়।
ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা শিশুটি জানায়, আসামি নজরুল ইসলাম তাকে চানাচুর ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মৎস্য ঘেরের পাহারা ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। সহযোগী আসামি গোলাপী বেগম শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নজরুলের কাছে পৌঁছে দিতে একাধিকবার সহায়তা করেছিল।
আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যবেক্ষণ
ঘটনার ১০ দিন পর ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট স্থানীয় দফাদার মহানন্দ বালা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১০ বছর তদন্ত ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয় আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নারী ও শিশু আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সরদার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন, যা সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"