১১ দিনের রিমান্ডে হাদির খুনিরা, নাশকতার ইঙ্গিত দেখছে ভারতের গোয়েন্দারা
১১ দিনের রিমান্ডে হাদির খুনিরা, নাশকতার ইঙ্গিত দেখছে ভারতের গোয়েন্দারা
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫
আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮
দিল্লির একটি বিশেষ আদালত দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ১১ দিনের জন্য জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-এর হেফাজতে পাঠিয়েছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয় এবং মঙ্গলবার বিশেষ এনআইএ আদালতে হাজির করা হয়।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং পরে বাংলাদেশে ফেরার সময় বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়।
গত ২৪ মার্চ পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রশান্ত শর্মা তাদের ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে এনআইএ জানায়, চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের আটক করে। এ সময় আদালত মামলার বিচারিক এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী আদালতে বলেন, অভিযুক্তদের অবৈধ অনুপ্রবেশের পেছনে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এ কারণে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অটোরিকশায় ভ্রমণকালে গুলিতে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এ হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এর পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এনআইএ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে—ভারতে অবস্থানকালে অভিযুক্তদের কারা আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছে এবং মেঘালয় থেকে বনগাঁ পর্যন্ত তাদের চলাচলের নেটওয়ার্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে।
গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো নাশকতার পরিকল্পনাও জড়িত থাকতে পারে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।