রাত ৮টার পর চলাচল নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটা ঘিরে বিতর্ক
রাত ৮টার পর চলাচল নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটা ঘিরে বিতর্ক
স্টাফ রিপোর্টার | আজকের পয়গাম
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত— এমন অভিযোগ নগরবাসীর মধ্যে বহুদিনের। দিনের বেলাতেও এখানে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের গাঁজা সেবন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। আর রাত নামলেই মাদকসেবন, ধূমপান ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে ওঠে।
টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় রাতে চলাফেরার স্বাভাবিক পরিবেশ থাকে না। গাঁজা, বিড়ি, প্রস্রাব ও মাদকের দুর্গন্ধে পরিবেশ বিরক্তিকর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময় টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার হয়েছে। জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সম্প্রতি রাত ৮টার পর রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলাফেরা ও সমাগম সীমিত করার নির্দেশনা জারি করেছে— যা অনেকের মতে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
গত রাতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চালানোর সময় দায়িত্বরত ডিসি মাসুদ একটি শিক্ষার্থীকে উদ্যানে অবস্থান করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আইন অনুযায়ী বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায় জবাবদিহিতা চাওয়া প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শিক্ষার্থীর উত্তর দেওয়ার ভঙ্গি ও আচরণে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। পরে পুলিশ তাকে লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ পুলিশি ব্যবহারের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন— সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের বেলায় উদ্যানে অবস্থান করার কারণ কী।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।