পরীক্ষা নিয়ে ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই: শিক্ষামন্ত্রী
পরীক্ষা নিয়ে ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই: শিক্ষামন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৪
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অযথা ভীত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রচলিত নকলের ধরণ পরিবর্তিত হয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। এ ধরনের নকল প্রতিরোধে শিগগিরই আইন প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এইচএসসি পরীক্ষা সব বোর্ডে একক প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এতে ভয়ের কিছু নেই বরং এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন যেকোনো কার্যক্রম সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। আগের মতো সরাসরি উপস্থিত না থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় ২,২৮৪টি কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যা দেশের মোট উচ্চশিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ। এদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পাঠ্যক্রম আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কারিকুলামে টেকনিক্যাল ও দক্ষতাভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। স্নাতক পর্যায়ে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নত আইসিটি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কর্মমুখী কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনদিনব্যাপী এই কর্মশালায় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে উঠবে।