এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৮ সরকারি কর্মকর্তা
এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৮ সরকারি কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের পয়গাম
সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। আগামী ১৫ মার্চ তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সফরের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (HVAC) সিস্টেম ট্রেনিং’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণটি পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।
তবে যে প্রকল্পের আওতায় এসব কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন, সেই প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ নয় বলে জানা গেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ইতোমধ্যে দুই দফা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এদিকে যে এইচভিএসি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন, পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সেই সিস্টেমের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক রয়েছেন, যার চাকরির মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। আরও যেসব কর্মকর্তা সফরে যাচ্ছেন, তাদের কেউই সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নথিপত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ আট কর্মকর্তার সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে থাকে এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সিস্টেম সরবরাহ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মান মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সরকার দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করে। শুরুতে প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। পরে কয়েক দফা সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে সর্বশেষ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। তবে এখনও প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় যেসব হাসপাতালে কাজ চলছে সেগুলো হলো—
ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।